২২ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের মামলায় ডিফেন্স পক্ষের সাক্ষ্য শুরু ১৫ অক্টোবর
১ অক্টোবর ২০১৪, বুধবার,
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা আবদুস সুবহানের মামলায় আইও’র জেরা শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এই জেরা শেষ হয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবর এই মামলায় ডিফেন্স পক্ষের সাক্ষীর সাক্ষ্য শুরু হবে। দ্বিতীয় আইও নূর হোসেনকে  গতকাল জেরা  করেছেন  ডিফেন্স আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলাম।  ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই জেরা রেকর্ড করেন।  গতকাল ডিফেন্স পক্ষে ট্রাইব্যুনালে আরো উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট এস.এম শাহজাহান কবির,  এডভোকেট আবদুস সাত্তার পালোয়ান প্রমুখ। গতকাল ট্রাইব্যুনালে মাওলানা সুবহান সাহেবের ছেলে নেসার আহমেদ নান্নুও উপস্থিত ছিলেন।
জেরার উল্লেখযোগ্য অংশ
গতকাল জেরার জবাবে আইও বলেন, মোমরাজপুর থেকে নাজিরগঞ্জ কোন দিকে কত দূরে তা আমার কেস ডাইরীতে উল্লেখ নেই। কন্দর্পপুর ও সিন্দুরপুর মোমরাজপুর থেকে গুপিনপুরগামী রাস্তার কোন দিকে ছিল তা আমি নির্ণয় করিনি। ঐ গ্রাম দুটি বর্তমানে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ১৯৭১ সালে সাতবাড়িয়া গ্রামের অস্তিত্ব ছিল। আমার তদন্তকালে ফকিতপুর গ্রামের অস্তিত্ব পেয়েছি, গ্রামটির কিয়দাংশ পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঐ গ্রামে ৪০০-৫০০ লোক বসবাস করে কিনা তা আমি নির্ণয় করিনি।
১২/০৫/১৯৭১ তারিখের ঘটনায় আফসার পিতা মোহন ম-ল এর বক্তব্য আমি লিপিবদ্ধ করেছিলাম তবে তাকে সাক্ষী মান্য করিনি। ইহা সত্য নয় যে, ১২/০৫/১৯৭১ তারিখে সাতবাড়িয়ার কুড়িপাড়া, নিশ্চিন্তপুর, মোমরাজপুর, কন্দর্পপুরের যে ঘটনার বর্ণনা আমি দিয়েছি আমার দাখিলী দলিলপত্রে তার ভিন্ন বর্ণনা আছে।
ইহা সত্য নয় যে, ২০/০৫/১৯৭১ থেকে ভাড়ারা এলাকায় সংরক্ষিত ঘটনায় শহীদ আব্দুল জব্বার সিরাজ মিয়া, নূরুল ইসলাম, রুস্তম ও মজিদের পরিবারের কাউকে আমি জিজ্ঞাসাবাদ করিনি। শহীদ রুস্তমের ছেলের আলী রানা শেখ ও শহীদ সিরাজের স্ত্রী সালেহা বেগম। শহীদ নূরুল ইসলাম ও শহীদ মজিদ উভয়ের ভাতিজা আলী রানা। আমি সালেহা বেগমের বক্তব্য লিপিবদ্ধ করেছি। আলী রানা এই মামলায় সাক্ষী আছে।
ইহা সত্য যে, তদন্তকালে আমি পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তদন্ত সংস্থায় প্রেরিত শহীদদের তালিকা সংগ্রহ করেছি। উক্ত তালিকায় ২০/০৫/১৯৭১ ও ২১/০৫/১৯৭১ তারিখে সংঘটিত ঘটনায় শহীদদের তালিকা সংগ্রহ করেছি। ইহা সত্য যে, উক্ত তালিকায় ২০/০৫/১৯৭১ ও ২১/০৫/১৯৭১ তারিখে সংঘটিত ঘটনায় শহীদের নাম উল্লেখ করা নেই।
