২৫ আগস্ট ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
সুবহানের মামলায় যুক্তিতর্ক অব্যাহত: যুদ্ধকালের ৫ ও ২ বছর বয়সের শিশুদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না
২৭ নভেম্বর ২০১৪, বৃহস্পতিবার,
একাত্তরের কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়  আটক জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুস সোবহানের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বুধবার  ট্রাইব্যুনাল ২-এ যুক্তি উপস্থাপন করেছেন এডভোকেট মিজানুল ইসলাম। গতকাল তিনি আনীত অভিযোগের ৮ ও ৯ নং চার্জের ওপর ডিফেন্স যুক্তি উপস্থাপন করেন। ৪ নং অভিযোগের ওপর যুক্তি উপস্থাপনের জন্য আজ বৃহস্পতিবার সময় দিয়ে যুক্তি উপস্থাপন অব্যাহত রাখার আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-২।
গতকাল আসামী পক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের মধ্যে ৮ ও ৯ নং অভিযোগের উপরে যুক্তি উপস্থাপন করেন। ডিফেন্স পক্ষে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট এস এম শাহজাহান, এডভোকেট আব্দুস সাত্তার প্রমুখ।
গতকাল যুক্তি উপস্থাপন করে এডভোকেট মিজানুল ইসলাম বলেন, এই মামলায় ৯ নং অভিযোগে সাক্ষ্য দিয়েছেন সানোয়ারা খাতুন ও আজিজুল ইসলাম। সানোয়ারা খাতুন তার দেয়া সাক্ষ্যে বলেছেন, ঘটনার দিন তার চাচা ও বড় ভাই ও অন্যান্য বয়স্ক লোকজন বাড়িতে উপস্থিত থাকার পরেও তিনি নিজেই ভিকটিমকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। অন্যরা থাকতে তার এই এগিয়ে আসাটা অস্বাভাবিক ঘটনা। এছাড়া ভোটার আইডিতে তার দেয়া তথ্য থেকেই জানা যায় যুদ্ধকালে তার বয়স ছিল মাত্র ৫ বছর। কেননা ভোটার আইডিতে তার জন্ম তারিখ লেখা আছে ১৯৬৬ সাল।
অন্যদিকে অপর সাক্ষী আজিজুল ইসলাম তার বয়স ছিল মাত্র ২ বছর। কেননা ভোটার আইডিতে তার জন্ম তারিখ দেয়া আছে ১৯৬৯ সাল। অর্থাৎ যুদ্ধকালে তার বয়স ছিল মাত্র ২ বছর। কাজেই ঘটনার সময়ে বা যুদ্ধকালে যাদের বয়স ছিল মাত্র ৫ ও ২ বছর তাদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
এখানেই প্রমাণ হয়, এই সাক্ষীরা সাজানো এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েই মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। এদের বিশ্বাস করা যায় না।
উল্লেখ্য, মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে ৩০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। পরে তাদের জেরাও করেছেন ডিফেন্স আইনজীবী। গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। ২০১৩ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে সুবহানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে  গত ১২ সেপ্টেম্বর তদন্ত কাজ সম্পন্ন করেন তদন্ত সংস্থা। ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সকালে টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত থেকে সুবহানকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=165939