২৩ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
লন্ডনে ফ্রি মাওলানা সাঈদী ফেডারেশন ইউকের সাংবাদিক সম্মেলন: অবিলম্বে আল্লামা সাঈদীকে মুক্তি দিতে হবে
২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪, শনিবার,
বিশ্বখ্যাত আলেমে দ্বীন ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আমৃত্যু কারাদন্ডাদেশ বাতিল করে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে শুভবুদ্ধির পরিচয় দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ফ্রী মাওলানা সাঈদী ফেডারেশন ইউকে। অন্যথায় সাঈদী ভক্তরা রাস্তায় নেমে এলে  তাঁবেদার এ সরকার পালানোর কোন পথ খুঁজে পাবে না।
গত বুধবার লন্ডনে ফ্রী মাওলানা সাঈদী ফেডারেশন ইউকের পক্ষ থেকে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বলা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সেক্রেটারি আখতার হোসেন কাওছার। সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিগত ২০০৯ সালে আল্লামা সাঈদীকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার কথিত মামলায় পুলিশ গ্রেফতার করে। তখন আমরা লন্ডন প্রবাসীরা আল্লামা সাঈদীর মুক্তির জন্য ‘ফ্রী মাওলানা সাঈদী ফেডারেশন ইউকে’ গঠন করি। সে সময় থেকে মাওলানার মুক্তির জন্য আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়ে আসছি।
এতে বলা হয়, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার কথিত মামলায় গ্রেফতার করে যখন তারা কোনভাবেই তাকে কারাগারে বন্দী রাখার সুযোগ পাচ্ছিলো না তখনই তারা আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে তাদের ষড়যন্ত্রের মূল জাল বিস্তার করে ১৯৭১ সালের মানবতা বিরোধী মামলায় আটক দেখিয়ে জেল হাজতে বন্দী রাখে।
এতে বলা হয়, বিশ্বনন্দিত মুফাসসিরে কোরআন, সাবেক সংসদ সদস্য আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী দীর্ঘদিন থেকে কারাগারে বন্দী রয়েছেন। সরকারের সাজানো কথিত মানবতা বিরোধী মামলায় তাকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়। মানবতার পক্ষে কুরআনের বাণী দিয়ে যে মানুষটি তার জীবনের অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, সুন্দরবন থেকে জাফলং দেশের প্রতিটি জনপদে দাওয়াতের কাজে ব্যয় করেছেন, সেই আল্লামা সাঈদীকে আওয়ামী লীগ সরকার মানবতা বিরোধী অপরাধী বানিয়ে দীর্ঘদিন থেকে কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠে বন্দী রেখেছে। আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের নামে যে বিচারগুলো করা হয়েছে এর প্রতিটি শব্দ মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর সাক্ষীদের কেউ বলতে পারেনি যে তারা আল্লামা সাঈদীকে কোন ধরনের অপরাধ করতে তাদের নিজ চোখে দেখেছেন। সরকারি তত্ত্বাবধানে ঢাকাস্থ ‘সেইফ হাউজে’ দিনের পর দিন তথাকথিত ভাড়াটিয়া সাক্ষীদের রেখে ট্রেনিং দেয়ার পরও অনেককে প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য দিতে রাজি করাতে না পেরে তাদের লিখিত জবানবন্দীর ভিত্তিতে সাজানো রায় প্রদান করে বিশ্ব বিখ্যাত কোরআনের এই খাদেমকে লাঞ্ছিত করেছে, পৃথিবীর ইতিহাসে তা নজিরবিহীন।