২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
গাজার রক্তক্ষরণ : সমাধান কোন্ পথে?
২২ জুলাই ২০১৪, মঙ্গলবার,
|| মো. নূরুল আমিন ||
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইহুদী রাষ্ট্র ইসরাইলের নির্মম হামলায় গত দু’সপ্তাহে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ চার শতাধিক নিরীহ লোক প্রাণ হারিয়েছেন। গত শনিবার আল-জাজিরা টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, ইসরাইলী সেনারা এ দিন গাজার পূর্ব সীমান্ত বরাবর প্রতি ১০ সেকেন্ডে একটি করে ট্যাংকের গোলা নিক্ষেপ করেছে। এতে শনিবার একদিনেই অন্ততঃ ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। একইভাবে রোববার আবাসিক এলাকায় গোলা হামলায় ৯৭ জন নিরীহ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে ১৩ দিনের হামলায় নিহতের সংখ্যা ৩৯৭ জনে পৌঁছলো। নিহতদের মধ্যে শতাধিক নিষ্পাপ শিশু রয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তাদের লাশের ছবি দেখে অশ্রু সংবরণ করা খুবই কঠিন ব্যাপার। ১৩ দিনে আহতের সংখ্যা ৭৯৫ জন শিশুসহ প্রায় চার হাজার। এ নিবন্ধ লেখার সময় অর্থাৎ গতকাল সোমবারও গাজায় ব্যাপক গোলাগুলী চলছিল এবং এর মোকাবিলায় হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জাদ্দিন আল-কাসসাম ব্রিগেডের তরফ থেকে রকেট হামলা অব্যাহত ছিল। রকেট হামলায় ১৩ জন ইসরাইলী সৈন্য নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য যে, জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে চলমান সহিংসতা নিরসনের লক্ষ্যে গত শনিবার ওই এলাকা সফরে গেছেন। সফরকালে তার ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমঝোতার চেষ্টা করার কথা। কিন্তু তার সফরকালে আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়ে ইসরাইল হিংস্রতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা নজিরবিহীন। এতে বাহ্যতঃ মনে হচ্ছে ইসরাইল বান কি মুনের সফরে অনুপ্রাণিতই হয়েছে।
বলাবাহুল্য, গাজা তথা ফিলিস্তিনীদের উপর ইসরাইলের এই বর্বর হামলা সম্পূর্ণভাবে একতরফা এবং কোনও রকম উস্কানি ছাড়াই। তারা সীমান্তজুড়ে ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের তৎপরতা বন্ধের জন্যই এই হামলা করেছে বলে জানা গেছে। দুর্ভাগ্যবশত: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পাশ্চাত্যের শক্তিধর দেশগুলো ইসরাইলকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে এবং এই হামলাকে ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতিফলন বলে অভিহিত করেছে। তারা হামাসের অধিকারের প্রতি উপেক্ষা প্রদর্শন করেন এবং ফিলিস্তিনীদের মানবাধিকার বলে কিছু আছে তা বিশ্বাস করেন বলে মনে হয় না। প্রতিবেশী মুসলিম দেশ মিসরের বর্তমান সরকারের ভূমিকাও এ ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ। তারা গাজায় যুদ্ধ বিরতির যে প্রস্তাব দিয়েছে তার আগে হামাসের সঙ্গে যে কোনো রকম আলোচনা করেনি, তেমনি ইসরাইল কর্তৃক গাজায় সমুদ্র অবরোধ অথবা সেখানে ধ্বংসযজ্ঞের জন্য ফিলিস্তিনীদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ও যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে নেই। ফলে হামাস যৌক্তিকভাবেই তা প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত শনিবার ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি হামাসের হামলা থেকে ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করে বলেছেন যে, কোনও রাষ্ট্রের সীমান্তের অভ্যন্তরে রকেট নিক্ষেপের বিষয়টি মেনে নেয়া উচিত নয়! তবে ইসরাইল ফিলিস্তিনে বিমান হামলার মাধ্যমে শত শত লোককে যে হত্যা করছে এবং এতে হাজার হাজার লোক আহত হচ্ছে সে সম্পর্কে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি। ইসরাইলের এই বিমান হামলায় এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার লোক বাড়িঘর ছেড়ে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।
