৭ জুলাই ২০২০, মঙ্গলবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় আইও’কে ডিফেন্স পক্ষের পুনরায় জেরা আজ
২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪, সোমবার,
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় তদন্তকর্মকর্তা নূর হোসেনের জেরা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার ডিফেন্স পক্ষের জেরার দিন ধার্য করা ছিল। অবশ্য গত সপ্তাহে বুধবার এই সাক্ষীর আংশিক জেরা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আইও নূর হোসেনকে বুধবার জেরা করেছেন ডিফেন্স আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই জেরা রেকর্ড করেন। গতকাল ডিফেন্স পক্ষে ট্রাইব্যুনালে আরো উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট এস.এম শাহজাহান কবির, এডভোকেট আবদুস সাত্তার পালোয়ান প্রমুখ। আইও’র জেরা পুনরায় আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হবে।
গতকালের জেরার
উল্লেখযোগ্য অংশ
প্রশ্ন: এই মামলার কমপ্লেইন রেজিস্ট্রারে তথ্য সংগ্রহকারী হিসাবে মতিউর রহমানের নাম উল্লেখ আছে কি?
উত্তর: হ্যাঁ,  ইহা সত্য।
প্রশ্ন: মতিউর রহমান এর কাছে কোন লিখিত অভিযোগ ছিল না।
উত্তর: হ্যাঁ, ইহা সত্য।  তবে ইহা সত্য নয় যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থার স্মারক নং ৩৯৬ তারিখ ১৫/০৪/২০১২ এর নির্দেশ প্রাপ্তির পর কমপ্লেইন রেজিস্ট্রারে তথ্য অন্তর্ভুক্ত হয়।
ইহা সত্য নয় যে, ২৮/০১/২০১৩ তারিখ হতে ১৯/০৪/২০১৩ তারিখ পর্যন্ত আমি এই মামলার তদন্ত সংক্রান্ত কাজ করিনি। ইহা সত্য যে, আমি ১৮/০২/২০১৩ তারিখে চীফ প্রসিকিউটর বরাবর তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।
জবানবন্দী বর্ণিত দুটি জব্দ তালিকা ছাড়াও ১০/০৯/১৩ তারিখে আমি দুইটি বই জব্দ করেছিলাম। যা আমি এই মামলায় ব্যবহার করিনি। ইহা সত্য নয় যে, আমি এই মামলা তদন্তকালীন সময়ে ড. এম আব্দুল আলিম সম্পাদিত ‘পাবনার ইতিহাস’ লিখিত বইটি জব্দ করেছিলাম। মোঃ জহুরুল ইসলাম বিশু কর্তৃক লিখিত ‘পাবনা জেলার মুক্তিযুদ্ধের কথা’ বইটি আমি জব্দ করেছিলাম। মোঃ আবুল কালাম আজাদ কর্তৃক লিখিত ‘মুক্তিযুদ্ধের কিছু কথা’ বইটি আমি জব্দ করিনি। ঈশ্বর চন্দ্র গুপ্তের লেখা ‘পাবনার বিবরণ’ প্রবন্ধটি (তথ্য সূত্র দ্বিতীয় খ- পৃ- ১৭৪) ড. আব্দুল আলিম সম্পাদিত ‘পাবনার ইতিহাস’ বইয়ের অংশ।
মোঃ আবুল কালাম আজাদ কর্তৃক লিখিত মুক্তিযুদ্ধের কিছু কথা বইটি (তথ্যসূত্র দ্বিতীয় খ-, পৃ- ১৮২) দাখিলী অংশটুকু আমি পূর্বে উল্লেখিত পাবনার ইতিহাস নামক গ্রন্থ থেকে ২৬/০৪/২০১৩ তারিখে সংগ্রহ করেছি। কুচিয়াপাড়া (কুচিয়া-মারা) ও শাখারী পাড়া আতাইকুলা থানার আতাইকুলা ইউনিয়নে অবস্থিত। উক্ত দুটি গ্রামে আমি ০৭/০৭/১৩ তারিখে গিয়েছিলাম।
ইহা সত্য নয় যে, ‘গণতদন্ত কমিশনের দ্বিতীয় রিপোর্ট’ ও ০৩/১১/২০০৭ তারিখের ভোরের কাগজের সংশ্লিষ্ট অংশের বস্তুনিষ্ঠতা আমি যাচাই না করেই দাখিল করেছি।
প্রশ্নঃ কুচিয়া পাড়ার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল গণি (কালাচাঁদ পাড়া, পাবনা) জানান ১৭ এপ্রিল দুপুরে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা কুচিয়াপাড়া ও শাখারী পাড়ায় মাওলানা আব্দুস সুবহান পাকিস্তান আর্মিদের সংগে নিয়ে অপারেশন চালান (প্রসিকিউশন ডকুমেন্ট, সংশ্লিষ্ট পৃ- ৭৬) এই তথ্যটি আপনি কিভাবে যাচাই করেছেন?
