১৬ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের মামলায় ডিফেন্সপক্ষের আর্গুমেন্ট : সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও সাক্ষী তলব না করেই ঘটনার তদন্ত হলো কিভাবে?
২০ নভেম্বর ২০১৪, বৃহস্পতিবার,
কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুস সুবহানের পক্ষে ডিফেন্স টীমের আইনজীবী গতকাল বুধবার ২ ও ৩ নং অভিযোগের ওপর আর্গুমেন্ট উপস্থাপন করেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে ডিফেন্সপক্ষের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক দ্বিতীয় দিনের মতো সম্পন্ন  করেছে ডিফেন্সপক্ষ। গতকাল আর্গুমেন্ট করেছেন ডিফেন্স টীমের অন্যতম আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলাম। গতকাল শুনানি শেষে পরবর্তী তারিখ আগামী রোববার নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল-২।
আর্গুমেন্টের দ্বিতীয় দিনে আইনজীবী ট্রাইব্যুনালে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে যেখানে কোন লিখিত সুনির্দিষ্ট অভিযোগই নেই সেখানে তদন্ত কর্মকর্তা ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল যুক্তিতলা প্রাইমারী স্কুলে গিয়ে কিভাবে সাক্ষীদের জবানবন্দি রেকর্ড করলেন? এছাড়া এই তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই ট্রাইব্যুনালে জেরাতে স্বীকার করেছেন যে, তিনি কোন সাক্ষীকে তলব করেও বা সমন জারি করেও আনেননি। তাহলে এখানে সহজেই প্রশ্ন জাগে সাক্ষীরা কিভাবে স্বেচ্ছায় এসে ঐ দিন তাদের জবানবন্দি দিয়েছেন? এখানেই প্রমাণ হয়, এই সাক্ষীরা সাজানো এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েই মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। এদের বিশ্বাস করা যায় না।
ডিফেন্স আইনজীবী আরো যুক্তি দিয়ে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা রেজিস্টারে কোন অভিযোগ না থাকলেও কেন তিনি যুক্তিতলায় গেলেন? আর সেখানে গিয়ে সাক্ষীদের তিনি পেলেন কিভাবে? যেখানে সাক্ষী নিজেই স্বীকার করেছেন তার বাড়ি যুক্তিতলা থেকে ৪ মাইল দূরে, তাহলে তিনি কেন সেখানে আসলেন এবং জবানবন্দি দিলেন ? তদন্ত কর্মকর্তা তো এই সাক্ষীকে ডাকেননি। অর্থাৎ এই অভিযোগ থেকে মাওলানা সুবহান অবশ্যই অব্যাহতি পাবেন এবং তিনি খালাস পাবেন।
চার্জের ৩ নং অভিযোগে বলা হয়েছে ১৯৭১ সালের এপ্রিলের শেষের দিকে এবং মে মাসের ১৬ তারিখে অরুণখোলায় অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তাও যুক্তিতে টেকে না। কারণ এই অভিযোগের উপর এক সাক্ষী  (আলাউদ্দিনের ছেলে আশরাফ আলী) তার বয়স নিয়েই সন্দেহ রয়েছে। কেননা তার জন্ম তারিখ হচ্ছে ১৯৬৩ সাল।
এদিকে গত পরশু দিনের শুনানিতে এক নং অভিযোগের ভিকটিমের মেয়ের দায়ের করা একটি দেওয়ানী মামলায় আদালতে দেয়া জবানবন্দির সার্টিফাইড কপিও তলবের আবেদন করেছেন ডিফেন্সপক্ষ।  ট্রাইব্যুনাল এ আবেদন গ্রহণ করেছেন। গতকাল এডভোকেট মিজানুল ইসলাম পুনরায় আবেদনটি ট্রাইব্যুনালের নোটে রাখার আবেদন জানান।        
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে ডিফেন্স আইনজীবীরা বলেছেন, মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় এক নং অভিযোগের ভিকটিম মতলেব আহমেদ খানের মেয়ে ও অপর ভিকটিম নাজমুল আহমেদ খানের বোন মেহেরুন্নাহার তাদের জমি সংক্রান্ত একটি দেওয়ানি মামলায় (মামলা নং-ও/সি-৩৮/৯৬) নিজে আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, তার পিতা  মতলেব আহমেদ খানের লাশ তারা পাননি। তবে তার বাবা অবশ্যই মারা গেছেন। কোথায় কিভাবে বা কখন মারা গেছেন তাও তারা জানেন না। তার বাবাকে কে বা কারা মেরেছে তাও তারা জানেন না। একই সাথে তার ভাই নাজমুল হক খান তার বাবার সাথে হারিয়ে গেছেন।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=164934