এই মানবিক বিপর্যয়ে বিশ্ববাসীর যে সোচ্চার ভূমিকা দরকার ছিল তা হয়নি। তুরস্ক ও দু’-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া মুসলিম দেশসমূহের সরকারের ভূমিকা এখানে ন্যক্কারজনক। সম্ভবত: এ কারণেই তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং সাদাত পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও ইসলামী পুনর্জাগরণের নেতা অধ্যাপক ড. নাজমুদ্দিন আরবাকান বর্তমান ইহুদীবাদের একটা পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘ইহুদীবাদ হচ্ছে একটা কুমিরের মতো। এর উপরের চোয়াল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, নিচের চোয়াল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এর জিহ্বা আর দাঁত হলো ইসরাইল এবং শরীরসহ অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হচ্ছে মুসলিম দেশসমূহ অন্যান্য দেশের শাসকগোষ্ঠী, মিডিয়া, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এর সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন সংগঠন। আমাদের ভুল ধারণা হলো, আমরা ইহুদীবাদ বলতে শুধু ইহুদী আর ইসরাইলকেই বুঝিয়ে থাকি। এই বৃহৎ কুমিরটি আজ বিশ্বকে গ্রাস করে ফেলছে। শান্তিশৃঙ্খলাকে হজম করে গাজাতে নিষ্পাপ শিশুদের হত্যা করছে। Great middle East Project ইহুদীদের আকিদ্বা তথা দ্বীনের অংশ। ইসরাইলের প্রতিটি প্রধানমন্ত্রীর কথা হচ্ছেÑ আমাদের রয়েছে দুটি মানচিত্র, একটি দেয়ালে খচিত অন্যটি অন্তরে। তারা অন্তরের মানচিত্র রূপায়ণেই কাজ করছে। আর আমাদের মধ্যপ্রাচ্যসহ মুসলিম দেশসমূহের সেক্যুলার শাসকগোষ্ঠী তাদের প্রতিরোধ না করে সহযোগিতা করেই যাচ্ছি।’
জনাব আরবাকান মনে করতেন যে, ‘ইসরাইলী ফিৎনা থেকে বিশ্ববাসীকে বাঁচানোর একটি মাত্র পথ আছে এবং তা হচ্ছেÑ কুরআনের আলোকে নতুন দুনিয়া সৃষ্টি করা। কারণ ইসলাম ছাড়া বিশ্বশান্তি অসম্ভব। আমি ১৯৯৬ সালের ২৪ জুন প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলাম। পার্লামেন্ট থেকে শপথ নেয়ার পর দফতরে আসি। এরপর সর্বপ্রথম মার্কিন রাষ্ট্রদূত আমার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসেন। তিনি আমাকে বলেন যে, আমরা জানি, আপনাদের দাওয়াত হচ্ছে ইসলাম। আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন অবশ্যই আমরা এটা পছন্দ করিনি। কিন্তু আপনাদের সাথে আমাদের কাজ করতে হবে এবং ৬টি শর্তে আমরা কাজ করতে পারি। (১) ইরানের সাথে আপনাদের বাণিজ্য ৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি করতে পারবেন না। (২) ইরানে যেতে পারবেন না। (৩) মুসলিম দেশগুলোর সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে পারবেন না। (৪) তুরস্কের অভ্যন্তরে অবস্থিত আমেরিকান আর ইসরাইলের অঙ্গ সংস্থাগুলোর কাজে বাধা দিতে পারবেন না। (৫) তুরস্কের অভ্যন্তরে অবস্থিত সামরিক শক্তিকে বহিষ্কার করতে পারবেন না। (৬) ইরাকের পাইপলাইনগুলো উন্মুক্ত করতে পারবেন না। আমি তার শর্তের বিপরীত কাজটাই করেছি। (সূত্র : আরবাকানের বক্তৃতা সংকলন, অনুবাদ : বুরহানুদ্দিন আহমদ)।
