২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
গাজায় বিপর্যস্ত মানবতা
১৪ জুলাই ২০১৪, সোমবার,
গাজার কোন অংশই এখন আর নিরাপদে নেই। জীবন বাঁচাতে বাড়িঘর ছেড়ে পালাচ্ছে মানুষ। ইসরাইলের নৃশংস হামলায় সেখানে পড়ছে লাশের পর লাশ। পবিত্র রমজানে যখন গাজার মুসলমানদের রোজা রেখে আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকার কথা, তখন তারা জীবন নিয়ে ছুটছেন। রোজা রাখা মানুষ মারা যাচ্ছেন ইসরাইলের গোলায়। বাড়িঘর মাটির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। এ অবস্থায় উত্তর গাজা থেকে বেসামরিক লোকজনকে সরে যেতে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরাইল। তারা সেখানে চরম হামলা চালাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে ইসরাইল এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে। শনিবার দিবাগত রাতে হামলায় একই পরিবারের ১৮ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১৬৬ ছাড়িয়ে গেছে। তবে এ সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিবিসি খবর দিয়ে বলেছে, ইসরাইল গাজার উত্তরে বিমান হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইসরাইলের নৌ কমান্ডোরা শনিবার দিবাগত রাতে গাজার ভিতরে ঢুকে এলোপাতাড়ি হামলা চালিয়েছে। বেত লাহিয়া শহরে তারা লিফলেট ছড়িয়েছে। ওদিকে গাজা থেকে ছোড়া রকেট হামলা ঠেকাতে ইসরাইল নির্মাণ করেছে আয়রন ডোম। ফলে গাজা বা ফিলিস্তিন থেকে রকেট হামলা হলেই তা আয়রন ডোম এলাকায় গিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিস্ফোরিত হয়ে নিষ্ক্রিয় হচ্ছে। ইসরাইলের লিফলেট ও সতর্কতার হুঁশিয়ারিতে গাজা ছেড়ে পালাচ্ছে মানুষ। ফিলিস্তিনের সাংবাদিক মোতাসিম এ দৌলা জানিয়েছেন, তার বাড়িতে হামলা হয়েছে। তিনি সেই ছবি পোস্ট করেছেন ফেসবুকে। তাতে দেখা যায়, তার বাড়িটি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এতে তার এক নিকট আত্মীয় নিহত হয়েছেন। শনিবার রাত থেকে গাজা উপত্যকায় স্থল ও আকাশপথে অবিরাম হামলা শুরু হয়েছে। জবাবে উত্তর গাজা থেকে ইসরাইলের দিকে ছোড়া হয়েছে কয়েকটি দীর্ঘ পাল্লার রকেট। ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলেছে, এতে তাদের কমপক্ষে চারজন সেনা আহত হয়েছে। গতকাল স্থলপথে গাজায় হামলা চালানোর সময় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। চলতে থাকে গোলাগুলি। ফিলিস্তিনের যোদ্ধাগোষ্ঠী হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসাম ব্রিগেড গোলাগুলির কথা স্বীকার করেছে। কাসাম ব্রিগেড বলেছে, তাদের যোদ্ধা ও ইহুদি রাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সঙ্গে তীব্র  থেকে তীব্র গোলাগুলি হয়েছে। ইসরাইলি সেনারা গাজার দিকে এগিয়ে আসার চেষ্টা করলে হামাসের যোদ্ধারা তাতে বাধা সৃষ্টি করে। চলতে থাকে গুলিবিনিময়। গতকাল ভোরে ইসরাইল সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। ওই এক রাতেই নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫২ জন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল কাদরা অনলাইন আল জাজিরাকে বলেছেন, রাতে তারাবি নামাজের পরই তোফাহ এলাকায় একটি মসজিদের কাছে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, গাজা উপত্যকায় নতুন করে চালানো হচ্ছে গণহত্যা। রাতে নামাজ আদায় করে মুসল্লিরা যখন মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসছিলেন তখনই সেখানে হামলা চালানো হয়। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে তারা দেখতে পায় তুমুলভাবে গোলা নিক্ষেপ করা হচ্ছে। ওদিকে এ হামলার বিরোধিতা করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ হয়েছে। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সামনে বিক্ষোভ করেছেন কয়েক হাজার মানুষ। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ এ বিক্ষোভে অংশ নেন। নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা আগি স্মিথ বলেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরাইল যে অভিযান শুরু করেছে তাতে আমি বিক্ষুব্ধ। আমি তাদের এই বর্বরোচিত আক্রমণের নিন্দা জানাই। ইসরাইল আসলে শান্তি চায় না। এ সময় ওই এলাকায় নিউ ইয়র্ক পুলিশের ব্যাপক সদস্যকে মোতায়েন করা হয়। তারা বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়ার চেষ্টা করে। ওদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গাজায় ইসরাইলি হামলায় আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের প্রতি। তারা বলেছে, এ হামলায় কমপক্ষে ২৪টি শিশু ও ১৬ জন নারী নিহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিষয়ক অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক ফিলিপ লুথার এক বিবৃতিতে বলেছেন, গাজায় আসল সত্য নিরূপণের জন্য জাতিসংঘকে একটি মিশন তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে ইসরাইল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে কিনা তা তদন্ত করতে হবে। যেহেতু সেখানে এখন জীবন বিপন্ন তাই দ্রুতগতিতে জাতিসংঘকে পদক্ষেপ নিতে হবে। সামরিক অভিযানে কিভাবে একটি বাড়ি ব্যবহৃত হতে পারে সে বিষয়ে যৌক্তিক প্রমাণ তুলে ধরতে হবে ইসরাইলকে। এভাবে বেসামরিক লোকজনের বাড়ির ওপর হামলা আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ। অন্যদিকে সামরিক স্থাপনার বাইরে রকেট হামলাও অবমাননাকর।  জাতিসংঘও এরই মধ্যে গাজা হামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নিন্দা জানিয়েছেন বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ।
http://mzamin.com/details.php?mzamin=MzIxOTY=&s=Mg==