১৬ জুন ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
ট্রাইব্যুনালে এটিএম আজহারের মামলার রায় যেকোন দিন
১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪, শুক্রবার,
একাত্তরে সংঘটিত কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে যেকোন দিন রায় ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যুনাল-১। গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার কার্যক্রম শেষে রায়ের জন্য মামলাটির কার্যক্রম অপেক্ষমাণ বা সিএভি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। গতকাল  ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্র ও ডিফেন্স উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে এই আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষ বা প্রসিকিউটর এ টি এম আজহারুল ইসলামের সর্বোচ্চ সাজা  মৃত্যুদ- কামনা করেন। অপরদিকে ডিফেন্স পক্ষ বলেন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা তাই তিনি অভিযোগ থেকে খালাস পাবেন। গতকাল রাষ্ট্রপক্ষ আজহারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত যুক্তি উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ও জেয়াদ আল মালুম। এসময় চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, আলতাফ উদ্দিন আহমেদ, জেয়াদ আল মালুম, রিজিয়া পারভীন চমন উপস্থিত ছিলেন। যুক্তি উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। এর মাধ্যমে উভয় ট্রাইব্যুনাল মিলে ৬ টি মামলা রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হলো।
অন্যদিকে আদালতে আজহারের পক্ষে অ্যাডভোকেট আব্দুস সোবহান তরফদার, শিশির মুহাম্মদ মনির, আসাদ উদ্দিন, মো. রায়হানুল ইসলাম ও মো শাহিনুর ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর আজহারের পক্ষে যুক্তি উপস্থান শেষ করেন তার আইনজীবীরা।
গত ১৮ আগস্ট থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত ৬ কার্য দিবসে আজহারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট জেয়াদ আল মালুম, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ও তাপস কান্তি বল। এই মামলায় ২০১৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। আজহারের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) এম ইদ্রিস আলীসহ রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউশনের ১৯ জন সাক্ষী তাদের জবানবন্দী পেশ করেছেন। তাদের মধ্যে সপ্তম সাক্ষী আমিনুল ইসলামকে বৈরি ঘোষণা করেছে প্রসিকিউশন। আজহারের পক্ষে একমাত্র সাফাই সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দী পেশ করেন আনোয়ারুল হক।
 ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর আজহারুলের বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য  উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটির একেএম সাইফুল ইসলাম। তার আগে ২০১৩ সালের ১২ নবেম্বর এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এ টি এম আজহারের বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, নির্যাতন, আটক, অপহরণ, গুরুতর জখম ও অগ্নিসংযোগের ৬টি অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০১৩ সালের ২৯ আগস্ট ও ৩ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের পক্ষে রাষ্ট্র পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর একেএম সাইফুল ইসলাম। অন্যদিকে ২৪ সেপ্টেম্বর ও ১০ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের বিপক্ষে শুনানি করেন আজহারের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মুনির ও ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিকী।
একই বছরের ২৫ জুলাই এটিএম আজহারুলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ  আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। ১৮ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগটি দাখিল করেন প্রসিকিউটর একেএম সাইফুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর নুরজাহান বেগম মুক্তা। ৪টি ভলিউমে ৩শ’ পৃষ্ঠায় দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগে আজহারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে ৯ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের ৬টি  অভিযোগ আনা হয়।
এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা এস এম ইদ্রিস আলী ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু করে গত বছরের ৪ জুলাই পর্যন্ত মোট ১ বছর ৩ মাস ১১ দিনে তদন্ত শেষ করেন। ২০১২ সালের ২২ আগস্ট  মগবাজারের বাসা থেকে ট্রাইব্যুনাল-১ এর নির্দেশে এটিএম আজহারুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=158307