১০ ডিসেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
আল্লামা সাঈদী পুনরায় কারাগারে
৩ ডিসেম্বর ২০১৪, বুধবার,
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী চিন্তাবিদ ও মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর দ্বিতীয় দিনের মতো হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রায় ৩ ঘণ্টা তাকে বিএসএমএমইউ হাসপাতাল (সাবেক পিজি) রেখে এক্সরে করানো হয়েছে। আজ বুধবার এর রিপোর্ট দেয়ার কথা রয়েছে। তার ছেলে জানিয়েছেন, আব্বা বুকে ব্যথা অনুভব করলেও তার কোমর ও হাটুর এক্সরে করানো হয়েছে। এদিকে তার সুচিকিৎসার জন্য অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিয়ে পরিবারের তত্ত্বাবধানে দেশের বাইরে পাঠানোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমদ।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার আল্লামা সাঈদীকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে বিএসএমএমইউ হাসপাতাল (সাবেক পিজি)-এ নেয়া হয়। প্রথমে তাকে হাসপাতালের পরিচালকের রুমে, সেখানে ১ ঘণ্টা থাকার পর তারপর অর্থোপেডিক বিভাগের চেয়ারম্যানের রুমে সেখানে প্রায় ৩০ মিনিট থাকার পর এক্সরে ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যানের রুমে। সেখানে কিছুক্ষণ বসে থাকার পর এক্সরে করার নির্ধারিত রুমে নেয়া হয়। সেখানে হাটু ও কোমরের দু’টি এক্সরে করা হয়। এরপর এক্সরে ফিল্মের জন্য হাসপাতালের প্রিজন সেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কিছুক্ষণ পর এক্সরে ফিল্ম পাওয়া গেলেও রিপোর্ট দেয়া হবে আজ। এভাবে ৩ ঘণ্টা হাসপাতালে কাটিয়ে আল্লামা সাঈদীকে আবারো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়।
আল্লামা সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী জানান, আব্বার বুকে ব্যথা হলেও হাসপাতালে তাকে ৩ ঘণ্টা নানা রুমে ঘুরিয়ে হাটু ও কোমরের এক্সরে করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ : গতকাল দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আল্লামা সাঈদীর সাথে তার পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করেন। নেটের পার্টিশন দেয়া রুমে তার স্ত্রী সালেহা সাঈদী, ছেলে মাসুদ সাঈদী ও নাসিম সাঈদী, ভাই মোস্তফা আহসান সাঈদী ও হুমায়ুন সাঈদী সাক্ষাৎ করেন। 
সাক্ষাৎ শেষে মাসুদ সাঈদী দৈনিক সংগ্রামকে জানান, আব্বার বুকে মাঝে মাঝে খুব ব্যথা হয়। এ কারণে হাটা ও চলাফেরায় সমস্যা হচ্ছে। এতে ডায়াবেটিকস বেড়ে গেছে। আব্বা দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর আহ্বান : জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমদ এক বিবৃতিতে আল্লামা সাঈদীর অসুস্থতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ ও মুসলিম বিশ্বের নন্দিত জননেতা বরেণ্য আলেমে দ্বীন আল্লামা সাঈদীকে উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে সরকার প্রকারন্তরে তাকে মৃত্যুর দিকেই ঠেলে দিচ্ছে। তার প্রতি সরকারের এ ধরনের আচরণ মানবাধিকারের চরম লংঘন। বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান সরকারের এই আচরণে ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হয়েছে। তারা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রতি সরকারের এহেন আচরণ কিছুতেই মেনে নিবে না। তার সুচিকিৎসার জন্য অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিয়ে পরিবারের তত্ত্বাবধানে দেশের বাইরে পাঠানোর জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। 
উল্লেখ্য, গত রোববার রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে গাজীপুর সদর হাসপাতাল এবং পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (সাবেক পিজি) আনা হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা দেখার পর ভোর ৪টার দিকে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। এরপর থেকে তিনি সেখানেই আছেন। কারাগারে আটক অবস্থায় আল্লামা সাঈদী ২০১২ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। ওই সময় তার হার্টে ৩টি রিং পরানো হয়। এর পূর্বে তার হার্টে আরো ২টি রিং পরানো হয়েছিল।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=166731