২২ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় আইও’র আংশিক জেরা ডিফেন্সের ॥ পুনরায় জেরা আজ
৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৪, মঙ্গলবার,
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় তদন্ত কর্মকর্তা নূর হোসেনের  জেরা তৃতীয় দিনের মতো গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হেেয়ছে। অবশ্য গত সপ্তাহে বুধবার এই সাক্ষীর আংশিক জেরা অনুষ্ঠিত হয়। আইও নূর হোসেনকে গত বুধবার ও গতকাল জেরা করেছেন ডিফেন্স আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই জেরা রেকর্ড করেন। গতকাল ডিফেন্স পক্ষে ট্রাইব্যুনালে আরো উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট এস.এম শাহজাহান কবির, এডভোকেট আবদুস সাত্তার পালোয়ান প্রমুখ। আইও’র জেরা পুনরায় আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে।
জেরার উল্লেখযোগ্য অংশ
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা ৭ নং সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইহা সত্য যে, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা এলাকায় অধ্যাপক আবু সাঈদ, এড. আমজাদ হোসেন ও তৎকালীন ছাত্রনেতা শাহাবুদ্দিন চুপ্পু আঞ্চলিক ভূমিকা পালন করেন। ইহা আমার জানা নেই যে, ঈশ্বরদী এলাকায় কাজী সদরুল হক সুদা মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কিনা। ঈশ্বরদী কয়লার ডিপো বধ্যভূমি থেকে লোকসেড পশ্চিম দিকে আনুমানিক ৫০০-৬০০ গজ দূরে।
‘মুক্তিযুদ্ধে পাবনা জেলা’ প্রবন্ধটি (প্রসিকিউশন তথ্যসূত্র ২ খ-, পৃ- ২৫৪) ড. এম আব্দুল আলীম সম্পাদিত ‘পাবনার ইতিহাস’ বই থেকে নেয়া। বাঘাইল শহীদ স্মৃতি ফলক ঈশ্বরদী (প্রসিকিউশন তথ্যসূত্র ভলিউম- ২ খ-, পৃ- ৩৩৪) একই বইয়ের অংশ। আমি যে ১৮টি বধ্যভূমির তালিকা দিয়েছি তা পাবনা জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত, তবে সেই তালিকাটি আমি এই মুহূর্তে দেখাতে পারছি না।
ইহা সত্য যে, ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল পাকিস্তান সৈন্যরা পাবনা শহর দখল করে এই মর্মে তদন্তে আমি পেয়েছি। তবে সন্ধ্যায় নয়, পাকিস্তান সৈন্যরা সেই দিনই পাবনা শহর কোন এক সময় দখল করে মর্মে তদন্তে পেয়েছি।
ঈশ্বরদী কয়লার ডিপোটি ঈশ্বরদী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে পশ্চিম দিকে আনুমানিক ৩০০ ফিট দূরে। মতলেব খানের বাড়ি মসজিদের পূর্বপাশে আনুমানিক ১০০ ফিটের মধ্যে। মসজিদটি পূর্ব টেংরি গ্রামের মধ্যে নয়, এটি ঈশ্বরদী বাজারের মধ্যে। এটা আমার সিডিতে উল্লেখ নেই যে, পূর্ব টেংরি এবং কদমতলা গ্রাম দুটি মসজিদ থেকে কোন দিকে এবং কত দূরে। শহীদ হাবিবুর রহমান এর বাড়ি কোথায় তা আমার কেস ডাইরীতে উল্লেখ নেই। ইহা সত্য নয় যে, শহীদ হাবিবুর রহমান কোথায় নিহত হয়েছিলেন তা আমি তদন্তে পাইনি। ১৯৭১ সালে যে স্থাপনায় রাজাকার অফিস/ খোদাবক্সের অফিস ছিল তার বর্তমান মালিক কে ছিলেন তা আমি তদন্তে সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারিনি। তবে চট্টগ্রামের জনৈক আখতারুজ্জামান এই স্থাপনার বর্তমান মালিক বলে জনশ্রুতি আছে মর্মে তদন্তে পেয়েছি।
৭১ সালের ১১ এপ্রিলের পর ঈশ্বরদী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আশ্রয় নিয়েছিলেন তাদের মধ্যে জীবিত আ,ত,ম শহীদুজ্জামান নাসীম, (পিডব্লিউ- ১) ছাড়া তদন্তে আর কারো খোঁজ পাইনি। তদন্তকালীন সময় আ,ত,ম শহিদুজ্জামান নাসিম (পিডব্লিউ- ১), তহুরুল মোল্লা (পিডব্লিউ- ২) এবং (পিডব্লিউ- ১১) ফজলুর রহমান ফান্টুদের নিকট থেকেই আমি ঘটনার বিবরণ পাই।
