২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে ২০তম সাক্ষীর জেরা শেষ আজ ২১তম সাক্ষীর সাক্ষ্য
১০ জুলাই ২০১৪, বৃহস্পতিবার,
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ২০তম সাক্ষী হোসেন সরদারকে গতকাল বুধবার জেরা শেষ করেছেন ডিফেন্স পক্ষের আইনজীবী। আজ বৃহস্পতিবার মামলার পরবর্তী (২১তম) সাক্ষীর সাক্ষ্য দেয়ার তারিখ নির্ধারণ করেছেন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ  ট্রাইব্যুনাল-২। গতকাল ডিফেন্স  পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মো: মিজানুল ইসলাম, এস এম শাহজাহান কবির, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, আসাদুল ইসলাম। প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন সুলতান মাহমুদ সিমন ও রিজিয়া সুলতানা।
জবানবন্দির উল্লেখযোগ্য অংশ
আমার নাম হোসেন সরদার, পিতা-গেদন সরকার (মৃত), আমার বর্তমান বয়স ১০০ এর কাছাকাছি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল আনুমানিক ৬০ বছর। আমি লেখাপড়া জানি না।
১৯৭১ সালের বাংলা ভাদ্র মাসের শেষের দিকে দেশে যখন যুদ্ধ চলছিল কলিমুদ্দিন খা গোবিন্দ এর চায়ের দোকানে বসে ছিল। তখন সুবহান মাওলানা গাড়ি নিয়ে এসে সেখানে থামে। সামাদ রাজাকারকে ডেকে নিয়ে কলিমুদ্দিন খাকে ধরে রাজাকার ক্যাম্পে ঢোকায়। সন্ধ্যার দিকে কলিমুদ্দিনকে পাবনায় নিয়ে যায়। পরদিন নইমুদ্দিন খা কলিমুদ্দিন খাকে খোঁজাখুঁজি করছিল। নিজামুদ্দিন খা ও আক্কাস নইমুদ্দিন খার বাড়িতে আসে। তারা এক সংগে কলিমুদ্দিন খাকে খোঁজার জন্য কুচিয়ামারার দিকে যায় তাদের পিছু পিছু আমিও যাই। কুচিয়ামারা হিন্দুদের পূজা করার স্থানে পৌঁছালে গাড়ির শব্দ শুনতে পাই। আমরা লুকিয়ে থাকি। দেখতে পাই সুবহান মাওলানা সংগীয় রাজাকারদেরকে নিয়ে কলিমুদ্দিনকে একটি দালানের ভিতরে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর ধাম ধাম করে কয়েকটি গুলীর শব্দ শুনতে পাই। গুলীর শব্দের পর গাড়ি সুবহান মাওলানাকে নিয়ে পাবনার দিকে চলে যায়। গাড়ি চলে যাবার পর আমরা পূজার স্থলে যাই, সেখানে গিয়ে ৩টি লাশ পড়ে থাকতে দেখি। কলিমুদ্দিন খার লাশ নিয়ে আমরা জানের ভয়ে তাড়াতাড়ি সেখান থেকে শ্রীকোল গ্রামে আমার বাড়িতে চলে আসি এবং তাকে তার ভাই নইমুদ্দিন খার ভিটায় দাফন করি। মাওলানা সুবহান সাহেবকে পূর্ব থেকেই চিনতাম। এখন চোখ ঘোলা হয়ে গিয়েছে কাছের মানুষকে ভালভাবে দেখতে পাই না। তদন্তকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা আমার বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
জেরার উল্লেখযোগ্য অংশ       
প্রশ্ন: আপনি কি গোবিন্দ এর দোকানে গিয়েছিলেন?
উত্তর: আমি কলিমুদ্দিনের লাশ নিয়ে যেদিন শ্রীকোল গ্রামে আসি তার আগের দিন গোবিন্দ এর দোকানে যাইনি।
প্রশ্ন: দোকানটি কোথায় ছিল?
উত্তর: গোবিন্দ এর দোকানটি দুবলিয়া। কলিমুদ্দিনকে পাবনায় কোথায় নিয়ে গিয়েছিল তা জানি না, তবে শুনেছিলাম তাকে পাবনায় নিয়ে গিয়েছিল।
প্রশ্ন: আপনি পাবনায় কবে গিয়েছিলেন?
