৬ ডিসেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
আজহারুল ইসলামের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার জেরা অব্যাহত: আমার ডিকটেশন মতো কম্পিউটার অপারেটর সুমন সাক্ষীদের জবানবন্দী টাইপ করে
৪ জুলাই ২০১৪, শুক্রবার,
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনীত ১৯৭১ সালের কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সরকার পক্ষের ১৯তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দী প্রদানকারী তদন্ত কর্মকর্তা এস এম ইদ্রিস আলীর জেরা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ৫ম দিনের মত তাকে জেরা করার পর কোর্ট মুলতবি করা হয়। আগামী রোববার পুনরায় তাকে জেরা করা হবে। জেরা করেন আজহারুল ইসলামের আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার। জেরায় তদন্ত কর্মকর্তা স্বীকার করেন যে,এই মামলার তদন্তকালে সাক্ষীর প্রদত্ত জবানবন্দী তার ডিক্টেশন মোতাবেক কম্পিউটার অপারেটর টাইপ করেছেন। তিনি বলেন,সাক্ষীর প্রদত্ত জবানবন্দী আমার নির্দেশে (ডিক্টেশনে) কম্পিউটার অপারেটর সুমন মিয়া টাইপ করে। ইহা সত্য নয় যে, আমার ডিক্টেশনে কম্পিউটার অপারটর সুমন মিয়া সাক্ষীর জবানবন্দী টাইপ করেনি।
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে অপর দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গতকাল বৃহস্পতিবার এটিএম আজহারুল ইসলামের মামলায় সরকার পক্ষের সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপিত ১৯ নং সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তার পঞ্চম দিনের জেরা অনুষ্ঠিত হয়।  জেরায় এডভোকেট আব্দুস  সোবহান তরফদারকে সহায়তা করেন এডভোকেট রায়হান উদ্দিন। অপরদিকে সরকার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর আলতাফ উদ্দিন,তাপস কান্তি বল, রেজিয়া সুলতানা চমন প্রমুখ।
গাজীপুরস্থ কাশিমপুর-২ কারাগারে আটক এটিএম আজহারুল ইসলামকে এ উপলক্ষে গতকাল সকালে আনা হয় ট্রাইব্যুনালে। তদন্ত কর্মকর্তার জেরাকালে তিনি এজলাস কক্ষের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
গতকালের জেরার বিবরণ নি¤œরূপ
সাক্ষীর প্রদত্ত জবানবন্দী আমার নির্দেশে (ডিক্টেশন) কম্পিউটার অপারেটর সুমন মিয়া টাইপ করে। ইহা সত্য নহে যে, আমার ডিক্টেশনে কম্পিউটার অপারেটর সুমন মিয়া টাইপ করেন নাই। ইহা সত্য নহে যে, আইনের ব্যত্যয় ঘটাইয়া আমি সাক্ষীদের জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করিয়াছি।
সাক্ষী মোস্তাফার বাড়ির দক্ষিণে ঘটনার সময় খালি ও ফসলি জায়গা ছিল, যাহার অনুমান ২০/৩০ গজ দূরে ঢাকাইয়া মানিউল্লাহর বাড়ি ছিল, উত্তর পাশে ঘটনার সময় অনুমান ২০/৩০ গজ দূরে মজিবুল হকের বাড়ি ছিল। ইহা সত্য যে, উল্লেখিত বাড়িগুলোর কোন লোককে আমি জিজ্ঞাসাবাদ করি নাই, কেননা ঐ বাড়িগুলি বর্তমানে নাই।