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরো বলা হয়, ইতিমধ্যে আল্লামা সাঈদী তাঁর পরিবারের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে অভিযোগ করেছেন যে, বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম যিনি ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের পদ থেকে ‘স্কাইপগেট কেলেংকারি’ মাথায় নিয়ে পদত্যাগ করেন। বিচারপতি নাসিম বেলজিয়াম প্রবাসী ভারতীয় এজেন্ট জিয়াউদ্দিনের কাছ থেকে কিভাবে মামলার চার্জশিট, মামলার বিভিন্ন অর্ডার, বিচারের আর্গুমেন্ট হবে এবং কাকে কি শাস্তি দেয়া যায় সেটা সম্পর্কে স্কাইপের মাধ্যমে পরামর্শ গ্রহণ করতেন। স্কাইপ কেলেংকারির ঘটনায় ফাঁস হওয়া কথাবার্তার অডিও রেকর্ডে গোটা দুনিয়া স্পষ্ট শুনেছে কিভাবে ভিন্ন দেশ থেকে উক্ত ব্যক্তি প্রতিটি আদেশ, নির্দেশনা ও রায়ের স্কেচ লিখে পাঠাচ্ছিলেন।
এতে বলা হয়, বিশ্ব বরেণ্য আল্লামা সাঈদীকে ফাঁসির রায়ের পর বাংলাদেশ অগ্নিগর্ভ হয়ে সেদিন প্রায় দুইশ পঁয়ত্রিশজন মানুষ পুলিশের গুলীতে প্রাণ দিয়েছিলো। কিন্তু মানবতা বিরোধী ও জনবিচ্ছিন্ন  তাঁবেদার সরকারের তাতে টনক নড়েনি। দীর্ঘ আপীল শুনানি শেষে এবার আপিলের রায়ে আল্লামা সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদন্ড প্রদান করা হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান, সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও আল্লামা সাঈদীর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, আল্লামা সাঈদীর প্রতি সুবিচার করা হয়নি। যাবজ্জীবন কারাদন্ড রায় দিয়ে আবার আমৃত্যু কারাদন্ড প্রদান হলো আইনের ব্যাত্যয়। বাংলাদেশের আইনে যাবজ্জীবনের অর্থ হলো সর্বোচ্চ ৩০ বছরের কারাদন্ড। অথচ ঐ রায়ে বলা হয়েছে আমৃত্যু কারাদন্ড!
খন্দকার মাহবুব বলেছেন, এ মামলায় অনেক বিতর্ক রয়েছে। এ মামলার সাক্ষী সুখরঞ্জনবালীকে ট্রাইব্যুনাল গেট থেকে অপহরণ করা হয়েছে। স্কাইপ কেলেংকারির ঘটনায় একজন বিচারপতি পদত্যাগও করেছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে এমন ঘৃণ্য নজীর ভবিষ্যতে বিচার ব্যবস্থাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করবে। কিন্তু সরকার তাদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকে চরিতার্থ করতে বিশ্ববিখ্যাত একজন আলেমে দ্বীনকে ১৯৭১ এর তথাকথিত মানবতা বিরোধী অপরাধী সাজিয়ে বিচার ব্যবস্থায় যে শাস্তির বিধান নেই এমন সাজা খারাপ নজীর সৃষ্টি করলো শুধু নয়, মানবতা আইন ও বিচার বিভাগের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ঘটনা।
এতে বলা হয়, এ থেকে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস হয়ে গেছে, যে আদালত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল সেই আদালত এখন সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধারা যে আল্লামা সাঈদীকে নিরপরাধ মনে করেন, সেই সাঈদীকে সরকার বানাতে চায় ঘৃণ্য মানবতা বিরোধী অপরাধী।
সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, দীর্ঘ প্রায় পঞ্চাশ বছরের তাফসীরের বর্ণাঢ্য জীবনে যে সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে একজন লোক বাজে আচরণের কোন অভিযোগ করলো না, যার বিরুদ্ধে বিগত ৪০ বছরে তার নিজ এলাকাসহ বাংলাদেশের কোথাও এ ধরনের কোন মামলা এমনকি জিডি পর্যন্ত ছিলো না, যিনি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত নিজ এলাকায় পর পর দুবার ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, সেই আল্লামা সাঈদীকে কিভাবে এতো বড় শাস্তি দেয়া হলো!
সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে দন্ডাদেশ বাতিল করে আল্লামা সাঈদীকে মুক্তি প্রদান করে সরকারকে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিতে জোর দাবি জানান।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=158984