১১ ডিসেম্বর ২০১৯, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে একজন তদন্ত কর্মকর্তা তার বোনকে সাক্ষী বানিয়েছেন
১ জুলাই ২০১৪, মঙ্গলবার,
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনিত ১৯৭১ সালের কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সরকার পক্ষের ১৯তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দী প্রদানকারী তদন্ত কর্মকর্তা এস এম ইদ্রিস আলীর জেরা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো তাকে জেরা করার পর কোর্ট মূলতবি করা হয়। আজ মঙ্গলবার পুনরায় তাকে জেরা করা হবে। জেরাকালে গতকাল সোমবারও পূর্বদিনের মতো আজহারুল ইসলামের আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার তীব্র বাধার সম্মুখীন হন। আসামীকে আটকের সময় যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা এবং অন্য মামলার একজন তদন্ত কর্মকর্তা এই মামলার তদন্তকালে নিজের বোনকে সাক্ষী বানানো নিয়ে প্রশ্ন করার বিষয়াদি নিয়ে চলে দিনভর বিতর্ক। প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম ও তাপস কান্তি বল উপর্যুপরি বাধার সৃষ্টি করেন। বার বার জেরায় বাধা দেয়ায় এ নিয়ে কয়েক দফা বিতর্ক চলতে থাকে এবং জেরা রেকর্ডিং বন্ধ হয়ে পড়ে। জেরায় তদন্ত কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী বলেন, আমার তদন্তে সহায়তা করার জন্য আমার সঙ্গে অন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সত্য রঞ্জন রায়, এস.এই আকরাম হোসেন, ক্যামেরাম্যান প্রবীর ভট্টাচার্য এবং কম্পিউটার অপারেটর সুমন মিয়া ছিল। সত্য রঞ্জন রায় এই মামলার সাক্ষী শোভা করের ভাই। ঐ সময় সত্য রঞ্জন রায় কোন মামলার তদন্ত করছিলেন তা আমার স্মরণ নাই।
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে অপর দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গতকাল সোমবার এটিএম আজহারুল ইসলামের মামলায় সরকার পক্ষের সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপিত ১৯ নং সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তার দ্বিতীয় দিনের জেরা অনুষ্ঠিত হয়। আজ মঙ্গলবার পুনরায় তাকে জেরা করা হবে। জেরায় এডভোকেট আব্দুস সুবহান তরফদারকে সহায়তা করেন এডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির, রায়হান উদ্দিন, মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন প্রমুখ। অপরদিকে সরকার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম, আলতাফ উদ্দিন, তাপস কান্তি বল, রেজিয়া সুলতানা চমন প্রমুখ।
গাজীপুরস্থ কাশিমপুর-২ কারাগারে আটক এটিএম আজহারুল ইসলামকে এ উপলক্ষে গতকাল সকালে আনা হয়  ট্রাইব্যুনালে। তদন্ত কর্মকর্তার জেরাকালে তিনি এজলাস কক্ষের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তার গতকালের জেরা নি¤œরূপ :
২১-০৮-২০১২ ইং তারিখের পূর্ব পর্যন্ত আমি আসামীর অবস্থান সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেই নাই, তদন্তের মধ্যে আমার কার্যক্রম সীমাবদ্ধ ছিল। ইহা সত্য নহে যে, আসামীর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে আমি ২১-০৮-২০১২ ইং তারিখে তাকে গ্রেফতারের জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করি। তদন্তের বিষয়ে ১৫-০৪-২০১২ ইং তারিখে কেস ডায়রি খোলা হয়। ১৫-০৪-২০১২ ইং তারিখে আমার উপর মামলার তদন্তভার ন্যস্ত হলে আমি তদন্তভার গ্রহণপূর্বক তা কেস ডায়রিতে লিপিবদ্ধ করি এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু করি। আমি ঐ দিন তদন্তকাজে তৎপর থাকিয়া কেস ডায়রি বন্ধ করি। গত ০৬-০৫-২০১২ ইং তারিখ সকাল ০৮.০৫ ঘটিকার সময় এই মামলার তদন্তের জন্য রংপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করি। আমার তদন্তে সহায়তা করার জন্য আমার সঙ্গে অন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সত্য রঞ্জন রায়, এস.