২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
ফিলিস্তিনিদের রক্ত বৃথা যাবে না
১৫ জুলাই ২০১৪, মঙ্গলবার,
|| ড. মাহবুব উল্লাহ্ ||
প্রকাশ : ১৫ জুলাই, ২০১৪
বর্তমান বিশ্বে মানবাধিকারের স্লোগানটি একটি সর্বজনীন স্লোগানে পরিণত হয়েছে। সব দেশেই কমবেশি মানবাধিকার লংঘিত হয়। কিন্তু ফিলিস্তিনবাসী যে নির্মম মানবাধিকার লংঘনের শিকার, বিশ্বে আর কোথাও সে রকম নজির নেই। অতি সম্প্রতি ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে জবরদখল করে যে ইসরাইলি বসতি স্থাপন করা হচ্ছে, সেখান থেকে তিন তরুণ হারিয়ে যায়। পরে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ইসরাইলিদের অভিযোগ, এ হত্যাকাণ্ডে ফিলিস্তিনিদের হাত রয়েছে। ইসরাইলি সৈন্যরা এক ফিলিস্তিনি তরুণকে পুড়িয়ে হত্যা করে। এ দৃশ্য দেখছিল তারই এক কিশোর জ্ঞাতি ভাই। এ কিশোর মার্কিন নাগরিক। তাকে ইসরাইলি সৈন্যরা বেদম প্রহার করে। আঘাতের ফলে ক্ষতবিক্ষত এ কিশোরের ছবি আমি দেখেছি আল-জাজিরায়। কিশোরটি মার্কিন নাগরিক বিধায় মার্কিন সরকারও নিশ্চুপ থাকতে পারেনি। তারা এ নিষ্ঠুরতার নিন্দা করেছে। ফলে ইসরাইল সরকার তার দোষী সৈন্যদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসার কথা বলেছে। কিন্তু সেই বিচার আদৌ হবে কি-না সে ব্যাপারে প্রচণ্ড সংশয় রয়েছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ব্যাপারটি নিয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু ওই পর্যন্তই।
এরপর শুরু হল গাজায় ইসরাইলিদের বেপরোয়া বিমান হামলা। ইসরাইলিদের দাবি, তারা সময়মতো ওয়ার্নিং দিয়েই বিমান হামলা চালায়। কিন্তু অধিকাংশ সময়ই ওয়ার্নিংটি আসে এক মিনিটেরও কম সময়ে। এর ফলে ইসরাইলি লক্ষ্যভুক্ত ভবন বা আস্তানার লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় পায় না। রকেট হামলায় ভবনগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। মৃত্যুর শিকার হয় ভবনের বাসিন্দারা। অনেকে আহত হয়।
ইসরাইলিদের অভিযোগ, তাদের এ অভিযান হামাস সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে। তারা নাকি এসব সন্ত্রাসীর আস্তানা গুঁড়িয়ে দিচ্ছে, যাতে তাদের অস্ত্র ও লোকবল নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ইসরাইলিদের নির্মম আক্রমণ থেকে একটি প্রতিবন্ধী হাসপাতালও রেহাই পায়নি। ওই হাসপাতালে ইসরাইলি হামলায় দুজন রোগীর মৃত্যু ঘটেছে। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে হাসপাতালটির। সর্বশেষ খবর থেকে জানা যায়, ইসরাইলি হামলার ফলে ১৮০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটের ফলে আহতদের পরিচর্চা ও চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে না।
কী মর্মান্তিক অবস্থা! যারা নিহত বা আহত হচ্ছেন, তারা প্রায় সবাই বেসামরিক নাগরিক। হামাস এ বর্বর হামলার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ইসরাইলে রকেট হামলা চালাচ্ছে। ভূমি থেকে নিক্ষেপিত এ রকেটগুলো নিশানায় পৌঁছতে ব্যর্থ হচ্ছে। কারণ ইসরাইল এ ধরনের রকেট হামলা আকাশেই প্রতিরোধ করতে সক্ষম। রকেট হামলার ফলে দু-চারজন ইসরাইলি আহত বা নিহত হয়েছে। ইসরাইল বলছে, হামাস হাজার হাজার রকেট মজুদ করেছে। তাদের আরও অভিযোগ, হামাস ইরানের কাছ থেকে মধ্যম পাল্লার রকেট সরবরাহ পেতে যাচ্ছিল। কিন্তু ইসরাইলি নৌ সেনারা সময়মতো রকেট বহনকারী ইরানি জাহাজটিকে বাধা দিতে সক্ষম হয়। জাতিসংঘে বর্তমান সংঘাত নিয়ে একটি জরুরি অধিবেশন হয়েছে। এ অধিবেশনে ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি নিজ নিজ পক্ষের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। প্রথমে বক্তব্য হাজির করেন ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি। তিনি ইসরাইলি হামলার ফলে ফিলিস্তিনিদের করুণ দশার কথা তুলে ধরেন। এরপর ইসরাইলি প্রতিনিধি একের পর এক দোষারোপ করতে থাকেন ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসকে। তার দৃষ্টিতে হামাস একটি চরমপন্থী জঙ্গি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন। এ সন্ত্রাসবাদকে নির্মূল করাই ইসরাইলের লক্ষ্য।
