১৮ অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
উন্নয়নের রূপকার
২৪ জানুয়ারি ২০১৫, শনিবার,
সৌদি আরবের নানামুখী উন্নয়ন ও পরিবর্তনের রূপকার ছিলেন বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ। সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা, চরমপন্থা দূরীকরণ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বনের জন্য তিনি সুনাম অর্জন করেন।
আলকায়েদার মনগড়া ব্যাখ্যাকে তিনি মোকাবেলা করেন, তেমনি তা প্রতিরোধে আইন প্রয়োগ করেন। সৌদি আরবের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সনাতনী ভাষা সংশোধনের জন্য তিনি পদক্ষেপ নেন এবং ৯০০ জন ইমামকে প্রশিক্ষণ দেন। তবে বাদশাহ আবদুল্লাহ কখনো ভোলেননি যে অষ্টাদশ শতকে তার পরিবার শেখ আবদুল ওয়াহাব নজ্জির অনুসারীদের সাথে মিত্রতা করে রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সৌদি রক্ষণশীল ধর্মীয় প্রশাসনে তিনি অনেক পরিবর্তন আনেন। ইসলামিক স্টেট (আইএস) যখন ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল এলাকা দখল করে নেয়, তখনো তিনি তাতে সায় দেননি। তিনি ধর্মীয় নেতাদের চরমপন্থীদের ব্যাপারে জনসমক্ষে কোনো মন্তব্য করতে নিষেধ করেন। তবে একপর্যায়ে আমেরিকার নেতৃত্বে আইএসবিরোধী যুদ্ধে অংশ নিতে সৌদি পাইলটদের প্রেরণ করেন।
আবদুল্লাহর শাসনামলে সৌদি আরব উপজাতীয় মেষপালক শ্রেণী থেকে উন্নত পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হয়। শালীন পোশাক ছাড়া নারীরা রাস্তায় বের হলে গ্রেফতার ও শাস্তির বিধান বহাল থাকে। তবে নারীদের কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার সুযোগও করে দেন তিনি। একজন নারী উপমন্ত্রী নিয়োগ দেন তিনি। এ ছাড়া নিজ নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণায় পুরুষের পাশাপাশি নারীদের সুযোগ করে দেন। সৌদি আরবে প্রথমবারের মতো পৌরসভা নির্বাচনের অনুমতি দেন বাদশা আবদুল্লাহ ২০০৫ সালে এবং দ্বিতীয় দফা নির্বাচন ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে ঘোষণা দেন। যদিও পরে তা মুলতবি হয়ে যায়। পৌরসভা নির্বাচনে নারীদের ভোট দেয়ারও অনুমতি দেন তিনি।
বাদশাহ আবদুল্লাহর অন্যতম একটি উদ্যোগ ছিল সৌদি আরবে আকর্ষণীয় একটি শিক্ষাবৃত্তির প্রচলন। এই বৃত্তির অধীনে লাখ লাখ সৌদি নারী-পুরুষ পশ্চিমা বিশ্বের নাম করা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার সুযোগ পান। রক্ষণশীল নিয়মনীতির বিরুদ্ধে এটি ছিল যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তের ফলে এসব নারী ও পুরুষ সৌদি সরকার, শিল্প ও শিক্ষা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হয়।
তবে বাদশাহ আবদুল্লাহর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ ১/১১ হামলা। এই হামলায় জড়িত ১৯ জনের ১৫ জনই ছিল সৌদি নাগরিক। এ ঘটনায় রাজপরিবার যথেষ্ট সমালোচনার সম্মুখীন হয়। তবে তিনি আলকায়েদাকে কঠোরহস্তে প্রতিহত করেন। ধারণা করা হচ্ছে, রাজতন্ত্র উচ্ছেদ করাও আলকায়েদার একটি লক্ষ্য ছিল।
তবে বাদশাহ আবদুল্লাহর সব কার্যক্রমে ছিল দারুণ সমন্বয়। তিনি দেশের স্বার্থে তেলের দাম বৃদ্ধি করেন। তবে ক্রেতারা যাতে নিরুৎসাহিত না হন সে দিকেও খেয়াল রাখতেন। সৌরশক্তি গবেষণায় শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করেন। তার আরেকটি উল্লেখযোগ্য কাজ হলোÑ ২০০৮ সালে নিজ উদ্যোগে বিশ্ব ধর্মীয় নেতাদের একটি সম্মেলন আয়োজন। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল ধর্মীয় সহিষ্ণুতা বৃদ্ধি করা।
আমেরিকার নেতৃত্বে ইরাক হামলাকে নিন্দা জানিয়ে ‘একটি বেআইনি কাজ’ বলে ঘোষণা করেন তিনি এবং মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি শান্তি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন যেটিতে ইসরাইলকে আরব বিশ্ব কর্তৃক স্বীকৃতি দানের সুপারিশ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সৌদি আরবের প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক হামলায় তার সম্মতি ছিল। তবে সব কিছুর পরেও বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিতেন। এমনকি মার্কিন তেল অনুসন্ধানী প্রতিষ্ঠান সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় তেলক্ষেত্র আবিষ্কার ও উন্নয়ন করলেও তিনি রাশিয়া, চীন ও ইউরোপিয়ান কোম্পানির সাথে চুক্তি প্রত্যাহার করেন। এ সময় তিনি বলেছিলেন, ‘বিশ্বের তেলের সুবিধার চেয়ে আমার কাছে সৌদি আরবের ভবিষ্যৎ অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’
- See more at: http://www.dailynayadiganta.com/details.php?nayadiganta=MTAzODY2&sec=1#sthash.b93NMA1N.dpuf