১৯৭১ সালে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে সংঘটিত ঘটনায় আতাইকুলা থানায় শহীদদের তালিকায় কলিম উদ্দিনের নাম নেই।
ইহা সত্য যে, তদন্তকালে আমি পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তদন্ত সংস্থায় প্রেরিত স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকা সংগ্রহ করেছি। ঐ তালিকায় আতাইকুলা থানার রাজাকার বা রাজাকার কমান্ডার হিসেবে আব্দুস সামাদের নাম নেই।
ইহা সত্য যে, বেতবাড়িয়া ও রামনাথপুরের ঘটনায় আমার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখিত শহীদ ভাদু, বয়না ও ওসমানের নাম শহীদদের তালিকায় নেই।
ইহা সত্য নয় যে, সাক্ষী সানোয়ারা খাতুন, মো. ইসরাইল, আশরাফ উদ্দিন মিয়া, আজিজুল সরদার, আলী রানা শেখ এবং খোরশেদ আলম ১৯৭১ সালে শিশু ছিল বা এ তথ্য গোপন করে ১৯৭১ সালে তারা সাবালক ছিল তা দেখিয়ে তাদেরকে সাক্ষী মান্য করেছি।
ইহা আমি তদন্তে পেয়েছি যে, আমার বর্ণিত ভিকটিম ওসমান মল্লিক এর ছেলের নাম আক্কাস মল্লিক। ইহা সত্য নয় যে, ওসমান মল্লিক ১৯৭১ সালে শহীদ হননি, পরবর্তীতে তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
ইহা সত্য যে, আমি সাতবাড়িয়াসহ বিভিন্ন ঘটনাস্থলের খসড়া মানচিত্র বিজ্ঞ চীফ প্রসিকিউটর বরাবরে দাখিল করেছি। ১৯৬৪ সালে পাবনা জেলা জামায়াতের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল মর্মে তথ্যটি আমি মাওলানা সুবহান সাহেবের কাছ থেকে সেফ হোমে জিজ্ঞাসাবাদের সময় পেয়েছি। ইহা সত্য নয় যে, ০৩/১১/২০০৭ তারিখের ভোরের কাগজ পত্রিকার কাটিং আমি এই মামলায় ১০/০৯/১৩ তারিখে সামিল করেছি। ১৯/০৪/১৩ তারিখে পাবনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে যে কাটিং করি সেই মিটিংয়ে যে নেতৃবৃন্দ ছিলেন তাদের নাম সিডিতে উল্লেখ করিনি।
প্রশ্নঃ এই মামলা সংক্রান্ত যে সমস্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত আপনি ঢাকায় বসে নিয়েছিলেন নাকি পাবনা গিয়ে নিয়েছিলেন?
উত্তরঃ আমি প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে পাবনা যাই এবং সেখানে গিয়ে তদন্ত করাকালীন সময়ে যেসকল স্থান পরিদর্শন করার প্রয়োজন মনে করেছি সেগুলো পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেই।
ইহা সত্য নয় যে, আমি তদন্তে পেয়েছিলাম যে, ১৯৭১ সালের ১১ মে মাওলানা আব্দুস সুবহানের এক মেয়ে মারা যান এবং পরদিন ১২মে সকাল ৯/১০ টার দিকে তার পাবনা শহরের বাড়ির আঙ্গীনায় তার ইমামতিতে তার মেয়ের জানাজা হয়। এবং ঐ দিনই তার গ্রামের বাড়ি গয়েশপুর তাকে দাফন করা হয়। ইহা সত্য নয় যে, আমি সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিভিন্ন প্রলোভন দেভিয়ে, মাওলানা আব্দুস সুবহান সাহেবের বিরুদ্ধে সাজানো মামলায় অসত্য প্রতিবেদন দাখিল করেছি বা তিনি ৭১ সালে কথিত কোন অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=159576