হামাস গাজা অঞ্চলের একটি জনপ্রিয় সংগঠন। নির্বাচনে তাদের বিপুল বিজয় হয়েছিল। হামাসের সঙ্গে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) আদর্শগত পার্থক্য রয়েছে। তারা একে অপরের কঠোর সমালোচনা করে। কয়েক মাস আগে হামাস ও পিএলও তাদের অতীতের মতপার্থক্য চাপা দিয়ে একটি ঐকমত্যের ফিলিস্তিন সরকার গঠন করে। এর প্রধান হলেন পিএলও নেতা মাহমুদ আব্বাস। সেই থেকে ইসরাইলের ক্রোধ ও আক্রোশ সব সীমা অতিক্রম করেছে। কারণ ফিলিস্তিনিরা এখন রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ। ফিলিস্তিনিদের অবিসংবাদিত নেতা ইয়াসির আরাফাত জীবিত থাকতেই ইসরাইল ও ফিলিস্তিন দুটি পৃথক রাষ্ট্রের ফর্মুলা মেনে নিয়েছিলেন। ইয়াসির আরাফাতকেও এক সময় সন্ত্রাসবাদী বলা হতো। কারণ তিনি ইসরাইলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের নীতি অনুসরণ করতেন। এক পর্যায়ে তিনি রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে দুই রাষ্ট্র ফর্মুলা মেনে নেন। এর জন্য তাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়। ইয়াসির আরাফাত তার জীবনের শেষ কটি বছর মূলত কূটনৈতিকভাবে ফিলিস্তিনের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করেছেন। বিশ্বের বহু নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন, কথা বলেছেন। বাংলাদেশেও তিনি বেশ কবার এসেছেন। রাষ্ট্রপতি জিয়ার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আরাফাতের নেতৃত্বে প্যালেস্টাইন্স স্টেইট অথোরিটি গঠিত হলেও ফিলিস্তিন একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হতে পারেনি।
হামাস একটি ইসলামপন্থী সংগঠন। এর কর্মী ও সমর্থকরা ত্যাগী ও নিষ্ঠাবান। এরা মনে করে, রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইলের টিকে থাকার কোনো অধিকার নেই। ইতিহাসের যুক্তিতে তাদের এ অবস্থানকে অস্বীকার করা যায় না। ইসরাইল হামাস নেতাদের হত্যা করার জন্য তাদের আবাস ও অবস্থানকে মিসাইলের টার্গেট করেছিল। হামাস নেতারা অনেকে শহীদ হয়েছেন। ইসরাইলের আক্রোশ, কেন মাহমুদ আব্বাস তাদের নিয়ে ঐকমত্যের সরকার গঠন করেছে। হামাসকে যেভাবে ইসরাইলিরা সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করতে চাইছে, তা কতটুকু গ্রহণযোগ্য? দেশের আজাদি ও মুক্তির জন্য জনগণের সমর্থন নিয়ে কোনো সংগঠন যদি সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত হয়, তাকে সন্ত্রাস বলা যায় কি? যেহেতু পশ্চিমা বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে একটি আতংকবোধ কাজ করছে, ইসরাইল এরই সুযোগ নিয়ে বারবার বলার চেষ্টা করছে, হামাস সন্ত্রাসবাদী।