ঈশ্বরদীতে যাওয়ার পূর্বে আমি ঈশ্বরদীর কাউকে নোটিশ প্রদান করিনি। তদন্তকালীন সময়ে উল্লেখিত তিন জনের বাড়িতে আমি যাইনি। ঈশ্বরদীতে তদন্তকালীন সময়ে প্রথমে আমি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে যাই।
ঈশ্বরদী শহীদ স্মৃতি ফলকে যাদের নাম আছে তাদের মধ্যে শহীদ মোয়াজ্জেম হোসেন, শহীদ মতলেব আহমেদ খান ও শহীদ নাজমুল হক খান ছাড়া অন্য কোন শহীদদের আত্মীয়-স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আমি পাইনি। তদন্তকালে আমি ঈশ্বরদীতে কোন শহীদের বাড়িতে যাইনি। ইহা সত্য নয় যে, ঈশ্বরদী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, কয়লার ডিপোর ঘটনার যে প্রতিবেদন দিয়েছি তা অসত্য বা এই ঘটনা সম্পর্কে আমার দাখিলী দলিল পত্রে ভিন্ন বর্ণনা আছে।
যুক্তিতলা গ্রামে শুধু শহীদ জয়েন উদ্দিনের বাড়িতে গিয়েছি। এটা আমি তদন্তে পেয়েছি যে, জয়েন উদ্দিন সাহেবের এক ছেলে আবুল কালাম পরবর্তীকালে ঐ এলাকার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। আবুল কালামকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি, তবে তিনি বক্তব্য দিতে রাজি হননি। উনার পরিবারের আর কাউকে আমি জিজ্ঞাসাবাদ করিনি। ইহা সত্য নয় যে, জয়েন উদ্দিনের বাড়ি ছাড়া অন্য কোথাও যাইনি। আমি যুক্তিতলা প্রাইমারী স্কুল ও যুক্তিতলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে গিয়েছি। যুক্তিতলায় যে তিন জনের বক্তব্য লিপিবদ্ধ করেছি তারা ছাড়াও মোঃ মহসিন, শাহিদুল হক আনজাম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলাম। এদের মধ্যে আনজাম শহীদ পরিবারের সদস্য। যুক্তিতলায় যাদের বক্তব্য আমি লিপিবদ্ধ করেছি তাদের কাউকে পূর্বে নোটিশ দেইনি। যাদের বক্তব্য লিপিবদ্ধ করেছি তাদের কাউকে পূর্বে নোটিশ দেইনি। যাদের বক্তব্য লিপিবদ্ধ করেছি তারা নিজেরাই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিল।
আমি যে সমস্ত ঘটনার অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছি সেই সমস্ত ঘটনার বিষয়ে কমপ্লেইন্ট রেজিস্টার ক্রমিক নং ১৫/০৪/১২ তারিখে তা উল্লেখ নাই এবং থাকার কথা নয়।
ইহা সত্য যে, কোন ঘটনাস্থলে যাবার আগে আমি সেখানকার কোন ব্যক্তি বা সাক্ষীকে কোন নোটিশ দিয়ে যাইনি। অরণখোলা গ্রামে সংঘটিত ঘটনায় মোট ৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি, তাদের মধ্যে সৈয়দ গোলাম রেজা, আমিনুল ইসলাম জোয়ার্দার এবং রফিজ উদ্দিন মন্ডলের বক্তব্য লিপিবদ্ধ করিনি। রফিজ উদ্দিন ম-ল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য।
শাহপুর গ্রামটি উক্তর দক্ষিণে কতটুকু বলতে পারবো না। শাহপুর গ্রামটি সংঘটিত ঘটনার মোট ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি এবং তাদের বক্তব্য লিপিবদ্ধ করেছি। তদন্তকালে শাহপুরের ঘটনায় উল্লেখিত ৭ জন শহীদের মধ্যে ২ জন যথাক্রমে চাঁদ আলী প্রামাণিক ও রজব আলী বিশ্বাসের বাড়িতে গিয়েছি। চাঁদ আলী প্রামাণিকের বাড়িতে শফিকুল ইসলাম ও রহমান সরদারকে সাক্ষী মান্য করেছিলাম। এটা আমার জানা নেই যে, ঐ গ্রামে ১৯৭১ সালে যাদের বয়স ২০ বছরের অধিক ছিল তাদের মধ্যে ৫০ জনের অধিক বর্তমানে বেঁচে আছে কিনা।
তদন্তকালে দোগাছি এলাকায় যে ৭ জন শহীদের নাম উল্লেখ করেছি তাদের মধ্যে গিরিপদ সরকার ছাড়া অন্য সকলের বাড়িতেই গিয়েছি। গিরিপদের বাড়ি ছিল পাবনা সদরে। হরিপদ সাহা ও রেণু সাহার বাড়িতে গিয়ে মমতাজ উদ্দিন মন্টু ও রতনকে পেয়েছি।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=159460