পাঠকরা নিশ্চয়ই জানেন যে, তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজমুদ্দিন আরবাকান ইসলামী পুনর্জাগরণ আন্দোলনের একজন পথিকৃৎ ছিলেন। তিনি তার মেয়াদ শেষ হবার আগেই মার্কিনপন্থী সেনাবাহিনী দ্বারা ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন। তার দল ও তার রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে তিনি যে ভিত রচনা করেছিলেন তার পরিপ্রেক্ষিতে তুরস্কে ইসলামী আন্দোলন থেমে যায়নি, দ্রুত গতিতে তা অগ্রসর হচ্ছে।
এখানে একটা কথা বলে রাখা দরকার যে, ইহুদীরা বনি ইসরাইলের অনুসারী বলেই নিজেদের মনে করে। এক সময় বনি ইসরাইলরা আল্লাহর অনুগ্রহভাজন ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে পথভ্রষ্টতা, আল্লাহর নির্দেশনা উপেক্ষা, অঙ্গীকার ভঙ্গ ও বিভিন্ন পাপাচারে লিপ্ত হবার কারণে তারা অভিশপ্ত জাতিতে পরিণত হয় এবং হাজার হাজার বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্নস্থানে দেশ/বাসস্থানবিহীনভাবে ভবঘুরে জীবন-যাপনে বাধ্য হয়। তাদের নিজস্ব কোনও বাসভূমি ছিল না, যদিও অভিশপ্ত জাতিতে পরিণত হবার আগে তারা মূলতঃ ফিলিস্তিনী ছিল। তাদের একটা অংশ হযরত ইউসূফ (আঃ)-এর সময়ে মিসরে চলে যায়। এরা বিভিন্ন সময়ে মিসরের ফেরাউন শাসকদের দ্বারা নির্যাতিত হয় এবং আল্লাহ মূসা (আঃ)-এর মাধ্যমে তাদের উদ্ধার করে ফিলিস্তিনে ফিরিয়ে আনেন।
ইসলামের আবির্ভাবের আগে বিভিন্ন সময়ে ইহুদীদের ফিলিস্তিন থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং এই বহিষ্কার প্রক্রিয়া হাজার বছর ধরে চলে আসছিল। ইসলামের পরেও এই ধারা অব্যাহত ছিল। পরবর্তীকালে জার্মানিকে ভিত্তি করে একটি আন্দোলন শুরু হয় এবং তা Zionist Movement পরিচিতি লাভ করে। এদের মুখ্য দাবি ছিলÑ আমরা ফিলিস্তিনে ফিরে যাবো এবং সেখানে একটি রাষ্ট্র স্থাপন করবো। আরবরা তখন ফিলিস্তিনের স্থায়ী বাসিন্দা। তারা ইহুদীবাদীদের ফিলিস্তিনে ফিরে আসার প্রত্যয়কে ভালো চোখে দেখেনি। তাদের কথা হচ্ছে যাদের পূর্ব-পুরুষরা হাজার হাজার বছর আগে চলে গেছে তাদের ফিলিস্তিনের উপর কোনও দাবি থাকতে পারে না এবং তারা ফিরেও আসতে পারে না। এর মধ্যে প্রথম মহাযুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয় (১৯১৪-১৮)। এই যুদ্ধে তুরস্ক পরাজিত হয় এবং ওসমানীয় খেলাফতেরও পতন ঘটে। এই সুযোগে খেলাফতের অধীনস্থ আরব রাষ্ট্রসমূহ বিশেষ করে সিরিয়া, জর্দান, লেবানন, ফিলিস্তিন, এমনকি সউদী আবরও বৃটেন দখল করে নেয়। এই দেশগুলো তাদের কর্তৃত্বে চলে যায়। এরই একপর্যায়ে ১৯২৪ সালে বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী বালফো ঘোষণা দেন যে, তারা ফিলিস্তিনে একটা ইসরাইলী রাষ্ট্র পছন্দ করেন। এই ঘোষণাতেই সংকটের সূত্রপাত হয়। সারা দুনিয়া থেকে ইহুদীদের এনে ফিলিস্তিনে জড়ো করা হয় এবং সেখানে তাদের প্রত্যাবাসন দেয়া হয়। এতে আবরদের করার কিছু ছিল না। এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বৃটিশ সহযোগিতায় স্থানীয় অধিবাসীদের উৎখাত করে, হত্যা করে ও বাস্তুচ্যুত করে ইউরোপের বিভিন্ন স্থান থেকে আনা ও তাড়িয়ে দেয়া ইহুদীদের ফিলিস্তিনে পুনর্বাসিত করা হয়। এটি ছিল একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। ১৯৪৮ সালে একটি সীমানা দিয়ে এই মর্মে প্রস্তাব পাস করে যে, ফিলিস্তিনে ইহুদী রাষ্ট্র হবে। এর পর আরবদের সাথে ইহুদীদের যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে পাশ্চাত্য শক্তির সহযোগিতায় ইহুদীরা জাতিসংঘ নির্ধারিত সীমানার অতিরিক্ত এলাকা দখল করে নেয়। জাতিসংঘের প্রস্তাব ইসরাইলকে বৈধতা