কাছনা গ্রামের কোন লোকজনকে আমি জিজ্ঞাসাবাদ করি নাই (১)। কাছনা গ্রামটি ৫নং তপোধন ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল। আমি উক্ত ইউনিয়নের কাউকে ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করি নাই। কারণ ঐ ইউনিয়নের কোন লোক সাক্ষ্য দিতে রাজি হয় নাই।’ রংপুর টাউন হল থেকে কাছনা গ্রামটি আনুমানিক ৫/৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বদিকে অবস্থিত। রংপুর থেকে কাছনা গ্রামে যাওয়ার জন্য পাকা রাস্তা ছিল। উক্ত পথে জামিল সিগারেট কোম্পানী নামে একটি ফ্যাক্টরি ছিল। টাউন হল থেকে জামিল সিগারেট ফ্যাক্টরির দূরত্ব কত হবে সঠিক বলতে পারব না, তবে কাছনা গ্রাম ও টাউন হলের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত। ১৯৭১ সালে ঘটনার সময় মোস্তাফা মিয়ার বাবা, মা ও ভাই বাড়িতে ছিল। ইহা সত্য নহে যে, মোস্তাফা মিয়া বাবা, মা ও ভাইসহ বসবাস করতেন না।
রংপুর সার্কিট হাউজ হতে কাছনা গ্রামটি উত্তর-পূর্ব দিকে আনুমানিক ৬ কিলোমিটার দূরে। ০৭-০৫-২০১২ ইং তারিখের পূর্বে আমি কোন সাক্ষীর জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করি নাই। সাক্ষী মোস্তাফা মিয়াকে ০৭-০৫-২০১২ ইং তারিখের পূর্বে চিনতাম না, তবে সোর্সের মাধমে আমি জানতাম যে তারা ভিকটিম। এই মামলার তদন্তকালে সাক্ষী মোস্তাফা মিয়ার বাড়িতে আমি একবার গিয়েছিলাম ১৮-০৫-২০১৩ ইং তারিখে। ঘটনার সময় সাক্ষী মোস্তফা মিয়া কোথায় ছিল এবং তার স্ত্রী পিডব্লিউ-১ মনছুরা খাতুন কত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল তাহা আমি তদন্তে অবহিত হই।। সাক্ষী মোস্তাফা মিয়ার জবানবন্দী রেকর্ড করার সময় আমি তার ছবি এবং জন্ম তারিখ সংগ্রহ করেছি। সাক্ষী মোস্তাফা মিয়ার জন্ম তারিখ ০১-০১-১৯৩৮ ইং, তার জাতীয় সনদপত্র অনুযায়ী। মনছুরা খাতুনের জন্ম তারিখ ০১-০১-১৯৪৫ ইং জাতীয় সনদপত্র অনুযায়ী এবং তার ছবি আমি সংগ্রহ করিয়াছি, ১৯৭১ সালের মে মাসে সাক্ষী মনছুরা খাতুন দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল সেই মর্মে আমি তদন্তে অবহিত হই। সাক্ষী মোস্তাফা মিয়ার জবানবন্দী আমি লিপিবদ্ধ করিয়াছি। ইহা সত্য নহে যে, ১৯৭১ সালের মে মাসে মনছুরা দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল না, ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। কাছনা গ্রাম এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের কোন লিস্ট আমি সংগ্রহ করি নাই। আমি আমার তদন্তকালে কাছনা গ্রাম কিংবা রংপুর জেলার বীরাঙ্গনাদের তারিকা সংগ্রহ করি নাই। পিডব্লিউ-১ মনছুরা খাতুন যে বীরাঙ্গনা এবং পিডব্লিউ-২ মোস্তাফা মিয়া যে মুক্তিযোদ্ধা সেই বিষয়ে আমি তদন্ত কেরছি এবং তথ্য পেয়েছি যাহা আমার কেস ডায়রীতে লিপিবদ্ধ আছে।