ফিলিস্তিনের জাতীয় দুর্যোগের ইতিহাস সুদীর্ঘ। প্রথম মহাযুদ্ধের আগে মধ্যপ্রাচ্যে জাতিরাষ্ট্র যখন গঠিত হয়নি, তখন ফিলিস্তিনের পৃথক রাজনৈতিক পরিচিতি ছিল না। কিন্তু ফিলিস্তিন নামটি দীর্ঘকাল ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। এক সময় এটা ছিল রোম সাম্রাজ্যের একটি প্রদেশ। দশম শতকে আরব ভূগোলবিশারদরা একে বলতেন ফিলিস্তিন। তখন ফিলিস্তিন ছিল সিরিয়ার একটি প্রদেশ। পঞ্চদশ শতাব্দী থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত ফিলিস্তিন ছিল অটোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্গত। তিনটি একেশ্বরবাদী ধর্মানুসারী যেমন- মুসলমান, ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কাছে এটি ছিল তাদের পবিত্র স্থানের এলাকা। জেরুজালেম, হেব্রন, বেতেলহেম ও নাজারেত ছিল ফিলিস্তিনের পবিত্র সব নগরী। অটোমান সাম্রাজ্যের শেষ সময়ে (১৯১৪) ফিলিস্তিনের জনসংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৫০ হাজার। এদের ব্যাপক অংশ ছিল আরব। এ আরবদের ১০ শতাংশ ছিল খ্রিস্টান। বাকিরা মুসলমান। তবে ৭৫ হাজার ইহুদিও ছিল।
ফিলিস্তিনি আত্মপরিচয়ের উদ্ভব ঘটে দুটি প্রধান রাজনৈতিক ঘটনার ফলে। এর প্রথমটি হল এ অঞ্চলে অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যে ইউরোপের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক হস্তক্ষেপ। এর ফলেই প্রধান প্রধান ইউরোপীয় শক্তি বিশেষ করে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় মধ্যপ্রাচ্য। ফিলিস্তিন লীগ অব নেশনসের ম্যান্ডেটে ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণের চলে যায়। পাশ্চাত্যের এ আগ্রাসনের ফলে এ অঞ্চলে আরব জাতীয়তাবাদ এবং নিখিল আরব জাতীয়তাবাদের উদ্ভব ঘটে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে যে মানচিত্র রচিত হয়, সেই মানচিত্রই এই জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রথম সূত্র।
ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদের বিকাশের পেছনে যে সাংস্কৃতিক কারকটি কাজ করেছে সেটি হল ইহুদিবাদী আন্দোলন। এ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ শাসনের সহায়তায় ইহুদিদের জন্য একটি জাতীয় আবাসভূমি সৃষ্টি করা। ফিলিস্তিনে অটোমান সাম্রাজ্যের আমল থেকেই ক্ষুদ্র আকারে ইহুদি বসতি শুরু হয়েছিল। কিন্তু ব্রিটিশ সরকারের আবাসভূমি নীতির আশ্রয়ে ফিলিস্তিনে ইহুদিদের অভিবাসন, আস্তানা স্থাপন এবং জমি দখল সহজতর হয়। ইহুদিবাদের লক্ষ্য হিসেবে ফিলিস্তিনে ইহুদিদের আবাসভূমি স্থাপনের নীতি গ্রহণ করা হয়। ফলে আরব জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা পদদলিত হয়। অভিবাসনের ফলে ফিলিস্তিনে ১৯২২ সালে ইহুদির সংখ্যা ১১ শতাংশ থেকে ১৯৪৪ সালে এসে ৩০ শতাংশে উন্নীত হয়। তখন ফিলিস্তিনের জনসংখ্যা ১৭ লাখ ৩৯ হাজার ৬২৪। এসব কারণে ফিলিস্তিনে আরব জাতীয়তাবাদের অভ্যুদয় অনিবার্য হয়ে ওঠে। ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ ফিলিস্তিনকে দুটি পৃথক ইহুদি ও আরব রাষ্ট্রে ভাগ করার চেষ্টা করে। কিন্তু আরবরা এ উদ্যোগের বিরোধিতা করে। এর ফলে ইহুদি ও আরবদের মধ্যে গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়। ব্রিটিশরা ফিলিস্তিন থেকে চলে যাওয়ায় প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু ইহুদিরা গায়ের জোরে জাতিসংঘ নির্দেশিত এলাকার বাইরেও তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। ১৯৪৮-১৯৪৯-এর যুদ্ধে নবগঠিত ইসরাইল রাষ্ট্র ফিলিস্তিন বাহিনী এবং প্রতিবেশী আরব রাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করে। রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিন মুছে যায়। ইসরাইল বিরাট এলাকার ওপর নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করে। জর্দান পশ্চিমতীরের ওপর এবং মিসর গাজা অঞ্চলের ওপর দখল প্রতিষ্ঠা করে। ফিলিস্তিনের আরব জনগণের মধ্যে ৭ লাখ মানুষ যুদ্ধ থেকে পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করে। তাদের নিজ আবাসভূমিতে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ দেয়া হয়নি। এদের মধ্যে কেউ কেউ বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্তভাবে পশ্চিমতীর, গাজা এবং পার্শ্ববর্তী আরব দেশগুলোয়, বিশেষ করে লেবানন, সিরিয়া ও জর্দানে আশ্রয় গ্রহণ করে। খোদ ইসরাইলের অভ্যন্তরে ১৯৫০ সালে ১ লাখ ৬০ হাজার ফিলিস্তিনি থেকে গিয়েছিল। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধে আবারও মানচিত্রের পরিবর্তন হয়। এরপর ইসরাইল পুরো জেরুজালেম, পশ্চিমতীর, গাজা ভূখণ্ড এবং গোলান মালভূমি দখল করে নেয়। সমগ্র ফিলিস্তিনে ইসরাইলি দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
এরপরও যুদ্ধ ও কূটনীতি দিয়ে ফিলিস্তিনিরা নিজস্ব অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। এর সামান্য সাফল্য হল গাজা ও পশ্চিমতীরে প্যালেস্টাইন স্টেট অথোরিটি প্রতিষ্ঠিত হওয়া। হাজার হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী একটি জাতিকে কীভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া যায়, তাদের গৃহহারা করা যায়, তাদের পরিচয় মুছে দেয়ার জঘন্য চেষ্টা করা হয়, ফিলিস্তিন তার এক অন্ধকারাচ্ছন্ন দৃষ্টান্ত। ফিলিস্তিনিদের জীবন হারাতে হয়েছে নিজ দেশে এবং প্রবাসী হিসেবে অন্য দেশে যেমন জর্দানের শাতিলা ক্যাম্পে তাদের রীতিমতো জবাই করা হয়েছে। যারা জবাই করেছে, তারাও আরব ও মুসলিম। একবিংশ শতাব্দীতে ইতিহাসের ট্রাজেডি যদি কোথাও থাকে তা আছে ফিলিস্তিনে। ফিলিস্তিনের শিশুরা তাদের জন্য রচিত পাঠ্যবইয়ে পড়ে, পাখিদেরও নীড় আছে কিন্তু আমাদের কোনো নীড় নেই। আধুনিক-সভ্য বিশ্বে এর চেয়ে দুঃখের আর কী হতে পারে!
ষাট ও সত্তরের দশকে ফিলিস্তিনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বহু ইসরাইল ও মার্কিনবিরোধী মিছিলে আমরা অংশ নিয়েছি। আমাদের ক্ষোভ ও বেদনার অন্ত ছিল না। আজ আর তেমনটি দেখা যায় না। তরুণ ও যুবকরা ফিলিস্তিনের কথা ভেবে আন্দোলিত হয় না। ইমাম সাহেবরা জুমার নামাজ ও ঈদের জামাতে কাশ্মির ও ফিলিস্তিনের মুক্তি কামনা করে দোয়া পড়া অনেক কমিয়ে দিয়েছেন। কী বলব! এ যেন কেতনা বদল গেয়া ইনসান। জানি না কবে আমাদের বিবেক জাগ্রত হবে? প্রযুক্তির ফলে দুনিয়ার মানুষ অনেক কাছাকাছি এসেছে। কিন্তু ফিলিস্তিনের দুঃখী মানুষগুলো অনেক দূরে সরে গেছে। হারিয়ে গেছে তারা। এটি কি এ কারণে যে, আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আমাদের ভাগ্যবিধাতা বলে মেনে নিয়েছি? আমাদের স্বার্থপর মন বলে, ওই বিধাতাকে মেনে নাও। না মানলে অনেক ক্ষতির শিকার হতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশি রাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের তেল সম্পদ পাহারা দেয়া ইসরাইলের কাজ। ইসরাইল আণবিক বোমার মালিক। তা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পাশ্চাত্য রাষ্ট্র ইসরাইলের পারমাণবিক বোমা সম্পর্কে কোনো উচ্চবাচ্য করে না। যত দোষ ইরানের। এ দ্বৈততাই কি আন্তর্জাতিক রীতি, আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক নৈতিকতা? এমন দ্বৈততা নিয়ে বিশ্বশান্তি অসম্ভব।
ফিলিস্তিনিরা রক্ত দিচ্ছে। কোনো রক্তই বৃথা যায় না। আজ হোক কাল হোক, ফিলিস্তিনের বিজয় হবেই। সাম্প্রদায়িক জায়নবাদের মৃত্যু ঘটবেই।
ড. মাহবুব উল্লাহ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক
- See more at: http://www.jugantor.com/sub-editorial/2014/07/15/123085#sthash.rNgTIaIp.dpuf