১৭ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের মামলার রায় যে কোনো দিন
৫ ডিসেম্বর ২০১৪, শুক্রবার,
একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে যেকোনো দিন ঘোষণা করা হবে মর্মে অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সরকারপক্ষের পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন শেষে চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখে দেন। দুই ট্রাইব্যুনালে এখন চারটি মামলা রায়ের জন্য অপেক্ষায় থাকলো।
গত ১৭ থেকে ৩০ নবেম্বর পর্যন্ত ৮ কার্যদিবসে মাওলানা আব্দুস সুবহানের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার এহসান সিদ্দিকী। এর আগে গত ৫ থেকে ১৭ নবেম্বর পর্যন্ত ও বৃহস্পতিবার আট কার্যদিবসে মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, সুলতান মাহমুদ সীমন ও রেজিয়া সুলতানা চমন।
গত ৭ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রবীণ এই জননেতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন দুই তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান ও মো. নূর হোসাইনসহ সরকারপক্ষের ৩১ জন সাক্ষী। আর জব্দ তালিকার দুই সাক্ষী হচ্ছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার গ্রন্থাগারিক আনিসুর রহমান ও বাংলা একাডেমির সহকারী গ্রন্থাগারিক এজাবউদ্দিন মিয়া। অন্যদিকে মাওলানা সুবহানের পক্ষে ৩ জন সাক্ষী সাফাই সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ট্রাইব্যুনাল নির্ধারণ করে দিলেও কোনো সাফাই সাক্ষী হাজির করেননি আসামীপক্ষ।
গত ২৭ মার্চ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থানান্তর করেন। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ষড়যন্ত্রসহ আট ধরনের নয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধে মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে  অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। তার আগে গত বছরের ২৩ অক্টোবর ও ২৪ নবেম্বর অভিযোগ গঠনের বিপক্ষে ও অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আসামীপক্ষে শুনানি করেন তার  প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ও এডভোকেট এস এম শাহজাহান। অন্যদিকে ৯ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের পক্ষে সরকারপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন ও রেজিয়া সুলতানা চমন। গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। ১৫ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে ৮৬ পৃষ্ঠার ওই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে জমা দেন প্রসিকিউশন।
২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সকালে টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত থেকে  মাওলানা আব্দুস সুবহানকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই রাতেই তাকে পাবনা কারাগারে নেওয়া হয়। ২৬ সেপ্টেম্বর পাবনা কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয় তাকে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশনের আবেদন আমলে নিয়ে মাওলানা সুবহানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=167000