এই আকরাম হোসেন, ক্যামেরাম্যান প্রবীর ভট্টাচার্য এবং কম্পিউটার অপারেটর সুমন মিয়া ছিল। সত্য রজন রায় এই মামলার সাক্ষী শোভা করের ভাই। ঐ সময় সত্যরঞ্জন রায় কোন মামলার তদন্ত করছিলেন তা আমার স্মরণ নাই। আমি ১০-০৫-২০১২ ইং তারিখে রংপুর থেকে ঢাকায় ফিরে আসি। সাক্ষী মুকলেছার রহমান সরকার, মনছুরা খাতুন, মোস্তফা মিয়া, মো: আইয়ূব আলী সরকার ও মাহবুবুর রহমান হাবলু এবং আবু জের রহমানকে ০৭-০৫-২০১২ ইং তারখে জিজ্ঞাসাবাদ করি। ঐ সকল সাক্ষীর ঠিকানা ভিন্ন ভিন্ন। ঐ সাক্ষীদের মধ্যে মুনছুরা খাতুন ও মোস্তফা মিয়ার বাড়ি কাছনা তাকিয়ার পাড়, থানা- কোতয়ালী। মুখলেছার রহমান সরকারের বাড়ি উত্তর রামনাথপুর, থানা-বদরগঞ্জ। মোঃ আইয়ুব আলী সরকারের বাড়ি কালুপাড়া, মাহবুবুর রহমান হাবলুর বাড়ি সাহাপাড়া, উভয় থানা- বদরগঞ্জ এবং আবু জের রহমানের বাড়ি ধর্ম দাস লক্ষণ পাড়া, থানা-কোতয়ালী।
মনছুরা খাতুনের ঘটনার বিষয়ে মোট পাঁচ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। আমি উপরোক্ত সময়ের মধ্যে তদন্তের প্রয়োজনে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট, দমদমা, দখিগঞ্জ শ্মশান, রংপুর টাউন হল, রংপুর জেলা সরকারী গ্রন্থাগার, ঝাড়–য়ার বিল, ধাপপাড়া, কারমাইকেল কলেজ ও মুন্সীপাড়া এলাকায় যাই। ১০-০৫-২০১২ইং হতে ২১-০৮-২০১২ ইং তারিখ পর্যন্ত, মামলার তদন্তের প্রয়োজনে আমি বাংলা একাডেমি, ঢাকা ও ভারতের কলকাতা যাই। আমি কলকাতায় গিয়েছিলাম সাক্ষীর জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করার জন্য। আমি ২৭-০৭-২০১২ ইং তারিখে সড়কপথে কলকাতায় যাই এবং ০১-০৮-২০১২ইং তারিখে বাংলাদেশে ফিরে আসি। আমি একাই কলকাতায় যাই এবং সেখানে তিনজন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করি ও জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করি এবং অপর দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। তারা হলেন শোভাকর, কনেক মল্লিক, মুন্না ভাস্বতি রায় এবং কনক প্রভা রায় ও খুশি চক্রবর্তী। ইহা সত্য নহে যে, কনক প্রভা রায় ও খুশি চক্রবর্তী অসত্য সাক্ষ্য দিতে সম্মত না হওয়ায় তাহাদের জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করি নাই। আমি নিজ হাতে ঐ তিনজন সাক্ষীর জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করি। ০১-০৮-২০১২ ইং তারিখ হইতে ২১-০৮-২০১২ ইং তারিখ পর্যন্ত এই মামলার সংগৃহীত সাক্ষ্য ও তথ্যাদি যাচাই বাছাই ও পর্যালোচনা করি এবং আরো তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করি। এ সময়ের মধ্যে আমি তদন্তের কাজে ঢাকার বাইরে যাই নাই। ২১-০৮-২০১২ইং তারিখে আমি যখন আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানার আবেদন করি তখন আমি জানতাম আসামী ঢাকাতেই অবস্থান করছে। এ সময়ে আমি আসামীর ঢাকার ঠিকানা সংগ্রহ করেছিলাম যাহা এএফ টাওয়ার, ৯১/বি, এলিফ্যান্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা। আসামী ঐ ঠিকানায় কত বৎসর যাবত বসবাস করছিলেন সে সম্পর্কে কোনো তদন্ত করি নাই। এই মামলার তদন্তকালে আসামীর পার্টিকুলারস সংগ্রহ করেছি। এই মামলায় আসামীকে গ্রেফতারপূর্বক ২৩-০৮-২০১২ ইং তারিখে ট্রাইব্যুনালে সোপর্দ করা হয়। ১৯-০৯-২০১১ইং হইতে ২০-০৩-২০১২ ইং পর্যন্ত এই আসামীর অবস্থান সম্পর্কে তদন্তকালে আমি কোন ডকুমেন্ট সংগ্রহ করি নাই।
২০-০৩-২০১২ ইং তারিখ হইতে ১৬-০৮-২০১২ ইং তারিখ পর্যন্ত এই আসামীর অবস্থান সম্পর্কে তদন্তকালে আমি কোন ডকুমেন্ট সংগ্রহ করি নাই। এই মামলা ছাড়াও এই আসামীর বিরুদ্ধে অন্য মামলা আছে। তা আমার কেস ডায়রিতে উল্লেখ আছে যথা- শাহবাগ থানার মামলা নং-৬৯, তারিখ ২৯-০৬-২০১০ ইং ধারা-১৪৩,৩৩২, ৩৫৩, ৫০৬ দ: বি:, মতিঝিল থানার মামলা নং-৩২(১১)১০ তারিখ ১৫-১১-২০১০, মতিঝিল থানার মামলা নং-৩৩ তারিখ ১৬-১১-২০১০ ইং, পল্টন থানার মামলা নং-০৫ তারিখ ০২-০৬-২০১১ইং, মতিঝিল থানার মামলা নং-০৮ তারিখ ০২-০৭-২০১১, পল্টন থানার মামলা নং-২০ তারিখ ০৮-০৯-২০১১ইং, রমনা থানার মামলা নং-৩৫ তারিখ ১৯-০৯-২০১১ ইং, ধারা-বিষ্ফোরক দ্রব্য আইন, রমনা থানার মামলার নং-১৭ তারিখ ১০-০৯-২০১১ইং এবং মতিঝিল থানার মামলা নং-৪৬ তারিখ ১৯-০৬-২০১১ইং।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=150456