২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে ২১ তম সাক্ষীর আংশিক জেরা সম্পন্ন ॥ পুনরায় জেরা আজ
২১ জুলাই ২০১৪, সোমবার,
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ২১ তম সাক্ষী শহীদ উল্লাহ শহীদকে গতকাল রোববার আংশিক জেরা  করেছেন ডিফেন্স পক্ষের আইনজীবী। আজ সোমবার এই সাক্ষীকেই পুরনায় জেরা করার দিন ধার্য করছেন  তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ  ট্রাইব্যুনাল-২। গতকাল ডিফেন্স  পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মো: মিজানুল ইসলাম, এস এম শাহজাহান কবির, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, আসাদুল ইসলাম। প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন সুলতান মাহমুদ সিমন ও রিজিয়া সুলতানা।
গতকালের জেরার
উল্লেখযোগ্য অংশ
প্রশ্ন : বিলীন হয়ে যাওয়া রানীনগর চরটির নাম কি ছিল ?
উত্তর: রানীনগর চর হিসাবেই পরিচিত ছিল, চরটির অন্যকোন নাম ছিল না।
প্রশ্ন: সাধুপাড়া মহল্লাটি পাবনা পৌরসভার কত নম্বর ওয়ার্ডে ছিল ?
উত্তর:  আমাদের সাধুপাড়া মহল্লাটি পাবনা পৌরসভার ১৩ নং ওয়ার্ডের আওতাধীন, ১৯৭১ সালে আমাদের ওয়ার্ডের কমিশনার কে ছিলেন তা এই মুহূর্তে স্মরণ নেই। ১৯৭১ সালে পাবনা পৌরসভার চেয়ারম্যান এর দায়িত্বে ছিলেন সম্ভবত ক্যাপ্টেন জায়েদী, তবে আমি নিশ্চিত নই।
সাক্ষী অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ১৯৭০ সালে পাবনা পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান কে ছিলেন এই মুহূর্তে স্মরণ নেই। ইহা সত্য নয় যে, ১৯৭১ সালে সাধুপাড়া মহল্লা একটি ঘনবসতি এলাকা ছিল। জবানবন্দীতে বর্ণিত মসজিদটি যেখানে আমার পিতা নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন তা আমার বাড়ী থেকে দক্ষিণ দিকে কোয়ার্টার কিঃমিঃ দূরে। ইহা সত্য নয় যে, আমাদের বাড়ি থেকে মসজিদের মধ্যে ১৯৭১ সালে ২০/২৫টি বাড়ি ছিল। তখন সেখানে ৬/৭টি বাড়ি ছিল। ১৯৭১ সালে আমাদের বাড়ির লাগ দক্ষিণে রাস্তা ছিল, রাস্তার দক্ষিণ-পূর্ব পার্শ্বে জনৈক দারা সাহেবের বাড়ী ছিল। আমাদের বাড়ীর লাগ উত্তরে আমাদের নিজস্ব জমি ও পুকুর ছিল। এরপরে কাদের বাড়ি-ঘর ছিল তা স্মরণ নেই। বাড়ির পূর্ব দিকে লতিফা মহল নামে একটি বাড়ি ছিল, সেখানে ভাড়াটিয়া বসবাস করত। তবে তার নাম মনে নেই। পশ্চিম দিকে আমাদের জ্ঞাতি গোষ্ঠী বাবার চাচাতো ভাইয়েরা থাকতেন। আমার পিতা মসজিদ থেকে নামাজ শেষে বাড়িতে ফেরার পথে তার সাথে বাবার চাচাতো ভাই মরহুম আজিজুর রহমান ছিলেন।
প্রশ্ন : মরহুম আজিজুর রহমানের সাথে আপনার কবে  দেখা হয়েছিল ?
উত্তর:  স্বাধীনতার পরে বাড়ী ফেরার পর আমার চাচা মরহুম আজিজুর রহমানের সাথে দেখা হয়েছিল।
আমার বাবাকে প্রথম এবং দ্বিতীয় বার যখন কোর্টে চালান দিয়েছিল তখন তার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ ছিল তা আমার জানা সম্ভব হয়নি।
প্রশ্ন: আপনার বাবাকে কে বা কারা হত্যা করেছিল ?
