৬ ডিসেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
তদন্ত কর্মকর্তার জেরায় বেরিয়ে পড়েছে আসল তথ্য: স্পেশাল ব্রান্সের তথ্য তালিকায় ১৯৭১ সালের গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ লুটপাটের সাথে আজহারুল ইসলামের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি
৩ জুলাই ২০১৪, বৃহস্পতিবার,
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনীত ১৯৭১ সালের কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সরকার পক্ষের ১৯তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দী প্রদানকারি তদন্ত কর্মকর্তা এস এম ইদ্রিস আলীর জেরা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বুধবার ৪র্থ দিনের মত তাকে জেরা করার পর কোর্ট মুলতবি করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার পুনরায় তাকে জেরা করা হবে। আজকের মধ্যে আইওর জেরা শেষ করতেও বলেছেন ট্রাইব্যুনাল। জেরাকালে গতকাল বুধবারও পূর্বদিনের মত আজহারুল ইসলামের আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার তীব্র বাধার সম্মুখিন হন সরকার পক্ষের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে। মামলায় মৃত ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে দেখানো যায় কিনা জেরাকালে এমন প্রশ্ন করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস্ আইনে মৃত ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসাবে দেখানো যাবে কিনা সে বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে কোন কিছু উল্লেখ নাই । প্রদর্শনী-২৩/১ যা হতে প্রতীয়মান যে, আসামী এটিএম আজহারুল ইসলাম ১৯৭১ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় একজন প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসাবে রংপুর কারমাইকেল কলেজ হতে পরীক্ষা দেয়ার আবেদন করেন ১৪-০১-১৯৭১ যার সেশন ছিল ১৯৭০-৭১। তিনি বলেন, আসামীর বিরুদ্ধে উল্লেখিত নয়টি মামলা রাজনৈতিক মামলা কি না তা আমার জানা নাই। তিনি বলেন, প্রদর্শনী-২৫ স্পেশাল ব্রান্স থেকে দেয়া তথ্য তালিকায় ৭(গ) অনুচ্ছেদ উল্লেখ আছে যে, ১৯৭১ সালের গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের মত কার্যক্রমে আসামী জড়িত থাকা মর্মে তথ্য পাওয়া যায় নাই। তদন্ত কর্মকর্তার জেরায় বেরিয়ে আসছে এসব আসল তথ্য।
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে অপর দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গতকাল বুধবার এটিএম আজহারুল ইসলামের মামলায় সরকার পক্ষের সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপিত ১৯ নং সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তার চতুর্থ দিনের জেরা অনুষ্ঠিত হয়। জেরায় এডভোকেট আব্দুস সুবহান তরফদারকে সহায়তা করেন এডভোকেট রায়হান উদ্দিন। অপরদিকে সরকার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর আলতাফ উদ্দিন, তাপস কান্তি বল, রেজিয়া সুলতানা চমন প্রমুখ।
গাজীপুরস্থ কাশিমপুর-২ কারাগারে আটক এটিএম আজহারুল ইসলামকে এ উপলক্ষে গতকাল সকালে আনা হয় ট্রাইব্যুনালে। তদন্ত কর্মকর্তার জেরাকালে তিনি এজলাস কক্ষের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তার গতকালের জেরায় রেকর্ডকৃত তথ্য নি¤œরূপ :
উপরে উল্লেখিত আসামীর বিরুদ্ধে নয়টি মামলা রাজনৈতিক মামলা কি না তাহা আমার জানা নাই।
