১৪ নভেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
অধ্যাপক গোলাম আযমের শারীরিক অবস্থার আবারো অবনতি ॥ সিসিইউতে স্থানান্তর
১০ অক্টোবর ২০১৪, শুক্রবার,
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর, ভাষা সৈনিক, ডাকসুর সাবেক জিএস অধ্যাপক গোলাম আযমের শারীরিক অবস্থাা আবারো অবনতি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর আগে গত মাসের শেষ দিকে তার স্ত্রী সৈয়দা আফিফা আযম এক বিবৃতিতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, দিন দিন তার ওজন কমছে, শুকিয়ে কঙ্কালসার হয়ে গেছেন।
জানা যায়, গতকাল বিকাল ৪টার কিছু আগে তাকে প্রিজন সেল থেকে সিসিইউশে নেয়া হয়। তিনি দীর্ঘদিন থেকে নানা ধরনের অসুখে ভুগছেন। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর শ্বাসকষ্ট হওয়ায় তাকে সিসিউি-এ চিকিৎসা দেয়া হয়। ফুসফুসে দেখা দেয় সংক্রমণ। তার নিউমোনিয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধ্যাপক গোলাম আযমের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকাল থেকে তাকে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে।
গতকাল রাত ৮টার দিকে তার ছেলে সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, আব্বা খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছেন। হাত পা নাড়াতে পারছেন না। তিনি কথা বলার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু গলা দিয়ে তার কোন স্বর বের হচ্ছিল না। রক্তচাপ অনেক কমে গেছে।
এদিকে গত ২৭ সেপ্টেম্বর প্রিজন সেলে অধ্যাপক গোলাম আযমের সাথে সাক্ষাত করে পরদিন তার স্ত্রী সৈয়দা আফিফা আযম এক বিবৃতিতে তার শারীরিক  অবস্থা আশংকাজনক উল্লেখ করে বলেছিলেন, এযাবতকালের সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আজ উনাকে দেখা গেল। শারীরিকভাবে এতই দুর্বল হয়ে পড়েছেন যে বিছানা থেকে দুইজনে ধরে উঠাতে হয়েছে। দৃষ্টিশক্তি অনেক ক্ষীণ হয়ে এসেছে, শ্রবণশক্তি অনেক হ্রাসপ্রাপ্ত এবং গলার আওয়াজ অত্যন্ত ক্ষীণ। কথা বলতে উনার কষ্ট হচ্ছিল এবং মুখের কাছে কান রেখে কথা শুনতে হচ্ছিল। হাত-পা-ঘাড়-মাথা এগুলো নাড়ানোর শক্তিও উনার নেই। দিন দিন ওজন কমছে, শুকিয়ে কঙ্কালসার হয়ে গেছেন। এ পর্যন্ত ছয় বার বাথরুমে পড়ে গেছেন। গত এক মাসের কম সময়ের মধ্যেই তিন বার পড়ে গেছেন। খাওয়া-দাওয়া প্রায় করতেই পারছেন না বলা চলে। উনার ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার উনার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হয়ে গিয়েছিল এবং ডাক্তার উনাকে উনার অবস্থা ÒCritical”  বলে জানিয়েছিলেন। অত্যন্ত দুঃখজনক ও আশ্চর্যের বিষয় হলো, উনার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে উনাকে জানানো হলেও উনার মারাত্মক এই শারীরিক অবনতির কথা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা জেল কর্তৃপক্ষ কেউই আমাদের অবহিত করেনি। আমরা আশঙ্কা করছি যে, এই ধরনের অবজ্ঞা, অযত্ন, অবহেলা, উপেক্ষা ও অমানবিক আচরণের ফলে যে কোন সময়ে মারাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি বলেন, বিশ্ববরেণ্য এই নেতার চিকিৎসা ও সার্বিক দেখা-শোনার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদাসীনতা ও অবহেলা অত্যন্ত বেদনাদায়ক, যা কোন সুস্থ বিবেকসম্পন্ন মানুষেরই কাম্য নয়। সার্বিক অবস্থার বিবেচনায় আমার স্বামী অধ্যাপক গোলাম আযম এর সুচিকিৎসা ও সেবা-শুশ্রুষা-যত্ন নিশ্চিত করার জন্য উনাকে সত্বর মুক্তি দিয়ে পরিবারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রাখার অনুমতি দেয়ার জন্য তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর অনুরোধ জানিয়ে বলেন, বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের মহান নেতার এমন অবহেলা ও অযত্নজনিত কারণে মারাত্মক কোন অবস্থার সৃষ্টি হলে এর দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের উপর বর্তাবে।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=160214