উত্তর: ১৯৭১ বা তার পূর্বে কখনও পাবনায় যাইনি। শ্রীকোল গ্রাম থেকে পাবনা কত দূরে তা বলতে পারবো না। ইহা সত্য যে, শ্রীকোল গ্রাম থেকে পাটোয়া, দুবলিয়া বাজার কোলদি, লালদহ, খয়েরসুতি প্রভৃতি পার হয়ে পাবনায় যেতে হতো। ৭১ সালের পূর্বে আমি কুচিয়ামোড়া গিয়েছি। ইহা সত্য যে, কুচিয়ামোড়া গ্রামটি শ্রীকোলের উত্তরে। ইহাও সত্য যে, শ্রীকোল গ্রামের লাগা উত্তরের গ্রামটি চরহাপানিয়া, তার উত্তরে নন্দনপুর তার উত্তরে শাখারী পাড়া, তার উত্তরে কাঁঠাল বাড়িয়ার উত্তরের গ্রামের নাম মনে নেই। কাঁঠাল বাড়িয়া থেকে আনুমানকি উত্তর দিকে ২ মাইল দূরে কুচিয়ামোড়া গ্রাম।
জেরার জবাবে সাক্ষী আরো বলেন, মাওলানা সুবহান সাহেবকে দুবলিয়া হাটে বাজারে গেলে দেখতে  পেতাম। তিনি গাড়ি দিয়ে আসা-যাওয়া করতেন, শুনেছি তার শ্বশুর বাড়ি কোলাদি গ্রামে। আমি ঐ জায়গাটি দেখিনি মাওলানা সুবহানকে আমি যুদ্ধের আগেও দেখেছি, পরেও দেখেছি। ১৯৭১ সালে যুদ্ধের আগে মাওলানা সুবহান কি করতো তা বলতে পারবো না। শুনেছি মাওলানা সুবহান সাহেবের বাড়ী পাবনা। যুদ্ধের আগের বছরের নির্বাচন সম্পর্কে আমার তেমন কিছু স্মরণ নেই।
প্রশ্ন: মন্দির সম্পর্কে কোন ধারণা কি আপনার আছে?
উত্তর: মন্দির সম্পর্কে ধারণা আছে এটি হিন্দুদের পূজার স্থান। শাখারী পাড়ায় মন্দির আছে কিনা আমি জানি না। চরহাপানিয়া বিভিন্ন সময় কাজের প্রয়োজনে গিয়েছি। কাঁঠাল বাড়িয়ায় কখনও যাইনি। রাজাকার সম্পর্কে আমার ধারণা আছে এরা ১৯৭১ সালে মানুষের বাড়ি-ঘর থেকে গরু বাছুর নিয়ে যেতো। ইহা সত্য যে, আমার স্মরণ শক্তি কমে গেছে, ১৯৭১ সালে কখন কি ঘটেছে তা সঠিকভাবে বলতে পারবো না। জবানবন্দীতে যা বলেছি তা কেউ শিখিয়ে দেয়নি। তদন্ত কর্মকর্তা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২ দিন গিয়েছিল, তবে কতদিন আগে গিয়েছিল তা স্মরণ নেই। ইহা সত্য যে, (বর্ণিত সকল ঘটনা আমি আই.ও.কে বা অন্য কাউকে বলিনি, ট্রাইব্যুনালে আজ প্রথম বল্লাম) টু কোর্ট ঃ (আদালতের জিজ্ঞাসায়)
আপনি আজ ট্রাইব্যুনালের সামনে যে সব বিষয়ে বললেন তা ইতঃপূর্বে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে বলেছিলেন কিনা?
উত্তর ঃ তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে আমি কিছু কথা বলেছি তিনি লিখেছেন এবং তাকে কলিমুদ্দিনের কবর দেখিয়েছি তবে কি বলেছিলাম তা সব এখন স্মরণ করতে পারি না।  ইহা সত্য নয় যে, আমি মাওলানা সুবহানকে জড়িয়ে অসত্য সাক্ষ্য দিলাম। 
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=151290