প্রদর্শনী-২৫ তথ্য তালিকায় ৭(গ) অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে যে, ১৯৭১ সালের গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের মত কার্যক্রমে আসামী জড়িত থাকা মর্মে তথ্য পাওয়া যায় নাই। স্পেশাল ব্রাঞ্চের যে কর্মকর্তা উপরোক্ত তথ্য তালিকাটি তদন্ত সংস্থায় প্রেরণ করেন তাকে এই মামলায় সাক্ষী করি নাই। উক্ত তথ্য তালিকার প্রতি পাতায় আমার স্বাক্ষর ও সীল থাকলেও তারিখ নাই। প্রদর্শনী-২৩/১ যা হতে প্রতীয়মান যে, আসামী এটিএম আজহারুল ইসলাম ১৯৭১ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় একজন প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসাবে রংপুর কারমাইকেল কলেজ হতে পরীক্ষা দেওয়ার আবেদন করেন ১৪-০১-১৯৭১ যার সেশন ছিল ১৯৭০-৭১। প্রাইভেট পরীক্ষা ও নিয়মিত ছাত্র হিসাবে পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে পার্থক্য থাকতে পারে। প্রদর্শনী-২৩ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় এডমিট কার্ডে রেজিস্ট্রেশন নাম্বার পি-২২২৪, সেশন ১৯৭১-৭২ উল্লেখ আছে। প্রদর্শনী-২৩/১ এ ইলেকটিভ সাবজেক্ট হিসাবে ইকোনমিক্স, সিভিক্স এবং ইসলামী হিস্ট্রি উল্লেখ আছে। এই সমস্ত সাবজেক্ট কলা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত তাহা আমি জানি। এই মামলার ঘটনাসমূহের তারিখ ২৪শে মার্চ ১৯৭১ হতে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ পর্যন্ত।
ইহা সত্য নহে যে, আমি ১৯-০৯-২০১১ ইং হতে ১৬-০৮-২০১২ ইং তারিখ পর্যন্ত আসামীর অবস্থান সম্পর্কে অবগত ছিলাম। প্রদর্শনী-২৫ এর ৮(গ) অনুচ্ছেদ উল্লেখ আছে, আসামী ১৯-০৯-২০১১ ইং তারিখ বড় মগবাজারের এ্যালিফেন্ট রোড হতে গ্রেফতার হয় এবং পরবর্তীতে আদালত হতে জামিনপ্রাপ্ত হলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার হতে ২০-০৩-২০১২ ইং তারিখে মুক্তি পেলে ঐ একই তারিখে তাকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয় এবং ১৬-০৮-২০১২ ইং  তারিখে আবারো জামিন লাভ করেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারী পরোয়ানা অনুযায়ী তাকে ২২-০৮-২০১২ ইং তারিখে গ্রেফতার করা হয়। তবে উপরোক্ত তথ্যটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থায় ১৭-০৯-২০১২ ইং তারিখে অবহিত করা হলে আমি অবহিত হই।
ইহা সত্য নহে যে, ১৭-০৯-২০১২ ইং তারিখের পূর্বেই আমি জানতাম যে, এই মামলার আসামী কারাগারে আটক আছে। ইহা সত্য নহে যে, আমি অবহিত ছিলাম যে, ১৬-০৮-২০১২ ইং তারিখে এই আসামী জামিনে মুক্তি পায়। ইহা সত্য নহে যে, আসামী ১৬-০৮-২০১২ ইং তারিখে জামিনে মুক্তি লাভের বিষয়টি জেনেই ২১-০৮-২০১২ ইং তারিখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আসামীকে গ্রেফতারের জন্য আবেদন করি। আসামী গ্রেফতার হওয়ার পরে আমি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময়ের কোন আবেদন করি নাই, তবে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে ০৬ বার ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন দিয়েছি। আমি ০৪-০৭-২০১৩ ইং তারিখে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করি যাহাতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভবিষ্যতে আসামীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সাক্ষ্য ও দালিলিক প্রমাণাদি পাওয়া গেলে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য বিজ্ঞ চীফ প্রসিকিউটর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা