২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে ২১ তম সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ ॥ জেরা আজ
১৭ জুলাই ২০১৪, বৃহস্পতিবার,
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ২১তম সাক্ষী শহিদ উল্লাহ শহিদের জবানবন্দী শেষ হয়েছে। গতকাল সাক্ষী ট্রাইব্যুনাল-২ এ তার জবানবন্দী দিয়েছেন গতকাল বুধবার ডিফেন্স পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।  ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই জবানবন্দী রেকর্ড করেন।  গতকাল ডিফেন্স পক্ষে ট্রাইব্যুনালে আরো উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট এস.এম শাহজাহান কবির, এডভোকেট আসাদুল ইসলাম ও  এডভোকেট আবদুস সাত্তার পালোয়ান প্রমুখ। আজ বৃহস্পতিবার সাক্ষীকে জেরা করবেন ডিফেন্স আইনজীবী।
জবানবন্দীর উল্লেখযোগ্য অংশ
আমার নাম মোঃ শহিদুল্লাহ ওরফে শহিদ, পিতা-শহীদ শেখ কোবাদ আলী। আমার বর্তমান বয়স ৬৪ এর কিছু বেশি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল ২০/২১ বছর। আমি বি.এ পর্যন্ত পড়ালেখা করেছি। বর্তমানে আমি ব্যবসা করি। ১৯৭১ সালে আমি পাবনা ইসলামিয়া কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছিলাম। ১৯৬৮ সালে আমি প্রথম এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলাম তবে ১৯৭০ সালে এসএসসি পাস করি।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাবনা শহরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তা-বলীলা শুরু হলে আমি আমার সহপাঠিদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাই। ২৭ মার্চ, ১৯৭১ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী পাবনা পুলিশ লাইন আক্রমণ করে। ঐ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলী হয়। আধা ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলীর পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। ২৮ মার্চ প্রথম প্রহরের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী আবারও পুলিশ লাইন আক্রমণ করে। ২৯ মার্চ, ১৯৭১ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বাকি সদস্যরা বিসিক ক্যাম্প ত্যাগ করে পাকশির দিকে পালানোর এক পর্যায়ে মাধপুর নামক স্থানে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বারা প্রতিরোধের সম্মুখীন হয় এবং সেখানে এক যুদ্ধে মুক্তি বাহিনীর কিছ ুসদস্য শহীদ হন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরা সেখান থেকে ঈশ্বরদী হয়ে গোপালপুর সুগার মিল এলাকায় পৌঁছলে মুক্তিবাহিনী কর্তৃক আক্রমণে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সকল সদস্য নিহত হয় এবং পাবনা পাকিস্তান সেনাবাহিনী মুক্ত হয় এবং ১০ এপ্রিল পর্যন্ত এ অবস্থা অব্যাহত থাকে।
সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে সেই সাদা গাড়ি ও একটি পাকিস্তান আর্মির পিকআপ ভ্যান আনুমানিক রাত ৯টার দিকে আমাদের বাড়ির সমানে আসে এবং আমার বাবাকে গ্রেফতার করে নূরপুর সেনাবাহিনী ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে অমার বাবার উপর অকথ্য নির্যাতন করে। পুলিশ আমার বাবাকে কোর্টে চালান দিলে কোর্ট থেকে আমার বাবা অসুস্থতার গ্রাউন্ডে জামিনে মুক্তি পান। জামিনে মুক্তি পেয়ে বাসায় চিকিৎসারত থাকা অবস্থায় ১৩ অক্টোব, ১৯৭১ মাগরিবের নামায পড়ার জন্য বাড়ির পাশে একটি মসজিদে যান। নামায শেষে তিনি যখন বাসায় ফিরছিলেন তখন বাসা ও মসজিদের মাঝামাঝি একটি জায়গায় রাজাকার ও আল-বদররা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমার বাবাকে আক্রমণ করে ক্ষতবিক্ষত করে নির্মমভাবে হত্যা করে। তখন আমি এবং আমার ছোট ভাই হাবিব চরাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় যুদ্ধরত অবস্থায় আছি। আমাদের সোর্সের মাধ্যমে আমার বাবার এই হত্যাকা-ের খবর পাই। ট্রাইব্যুনালের কাছে আমার পিতার হত্যার বিচার চাই। আমাদের পতাকার লাল বৃত্ত দেখে আমার মনে হয় সেখানে আমার পিতার এক বিন্দু রক্ত রয়েছে। আমার পিতা কোন অপরাধ করেননি। তিনি শান্তশিষ্ট মানুষ ছিলেন। শুধু আমরা দু’ভাই মুক্তিযুদ্ধে যাবার কারণেই তাকে এভাবে প্রাণ দিতে হয়েছে।
 জেরার অংশ বিশেষ
প্রশ্ন : আপনি কি জানেন যে, আপনার পিতার হত্যাকা-ের জন্য মাওলানা সোবহানের বিরুদ্ধে এই ট্রাইব্যুনালে কোন অভিযোগ আনা হয়নি।
উত্তর: আমি জানি আমার পিতার হত্যার জন্য মাওলানা সোবহানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
আমার পিতার হত্যাকা-ের খবর যখন আমার কাছে পৌঁছে তখন আমার ভাই হাবিবুর রহমান আমার সংগে ছিল না, সে অন্যত্র ছিল। আমরা উভয়ে তখন মুক্তিযুদ্ধে ব্যস্ত ছিলাম। পিতার হত্যাকা-ের খবর যখন আমি পাই তখন আমি পাবনা সদর থানার অন্তর্গত রানীনগর চর এলাকায় ছিলাম।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=151933