উত্তর : আমার চাচা মরহুম আজিজুর রহমানকে জিজ্ঞাসা করিনি যে, কারা আমার পিতাকে হত্যা করেছিল। আজিজুল, মাসুদ, লালু, ফোরকান এবং চেতনদের নাম শুনেছি, দুই একজনকে চিনতাম। ১৯৭১ সালের ২১ ডিসেম্বর আমি আমাদের বাড়ীতে ফিরে আসি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমাদের এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের কোন ক্যাম্প স্থাপিত হয়নি, তবে মুক্তিযোদ্ধারা সংঘবদ্ধ অবস্থায় থাকতেন। ইহা সত্য যে, বর্তমানে আমার ছোট ভাই হাবিবুর রহমান পাবনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা ইউনিটের কমান্ডার। আমার ভাই হাবিবুর রহমান স্বাধীনতার পর আমার বাড়ী আসার ২/১ দিন পূর্বে এলাকায় এসেছিল। ইহা আমি শুনেছিলাম যে, স্বাধীনতার পর আমার ভাই আজিজুলকে আটক করেছিল। ইহা আমার জানা নাই যে, বর্ণিত আজিজুল নকশাল ছিলেন কিনা। ইহা আমি শুনেছি যে, আজিজুলকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছিল। পুলিশের নিকট হস্তান্তরের পর তার ভাগ্যে কি ঘটেছিল তা আমার জানা নেই। ইহা সত্য নয় যে, আমার পিতার চাচাতো ভাই আজিজুর রহমান বাদী হয়ে আমার পিতার হত্যাকারী হিসাবে আজিজুলসহ ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল। এই মুহূর্তে স্মরণ নেই আমার পিতার হত্যাকারী হিসেবে এলাকার কারো কাছ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে কারো নাম শুনেছিলাম।  শুধু এইটুকু শুনেছিলাম রাজাকার আলবদররা আমার পিতাকে হত্যা করেছিল। ইহা সত্য নয় যে, আজিজুল, মাসুদ, লালু, ফোরকান এবং চেতনরা আমার পিতার হত্যাকান্ডে জড়িত ছিল। ইহা সত্য নয় যে,আজিজুলকে আমি এবং আমার ভাই হাবিবুর রহমান আটক করার পর হত্যা করেছিলাম।
জেরার জবাবে সাক্ষী আরো বলেন, আমি সাধুপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছি। ১৯৬৮ এবং ৭০ সালে আমি জেসিআই হাইস্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলাম। স্কুলটি কাচারীপাড়া মহল্লায় অবস্থিত। ১৯৭১ সালে আমি তৎকালীন ইসলামীয়া কলেজে একাদশ শ্রেণীতে পড়তাম এবং বাড়ি থেকে কলেজে যাতায়াত করতাম। আমার বাড়ী থেকে কুলুনিয়া গ্রামটি পূর্বদিকে ৬/৭ কিঃমিঃ দূরে। ১৯৭০-৭১ সালে আমার কুলুনিয়া এলাকায় যাতায়াত ছিল। মাওলানা সুবহান সাহেবের বাড়িটি পাবনা শহরের পুরানো টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের সামনে বাজার রোড সংলগ্ন সম্ভবত জায়গাটির নাম ছিল দিলালপুর। এখনও তার বাড়ি আগের স্থানেই আছে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পূর্বে আমাদের এলাকার সম্ভবত এমএনএ ছিলেন মাওলানা সুবহান সাহেব। তখন এমপিএ কে ছিলেন খেয়াল নেই। ১৯৬৮-৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের বিরোধী দলীয় উপনেতা কে ছিলেন তা স্মরণ নেই। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সেলিনা বানুর নাম শুনিনি। তবে তার নাম জানতাম। ১৯৭০ সালে জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন ব্যবসায়ী আমজাদ সাহেব। ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বচানে পাবনা সদর আসনে কে প্রার্থী ছিলেন তা এই মুহূর্তে স্মরণ নেই।
২৬ মার্চ, ১৯৭১ আমার গোপন আস্তানায় চলে যাওয়ার পর ২৮ মার্চ আমরা আবার পাবনা শহরে ফিরে আসি। ইহা সত্য যে, ২৯ মার্চ থেকে ১১ এপ্রিল সন্ধ্যা পর্যন্ত পাবনা শত্রুমুক্ত ছিল। উল্লেখিত সময় স্বাধীনতাকামী জনতার নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন পাবনা জেলা প্রশাসক নূরুল কাদির খান, ওয়াজিউদ্দিন, বেবী ইসলাম, আব্দুর রব, বগামিয়াসহ রফিকুল ইসলাম বকুলসহ অন্যরা ১৯৭১ সালে পাবনা শহর  থেকে জীপগাড়িতে ঈশ্বরদী যেতে ৩০ মিনিট সময় লাগতো।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=152261