বরাবরে দাখিল করব। আমি জানি যে, প্রতিবেদন দাখিলের পরে পুনরায় তদন্ত করার কোন বিধান নাই কিন্তু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৯(৪) ধারায় উল্লেখ করা আছে যে অতিরিক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহে কোন বাধা নাই। ইহা সত্য নহে যে, সংশ্লিষ্ট আইনের ব্যত্যয় ঘটাইয়া মামলার তদন্ত কার্য সম্পন্ন করি। প্রসিকিউশন কর্তৃক ফরমাল চার্জ তৈরির বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনের সহিত দাখিলকৃত বিভিন্ন দালিলিক প্রমাণাদি সম্পর্কে প্রসিকিউশনে জানতে চাইলে আমি সহায়তা করি। আমি ২৭ জন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করি ও তাদের জবানবন্দী রেকর্ড করি। এছাড়াও আরো ২৩ জন ব্যক্তিকে আমি জিজ্ঞাসাবাদ করেছি কিন্তু তাদের জবানবন্দী রেকর্ড করি নাই। তদন্ত প্রতিবেদনে এই ২৩ জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করি নাই।
পিডব্লিউ- ৬ মকবুল হোসেনকে ১৮-০৫-২০১৩ ইং রংপুর সার্কিট হাউজে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করি। পিডব্লিউ- ৩ মোখলেছুর রহমান সরকারকে ০৭-০৫-২০১২ ইং তারিখে রংপুর সার্কিট হাউজে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করি এবং পুনরায় ১৮-০৫-২০১২ ইং তারিখে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করি কিন্তু ঐ দিন তার জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করি নাই। পিডব্লিউ- ৮ মজিবুর রহমান মাস্টারকে ২৪-০৯-২০১২ ইং তারিখে বদরগঞ্জ ডাক বাংলোতে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করি। পিডব্লিউ- ১০ রতনচন্দ্র দাসকে ০৪-০১-২০১৩ ইং তারিখে রংপুর সার্কিট হাউজে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করি। পিডব্লিউ- ১১ সাখাওয়াত হোসেন ওরফে রাঙ্গা, পিডব্লিউ- ১২ রফিকুল হাসান নান্নু ও পিডব্লিউ- ১৩ এডভোকেট রথিশচন্দ্র ভৌমিক ২৪-০৯-২০১২ ইং তারিখে রংপুর এসোর্ট রেস্ট হাউজে জিজ্ঞাসাবাদ করে জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করি। ০৩-০৫-২০১২ ইং তারিখের সিজার লিষ্টের সাক্ষী হিসেবে পিডব্লিউ- ১৪ সজল মাহমুদ এবং পিডব্লিউ- ১০ মোঃ আকরাম হোসেনকে সাক্ষী হিসেবে মান্য করি। পিডব্লিউ - ১৭ তপনকুমার অধিকারীকে রংপুর দখিগঞ্জ শ্মশানে ১৮-০৫-২০১৩ ইং তারিখে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করি। পিডব্লিউ- ১৮ মোঃ এজাব উদ্দিন মিয়াকে ১৭-১০-২০১২ ইং এবং ০৬-০৪-২০১৪ ইং তারিখে সিজার লিস্টের সাক্ষী হিসেবে মান্য করি। আমি ২১-০৮-২০১২ ইং তারিখের পূর্বে ০৬-০৫-২০১২ ইং একবার এবং ঐ তারিখের পর তদন্তের কাজে দুইবার ২২-০৯-২০১২ এবং ১৭-০৫-২০১৩ ইং তারিখে রংপুর যাই। ঐ তারিখসমূহ ছাড়া মামলার তদন্তের কাজে আমি আর রংপুর যাই নাই। আমি ২২-০৯-২০১২ ইং তারিখ হইতে ২৫-০৯-২০১২ ইং তারিখ এবং ১৭-০৫-২০১২ ইং তারিখ হইতে ১৯-০৫-২০১৩ ইং তারিখ পর্যন্ত তদন্তের কাজে রংপুরে অবস্থান করি।
প্রশ্ন ঃ- মৃত ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে তদন্ত প্রতিবেদনে দেখানো যায় কিনা?
উত্তর ঃ- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস্ আইনে মৃত ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসাবে দেখানো যাবে কিনা সে বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে কোন কিছু উল্লেখ নাই।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=150623