২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে ২১তম সাক্ষীর জেরা শেষ: পরবর্তী সাক্ষী ৬ আগস্ট
২২ জুলাই ২০১৪, মঙ্গলবার,
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ২১তম সাক্ষী শহীদ উল্লাহ শহীদকে গতকাল সোমবার জেরা শেষ করেছেন ডিফেন্স পক্ষের আইনজীবী। আগামী ৬ আগস্ট পরবর্তী সাক্ষীর দিন ধার্য করছেন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। গতকাল ডিফেন্স পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মো: মিজানুল ইসলাম, এসএম শাহজাহান কবির, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, আসাদুল ইসলাম। প্রসিকিউসন পক্ষে ছিলেন সুলতান মাহমুদ সিমন ও রিজিয়া সুলতানা।
গতকালের জেরার
উল্লেখযোগ্য অংশ
প্রশ্ন : যুদ্ধ চলাকালে আপনি কি ঈশ্বরদীতে গিয়েছিলেন?
উত্তর : মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় আমি ঈশ্বরদী শহরে যাইনি, তবে ঈশ্বরদীর চরাঞ্চলে গিয়েছি। পাকিস্তান সেনাবাহিনী যখন দ্বিতীয়বারের মতো পাবনা শহরে আসে এবং পরবর্তীতে কোন এক সময় গোপালপুর সুগার মিলে হত্যাকা- ঘটায়।
প্রশ্ন : আপনি চর থেকে কোথায় গিয়েছিলেন?
উত্তর : আমি চর আশুতোষ থেকে কুলুনিয়া এসেছিলাম, কুলুনিয়া থেকে দক্ষিণ-পূর্ব কোণে চর আশুতোষপুর দেড়/দুই কিঃমিঃ দূরে।
প্রশ্ন : মমতাজের বাড়িটি কোথায় ছিল?
উত্তর : মমতাজ উদ্দিন ওরফে মন্টুর বাড়িটি দোগাছি বাজারের পশ্চিমে।
প্রশ্ন : মমতাজের সাথে কখন থেকে আপনার পরিচয় ছিল?
উত্তর : মমতাজ উদ্দিন ওরফে মন্টুর সাথে আমার স্বাধীনতার যুদ্ধের ৩ বছর পূর্ব থেকে পরিচয় ছিল। তখন তিনি ছাত্র ছিলেন, তবে তিনি কোথায় লেখাপড়া করতেন তা আমার জানা ছিল না। কুলুনিয়ার সমজুদ্দিন সাহেব একজন ব্যবসায়ী ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির সংগে সম্পৃক্ত ছিলেন।
জেরার জবাবে সাক্ষী আরো বলেন, ১১মে বর্ণিত হত্যাকা-ের পূর্বে সমজুদ্দিনের সাথে মাওলানা সুবহানের সাথে সমজুদ্দিনকে কখনও দেখিনি। কুলুনিয়া দোগাছি রাস্তা থেকে সমজুদ্দিনের বাড়িতে হাঁটা পথে যেতে হতো। ইহা সত্য নয় যে, উক্ত রাস্তা থেকে সমজুদ্দিনের বাড়ি যেতে মাঝে ১৫-২০টি বাড়ি ছিল। পাবনা দোগাছি রাস্তার দক্ষিণে প্রথম মাঠ এরপর স্কুল, স্কুলের পিছনে একটি আঁকাবাঁকা মেঠো রাস্তা। বাঁশঝড় ও ঝোঁপঝাড়ের মধ্যে বিক্ষিপ্ত কয়েকটি বাড়ি ছিল এর মধ্যে প্রথম বাড়িটিই ছিল সমজুদ্দিনের। সমজুদ্দিনের কয়জন ছেলে-মেয়ে ছিল তা আমার স্মরণ নেই।
সাক্ষী বলেন, ১১মে তারিখে আমি ২টি গুলীবিদ্ধ মহিলাকে পড়ে থাকতে দেখি। তার মধ্যে ১ জন মৃত ছিলেন। অন্য একজন আহত অবস্থায় পড়েছিলেন। তবে ঐদিন আর কোনো মহিলাকে আহত অথবা মৃত অবস্থায় দেখেছিলাম কিনা তা মনে পড়ছে না। ১১মে সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত মমতাজ উদ্দিন মন্টুর সাথে ছিলাম। সমজুদ্দিনের বাড়ি থেকে দোগাছি মন্দির বা বাজার দেখা যায় না।