দেয়। তখন জাতিসংঘ গঠিত হয়েছিল মুখ্যত: ইউরোপ ও আমেরিকার রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে, এশিয়া ও আফ্রিকার বেশিরভাগ রাষ্ট্র স্বাধীন না হওয়ায় তারা জাতিসংঘের সদস্যপদ পাননি। ফলে জাতিসংঘের প্রস্তাবে মুসলিম আরবদের অবস্থানের প্রতিফলন ঘটেনি। আবার প্রস্তাব গ্রহণের পূর্বে জাতিসংঘের তরফ থেকে ফিলিস্তিনের জনমতও যাচাই করা হয়নি। এতে করে আরব-ইসরাইলী সংঘর্ষ চলতেই থাকে। পরে ১৯৬৭ সালে নানা কারণে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় রকমের যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে ইসরাইল পুরো ফিলিস্তিন ও মিসরের সিনাই উপত্যকাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয়। এ প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ এই মর্মে একটি প্রস্তাব নেয় যে, যেহেতু ইসরাইল যুদ্ধ-পূর্ব, বিশেষ করে ১৯৬৭ পূর্ব এলাকা নিয়ে গঠিত একটি রাষ্ট্র তারা সেখানেই ফিরে যাবে। দখলীকৃত এলাকা মিসর ও জর্দান ফিরে পাবে। এ প্রস্তাবের মাধ্যমে আমাদের দৃষ্টিতে জাতিসংঘ দুটি অপরাধ করেছে।
তারা ১৯৪৮ সালে নির্ণিত সীমানা থেকে ইরাইলকে বেশি এলাকা দিয়ে দিয়েছে। প্রস্তাবের একটি দ্ব্যর্থবোধকতা থেকেই এটি করা হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে ইসরাইল রাষ্ট্র ’৬৭ পূর্ব এলাকাতে হবে তবে সীমান্ত এলাকায় সমন্বয় সাপেক্ষে। মজার বিষয় হচ্ছে তারা সীমানা ঠিক করে দেয়নি। ফলে পাঁচ দশক ধরে আলোচনা চলেছে কিন্তু সমস্যার সুরাহা হয়নি। এ কাজটি প্রস্তাব প্রণেতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই করেছে। এর ফলে সমস্যা আরো জটিল হয়েছে। পরবর্তী অবস্থা নিম্নরূপ দাঁড়িয়েছে :
১. পশ্চিম তীরে অনেক ইহুদীকে তারা পুনর্বাসিত করেছে যা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ এবং ওখানকার আদি বাসিন্দা ফিলিস্তিনীদের মতামতের বিরুদ্ধে।
২. ইহুদীরা তথা ইসরাইল দখলীকৃত এলাকায় নির্মমভাবে অত্যাচার-নিপীড়ন চালাচ্ছে। এই অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন ফিলিস্তিনী নারী-শিশুসহ সকল বাসিন্দা।
৩. মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের সময় সমস্যার একটি Two stay salution-এর ধারণা পেশ করা হয়। এর মূল প্রতিপাদ্য ছিল ইসরাইল রাষ্ট্র ১৯৬৭ সালের যুদ্ধপূর্ব এলাকায় ফিরে যাবে এবং অতিরিক্ত মিসর বা জর্দানে যাবে না। স্থিতাবস্থায় থাকবে। এই ফর্মুলাটি ছিল প্রশ্নবোধক। তা হলে কি হবে? সামগ্রিক পর্যালোচনায় দেখা যায় যা কিছু হচ্ছে তার জন্য জায়নিস্ট পরিকল্পনা, বৃটেন ও জাতিসংঘের অন্যায় ও দ্ব্যর্থতাবোধক সিদ্ধান্ত এবং পরাশক্তিসমূহের ইহুদী তোষণই দায়ী।
ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান কিভাবে হবে এবং কখন হবে তা বলা মুস্কিল। সমাধান হতে পারে যদি জাতিসংঘ ইসরাইলের সীমানা বলে দেয়, ফিলিস্তিনীদের অধিকার সীমানা বলে দেয়, ফিলিস্তিনীদের অধিকার স্বীকার করে এবং গাজাসহ পশ্চিম তীর থেকে সমস্ত Settlement তুলে নেয়ার ব্যাপারে ইসরাইলকে বাধ্য করতে পারে। এটা করা সম্ভব যদি আমেরিকা মেনে নেয়। এ ব্যাপারে মুসলিম বিশ্ব যত শীঘ্র ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে ততই সমাধানের গতি ত্বরান্বিত হবে বলে আমার বিশ্বাস। মুসিলম আরব দেশগুলো যদি মার্কিনীদের গোলামী পরিত্যাগ করতে পারেÑ তা হলেই তা সম্ভব। এক্ষেত্রে হামাসকে আরো সাহসী ভূমিকা পালনের জন্য সারা মুসলিম বিশ্বকে তাদের পাশে এসে দাঁড়াতে হবে।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=152305