২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দী পেশ ডিফেন্স পক্ষের জেরা আজ
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৪, সোমবার,
১৯৭১ সালে সংঘটিত কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে প্রসিকউশনের ৩০তম সাক্ষী আইও (তদন্ত কর্মকর্তা) মতিউর রহমান (৬১) ট্রাইব্যুনালে তার জবানবন্দী পেশ করেছেন। গতকাল রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ তিনি তার জবানবন্দী পেশ করেছেন। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে এই আইও তার জনানবন্দী পেশ করেছেন। আজ সোমবার তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করবে ডিফেন্স পক্ষ।
জবানবন্দীতে তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, এই মামলায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত করার সময় সুবহানেরর সংশ্লিষ্টতা অনুসন্ধানের সময় তদন্ত সংস্থার লাইব্রেরীতে সংগৃহিত ’৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের উপর লিখিত বই, পুস্তক, জার্নাল, পত্রিকা ও সরকারি প্রতিবেদন  ইত্যাদি পর্যালোচনা করেছি। তিনি বলেন, বাংলা একাডেমির লাইব্রেরী, মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর, ন্যাশনাল আর্কাইভে সংরক্ষিত পত্র-পত্রিকাও পর্যালোচনা করি। একই সঙ্গে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ জানুয়ারী থেকে ২০১১ সালের ৩ মার্চ পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলা ডিএসবি অফিস হতে (ফোর্ট নাইটলি রিপোর্ট অন পলিটিক্যাল সিচুয়েশন-১৯৭১ ফ্রম স্পেশাল ব্রাঞ্চ, পকিস্তান, ঢাকা) জব্দ করে উক্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা করে  প্রাসংগিক অংশ এই মামলায় সংযুক্ত করি।
গতকাল সুবহানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম, এসএম শাহজাহান ও আব্দুস সাত্তার পালোয়ান। পরে তাকে জেরা শুরু করেন আসামীপক্ষের আইনজীবী মো.মিজানুল ইসলাম। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আজ সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। ১৫ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে ৮৬ পৃষ্ঠার ওই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেন প্রসিকিউশন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগে সাবেক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদনে গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ষড়যন্ত্রসহ ৮ ধরনের ৯টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু করে  ১২ সেপ্টেম্বর তদন্ত কাজ শেষ করেন সংস্থা। ৯টি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তা ও জব্দ তালিকার সাক্ষীসহ মোট ৪৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে সুবহানের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে ৩০ জন সাক্ষীকে কোর্টের সামনে (প্রডিউস্ট) হাজির করে প্রসিকিউশন।
 ২০১৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সকালে টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত থেকে মাওলানা সুবহানকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর আগে এই মামলায় প্রসিকিউশনের সাক্ষী হিসেবে আরও ২৯ জন সাক্ষী তাদের জবানবন্দী পেশ করেছেন। পরে আসামীপক্ষের আইনজীবীরা তাদেরকে জেরা করেছেন।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=158621