উত্তরঃ কুচিয়ামারা রাধাগোবিন্দ মন্দিরে হাজির হয়ে উক্ত এলাকার আব্দুস সামাদ শামছু, শশঙ্ক সাহা এদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আমি এই তথ্যটি যাচাই করেছি।
আব্দুস সামাদ, শামসু, শশঙ্ক সাহা এই তিন জনকে সাক্ষী হিসেবে উপযুক্ত মনে না করায় তাদের সাক্ষী হিসেবে মান্য করিনি।
আতাইকুলা থানা এলাকাটি ১৯৭১ সালে পাবনা সদর থানার অন্তর্গত ছিল। আতাইকুলা থানা থেকে ঈশ্বরদী বাজারের দূরত্ব আনুমানিক ২০-২৫ কিঃমিঃ। পাবনা শহর থেকে ঈশ্বরদী বাজারের দূরত্ব আনুমানিক ২০ কিঃ মিঃ। পাবনা শহর থেকে কুচিয়াপাড়া পূর্ব-দক্ষিণ দিকে আনুমানিক ৫ কিঃমিঃ দূরে।
ইহা সত্য নয় যে, ১৮/০২/২০১৩ তারিখে বিজ্ঞ চীফ প্রসিকিউটর বরাবরে মামলা তদন্তের যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করেছিলেন সেখানে কুচিয়ামারা ও শাখারিপাড়াতে ১৭/০৪/৭১ তারিখে মাওলানা আব্দুস সুবহান সাহেব পাকিস্তান আর্মিদের সঙ্গে অপারেশনে অংশগ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ আছে। আমি এই মামলায় উল্লেখিত অগ্রগতি প্রতিবেদন ছাড়াও বিজ্ঞ চীফ প্রসিকিউটর বরাবর আরো ৪টি অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করেছি। উল্লেখিত ৪টি প্রতিবেদনে কুচিয়ামারা ও শাখারীপাড়ায় মাওলানা আব্দুস সুবহান সাহেব পাকিস্তান আর্মিদের সঙ্গে অপারেশনে অংশ গ্রহণ করেছিল মর্মে কোন বর্ণনা নাই।
ইহা সত্য যে, নূরপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র বধ্যভূমি এবং লোকোসেডের বামপাশের বধ্যভূমি (ঈশ্বরদী) ছাড়া অন্য কোন বধ্যভূমির কথা আমার বর্ণিত ৫টি তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন উল্লেখ করিনি। ১৮/০২/২০১৩ তারিখে প্রথম এবং সর্বশেষ ১৭/০৭/১৩ তারিখে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন বিজ্ঞ চীফ প্রসিকিউটর বরাবর দাখিল করেছি। গণতদন্ত কমিশনের দ্বিতীয় রিপোর্টের ফটোকপিসহ প্রদর্শনী ৩, ৪, ৫, ৮, ৯, ১৩, ১৫ ও ১৭ সমূহ আমি ১০/০৯/১৩ তারিখে সত্যায়িত করেছি।
মাওলানা আব্দুস সুবহান সাহেব ১৩/০৪/৭১ তারিখে পাবনা জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর ছিলেন এই তথ্যটি আমি ০৩/১১/২০০৭ তারিখে দৈনিক ভোরের কাগজে পেয়েছি। মাওলানা আব্দুস সুবহান সাহেব ১৩/০৪/৭১ তারিখে পাবনা জেলা শান্তি কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন এই তথ্যটি আমার কেস ডাইরিতে উল্লেখ নেই।
মাওলানা আব্দুস সুবহান সাহেবের জন্ম ১৯২৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তা তদন্তে পেয়েছি। (নিজে বলেন) পাবনা সদর আসনের নির্বাচনে মাওলানা আব্দুস সুবহান সাহেবের পক্ষের একটি প্রচারপত্র (প্রসিকিউশন তথ্য সূত্র ভলিউম- ২ এ সংযুক্ত) থেকে তার উল্লেখিত জন্ম তারিখ পেয়েছি।