আমি রংপুর জেলার বীরাঙ্গনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংগ্রহের চেষ্টা করেছি কিন্তু পাই নাই বিধায় তাহা ট্রাইব্যুনালে দাখিল করি নাই। ইহা সত্য নহে যে, মনছুরা খাতুন যে বীরাঙ্গনা এবং মোস্তাফা মিয়া যে মুক্তিযোদ্ধা সেই বিষয়ে কেস ডায়রীতে উল্লেখ নাই। রংপুর জেলার বীরাঙ্গনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকার একটি গেজেট প্রকাশিত হয়েছে কিনা তাহা আমার সঠিক জানা নাই। রামকৃষ্ণপুর বদরগঞ্জ থেকে কাছনা তকিয়ার পাড় গ্রামটির দূরত্ব বলতে পারব না। রংপুর টাউন হল থেকে বদরগঞ্জ থানার দূরত্ব আনুমানিক ২০ মাইল পশ্চিম দিকে। পিডব্লিউ-৮ মজিবর রহমান মাস্টারের বাড়ি কুতুবপুর খেয়ারপাড়া, বদরগঞ্জ হতে কাছনা তকিয়ার পাড় গ্রামটির দূরত্ব বলতে পারব না। পিডব্লিউ-৮ মজিবুর রহমান মাস্টার কাছনা তকিয়ার পাড়ের ঘটনার সময় ভারতে ছিলেন। ১ নাম্বার অভিযোগের ঘটনাস্থল পাঁচটি যথাÑ ধাপ ইঞ্জিনিয়ার পাড়া, মুন্সীপাড়া, বাবুপাড়া, রংপুর ক্যান্টনমেন্ট এবং দখিগঞ্জ শ্মশানঘাট। ধাপ ইঞ্জিনিয়ার মুন্সীপাড়া, বাবুপারা ও রংপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে দখিগঞ্জ শ্মশান ঘাটের কোতোয়ালী থানা হতে দখিগঞ্জ শ্মশানের দূরত্ব দুই কিলোমিটার পূর্ব দিকে, কোতোয়ালী থানা হতে দখিগঞ্জ শ্মশানের দূরত্ব দুই কিলোঃ পূর্ব দিকে এবং কোতোয়ালী থানা থেকে ধাপ ইঞ্জিনিয়ার পাড়া তিন কিলোঃ উত্তর দিকে, মুন্সীপাড়া ১ কিলোঃ পশ্চিমে, বাবুপাড়া আনুমানিক ৪ কিলোঃ দক্ষিণ পূর্বে এবং রংপুর ক্যান্টনমেন্ট আনুমানিক ২ কিলোঃ পশ্চিম দিকে।
আসামী এটিএম আজহারুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি বাতাসন লোহারী পাড়া। বদরগঞ্জ হতে ঐ পাঁচটি ঘটনাস্থল দমদমা ব্রিজ এবং রংপুর শহরের গুপ্তপাড়ার দূরত্ব আমি পরিমাপ করি নাই। তবে রংপুর কোতোয়ালী থানা হতে দমদমা ব্রীজ আনুমানিক ৭/৮ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং রংপুর শহরের গুপ্তপাড়া আনুমানিক আধা কিলোমিটার পূর্ব দিকে। দখিগঞ্জ শ্মশানের উত্তরে শ্মশান রোড এবং তৎসংলগ্ন পাট গবেষণা কেন্দ্র, দক্ষিণে ফাঁকা জায়গা আনুমানিক ৩০০ গজ দূরে তাঁতীপাড়া, পূর্ব দিকে রেশম বোর্ডের বাগান এবং পশ্চিমে খাল ছিল। ১৯৭১ দখিগঞ্জ শ্মশান ঘাটের আশেপাশে বাড়িঘর ছিল কিনা তাহা নিরূপণ করি নাই। পিডব্লিউ-৪ মেছের উদ্দিন ও পিডব্লিউ-৮ মজিবুর রহমান মাস্টার বাড়ি হতে দখিগঞ্জ শ্মশান ঘাটের দূরত্ব কত তাহা সঠিক বলতে পারব না, তবে রংপুর হতে বদরগঞ্জের দূরত্ব আনুমানিক ২০/২৫ কিলোমিটার এবং রংপুর কোতয়ালী থানা হতে দখিগঞ্জ শ্মশান ঘাটের দূরত্ব দুই কিলোমিটার পূর্ব দিকে। দখিগঞ্জ শ্মশান ঘাটের আশেপাশের লোকজন মামলায় সাক্ষ্য দিতে আগ্রহী না হওয়ায় তাদের কাউকে এই মামলায় সাক্ষী করা হয় নাই। ১৯৭১ সালের ২৮শে মার্চ তারিখে স্থানীয় লোকজন রংপুর ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও করে তা আমি তদন্তে পাই।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=150715