জেরার জবাবে সাক্ষী আরো বলেন, কুলুনিয়া স্কুলসংলগ্ন মাঠের পার্শ্ববর্তী রাস্তায় সাদাগাড়িসহ পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর গাড়িগুলো থেমে ছিল যা স্কুল থেকে আনুমানিক ১৫০-২০০ ফিট দূরে। কুলুনিয়া স্কুলে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অনেক বার গিয়েছি। ইহা সত্য নয় যে, যে কুলুনিয়া স্কুলে আমরা গিয়েছিলাম তা বাউন্ডারি দিয়ে ঘেরা ছিল। ১৯৭১ সালে কুলুনিয়া স্কুলটি টিনসেড বিশিষ্ট দরজা-জানালাবিহীন নির্মাণাধীন দালান ছিল। ঐ স্কুলটি ১৯৭১ সালে প্রাইমারি স্কুল হিসেবেই চালু ছিল। তবে ইতোপূর্বে মক্তব বা মাদরাসা থেকে এই স্কুলটি স্কুলে রূপান্তরিত হয় বলে শুনেছি। ইহা আমার জানা নেই যে, এই স্কুলটি ১৯৪২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কিনা। ইহা সত্য যে, দোগাছি, ভাড়ারা পরে কয়েকটি গ্রাম পার হয়ে চর তারাপুর, তারও পরে কয়েকটি গ্রাম পার হয়ে গাজনার বিল, চর তারাপুর স্কুলের কোন দিকে বা কার বাড়িতে রাত্রি যাপন করেছিলাম তা আমি বলতে পারবো না। তবে ঐ গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা বেলাল আমাকে রাতের অন্ধকারে একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে সেদিন সেখানে রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা করেছিলেন। চর তারাপুরের উত্তরে কাঁচিপাড়া কিনা তা আমি বলতে পারবো না। নতুন গোয়ালবারে গ্রামটি আমি চিনতাম না। সাদুল্লাপুর কোল (বিল অঞ্চল) আমি চিনি। ইহা সত্য যে, এই বিলটি পাবনা সুজানগর রাস্তা লাগোয়া। সাদুল্লাপুর কোনটি কতখানি চওড়া ছিল তা বলতে পারবো না। ইহা সত্য নয় যে, সাদুল্লাপুর কোলের দক্ষিণ দিকে কয়েকটি গ্রামের পর চরতারাপুর। ভারত থেকে তৎকালীন পাবনা জেলা ছাত্র লীগের সভাপতি জনাব শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর নির্দেশে পাবনায় ফিরে আসি পরবর্তীতে আমি আগস্ট সেপ্টেম্বরের দিকে পুনরায় ভারত যাই। আমি ভারতে ট্রেনিং নেইনি, নিজেই ট্রেইনার ছিলাম। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পূর্বে আমি কোন সামরিক পুলিশ বা আনসার বাহিনীতে চাকরি করতাম না। ১১মে ঘটনার দিনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরা কুলুনিয়াতে চাইনিজ রাইফেল দিয়ে গুলী ছুঁড়েছিল। এই গোলা বর্ষণের ফলে কুলুনিয়াতে কোন অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেনি।
১৯৭১ সালে পাবনার রাজনীতি দক্ষিণপন্থী (স্বাধীনতা বিরোধী), আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে স্বাধীনতাপন্থী এবং নকশালপন্থী এই ৩টি ধারায় বিভক্ত ছিল কিনা আমি জানি না। আমি নিজের রাজনৈতিক আদর্শ এবং কর্মকা- নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। টিপু বিশ্বাসকে আমি কোন আদর্শবাদী রাজনীতিবিদ হিসেবে জানতাম না। তাকে একজন ভূমিদস্যু হিসেবে জানতাম, তার পূর্বপুরুষরাও একই কাজ করতো, চর দখল করতো। ১৯৭০-৭১ সালে পাবনায় নকশালদের উপদ্রব ছিল, তবে তা চোখে পড়ার মতো নয়।
আমাদের বর্তমানে ১৩ নং ওয়ার্ডটি ১৯৭১ সালে ৫নং ওয়ার্ড ছিল। তখন পর্যন্ত ওয়ার্ডভিক্তিক কোন শান্তি কমিটি গঠিত হয়নি, পরবর্তীতে কি হয়েছিল বলতে পারবো না, আমাদের ওয়ার্ডে জেলা শান্তি কমিটির নেতা মোফাজ্জল ডাক্তার এবং তার ভাই বসবাস করতো। আমি আওয়ামী লীগ নেতা এড. হাকিম উদ্দিন সাহেবকে চিনতাম। পিস কমিটির চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন জায়েদ তার জামাতা ছিলেন। ১৯৭১ সালের অন্তত পক্ষে ১৬/১৭ বছর আগে ক্যাপ্টেন জায়েদী তার মেয়েকে বিয়ে করেছিল।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=152340