ইহা সত্য নয় যে, মাওলানা আব্দুস সুবহান সাহেবের পূর্ব পুরুষদের আদিবাস হরিরামপুরে ছিল।
ইহা সত্য যে, মানিকহাটি ইউনিয়নের তৈলকুন্ডি গ্রামে মাওলানা আব্দুস সুবহান সাহেবের জন্ম হয়। (নিজে বলেন) এটি তার পূর্ব পুরুষদের আদি নিবাস। ইহা আমার জানা নাই যে, ১৯৫৮ সালে মাওলানা আব্দুস সুবহান সাহেব পাবনা সদরের গয়েশপুর ইউনিয়নের প্রথমে মেম্বার ও পরে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন কিনা।
মাওলানা আব্দুস সুবহান সাহেবের ছেলে-মেয়ে ১১ জন, তবে তারা সকলেই জীবিত কিনা বলতে পারবো না। মাওলানা আব্দুস সুবহান সাহেবের মোট ছেলে-মেয়ে ১৪ ছিল কিনা বা এদের ৩ জন শৈশবে মারা গিয়েছিল কিনা এ বিষয়ে আমি তদন্ত করিনি।
১৯৭১ সালে মে মাসে প্রথম সপ্তাহে পাবনা শান্তি কমিটি গঠনের সময় উপস্থিত কোন লোককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাওয়া যায়নি। তবে যারা এই কমিটি গঠন সম্পর্কে শুনেছে তাদেরকে আমি জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। ১৯৭১ সালে পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যারা চাকুরী করতেন তাদের তালিকা সংগ্রহ করিনি বা তাদের কেউ বেঁচে আছেন কিনা তা তদন্ত করিনি।
১৯৭১ সালে পাবনা জেলায় রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী কবে গঠিত হয় তা সঠিকভাবে জানতে পারিনি, তবে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পিস কমিটি গঠিত হওয়ার পরপরই রাজাকার বাহিনী গঠিত হয়। ১৯৭১ সালে পাবনা জেলা রাজাকার বাহিনীর প্রধান ছিলেন মোঃ গোলাম মোস্তফা তা আমি তদন্তকালে জেলা প্রশাসকের রিপোর্ট থেকে প্রাপ্ত হয়েছি।
মুজাহিদ বাহিনী একটি বিধিবদ্ধ বাহিনী ছিল কিনা তা আমি বলতে পারবো না। পাবনা জেলা অথবা ঈশ্বরদী থানা মুজাহিদ বাহিনীর প্রধান কারা ছিল তা আমি বলতে পারবো না। পাবনা জেলা বা ঈশ্বরদীর মুজাহিদ বাহিনীর কর্মতৎপরতা সম্পর্কে আমি কোন রিপোর্ট সংগ্রহ করিনি।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে, সদর, আটঘরিয়া ও ঈশ্বরদী একটি প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনী এলাকা ছিল। ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া আসনের এমপি এড. আমিন উদ্দিন পাকসেনা কর্তৃক নিহত হন। ২৬ মার্চ তিনি নিহত হয়েছিলেন কিনা বলতে পারবো না। তবে পাকসেনারা যখন ১৯৭১ সালে প্রথম পাবনায় আসে তখনই তাকে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে পেয়েছি। ইহা সত্য যে, পাবনা আটঘরিয়া ও ঈশ্বরদী এলাকা থেকে নির্বাচিত জাতীয় এমএনএ আমজাদ হোসেন, ৭১ সালে ৬ এপ্রিল হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তিকাল করেন।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=159376