২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে ১৫ তম সাক্ষীর জেরা শেষ পরবর্তী সাক্ষী কাল
২৪ জুন ২০১৪, মঙ্গলবার,
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ১৫তম সাক্ষী মমতাজ উদ্দিন মন্টুর জেরা শেষ হয়েছে। গতকাল সোমবার এই সাক্ষীকে জেরা করেন ডিফেন্স পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলাম। এর আগে গত রোববার এই সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে তার জবানবন্দী দিয়েছিলেন। গতকাল ডিফেন্স পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মো: মিজানুল ইসলাম, এস এম শাহজাহান কবির, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, আসাদুল ইসলাম। প্রসিকিউসন পক্ষে ছিলেন সুলতান মাহমুদ সিমন ও রিজিয়া সুলতানা। এ মামলায় প্রসিকিউশনের ১৬তম সাক্ষীর জন্য আগামীকাল বুধবার দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল-২।
গতকালের জেরার
উল্লেখযোগ্য অংশ
প্রশ্ন: ছোটকালে আপনি কোন কোন স্কুলে পড়ালেখা করেছেন ?
উত্তর: ১৯৯৬ সালে আমি আরএম একাডেমীতে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিলাম। আমি কুলনীয়া প্রাইমারী স্কুলে ৪র্থ শ্রেণী পর্যন্ত এবং ৫ম শ্রেণী খয়সুটি প্রাইমারী স্কুলে পড়ালেখা করেছি।
প্রশ্ন: সার্টিফিকেটে আপনার জন্ম তারিখ কত লেখা আছে ?
উত্তর : আমার এস.এস.সি সার্টিফিকেটে জন্ম তারিখ কত লেখা আছে তা আমার স্মরণ নাই। ইহা সত্য নয় যে, কুলুনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বিদ্যালয় হিসেবে ১৯৭৩ সালে শুরু করেছে। তার পূর্বে এটা মাদরাসা হিসেবে পরিচালিত হত।
প্রশ্ন : খয়সুতি এলাকাটি কোথায় অবস্থিত?
উত্তর : কুলুনিয়া গ্রাম থেকে খয়সুতি উত্তর দিকে আনুমানিক আধা মাইল দূরে, মুকুন্দপুর পশ্চিম দিকে আধামাইল কম দূরত্বে অবস্থিত। ইহা সত্য যে, মুকুন্দপুর খয়েরসুতি গ্রামের মাঝখান দিয়ে পাবনা দোগাছি সড়কটি চলে গেছে। কুলুনিয়া গ্রামটি পূর্ব পশ্চিমে আনুমানিক পোনে এক মাইল লম্বা হবে এবং উত্তর দক্ষিণে আনুমানিক ৫০০ গজ চওড়া। কুলুনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উত্তর দিকে ২০০ গজ দূরে খয়েরসুতি গ্রামটি অবস্থিত। মুকুন্দপুর গ্রাম থেকে কুলুনিয়া প্রইিমারী স্কুলের দূরুত্ব আনুমানিক ৫০০ গজ হবে। ইহা সত্য যে, ৭১ সালে কুলুনিয়া প্রাইমারী স্কুল থেকে সমেজ উদ্দিনের বাড়ী যেতে পায়ে চলা পথ (হালট) ছিল।
প্রশ্ন : আপনি কি ওয়েজ উদ্দিনকে আগে থেকেই চিনতেন?
উত্তর : আমার বর্ণিত ওয়েজ উদ্দিনকে আমি আগে থেকে চিনতাম না। ওয়েজ উদ্দীনের সাথে আর যারা শহীদ হয়েছিল তাদের নাম আমি বলতে পারবোনা। তাদের বাড়ী কোথায় ছিল তা আমি বলতে পারবো না। তবে তারা আশেপাশের বাসিন্দা ছিল। ইহা সত্য যে, খোদা বক্সের বাড়িতে এখন তার উত্তরসূরীরা বসবাস করে। আমার বর্ণিত আমিন উদ্দীন এখনও জীবিত আছেন। আমার বর্ণিত সমেজ উদ্দীনের বাঁশঝাড়টি তার বাড়ির সংলগ্ন পশ্চিম দিকে। কুলুনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সমেজ উদ্দীনের বাড়ির পশ্চিম দিকে আনুমানিক ২০০/২৫০ গজ দূর হবে। আমার বর্ণিত দোগাছি পশ্চিম পাড়ার চাঁদ আলী প্রামানিকের এক ছেলের নাম ইসলাম আলী প্রামানিক এবং আরেক ছেলের নাম আকরাম আলী প্রামানিক নামে চিনি তবে তার নাম এক্রাম আলী প্রামানিক কি না তা আমি জানিনা।
প্রশ্ন : শহীদ চাঁদ আলীর কয় স্ত্রী?
উত্তর : শহীদ চাঁদ আলী প্রামানিকের ২ স্ত্রী ছিল। তবে স্ত্রীদের নাম রহিমন মরিয়ম কি না তা আমি জানিনা।
প্রশ্ন : হেকমতের ভাল নাম কি?
উত্তর : হেকমতের ভালো নাম হলো আব্দুর রউফ। তিনি চাকরি করতেন তবে এখন অবসর জীবন যাপন করছেন। ইহা আমার জানা নেই যে, হেকমতের ছেলের নাম রেজাউল করিম কি না। তাকে আমি রতন হিসাবে চিনি। ইহা আমার জানা নেই যে, ইয়াহিয়া সাহেবের ছেলের নাম সাইফুল ইসলাম ওরফে স্বপন চৌধুরী কি না। ইহা সত্য নয় যে, আমজাদ হোসেন মার্চ মাসে মারা যাওয়ার পর পাবনায় আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি জনাব আহম্মদ রফিক সাহেব নেতৃত্ব দেন। আহমদ রফিক সাহেব ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পরপরেই নিহত হন। ওনার জানাযায় বঙ্গবন্ধু শরিক হয়েছিলেন।
প্রশ্ন: এডভোকেট আমিন উদ্দিনকে আপনি চিনতেন?
উত্তর:  আমি এডভোকেট আমিন উদ্দিন সাহেবকে চিনতাম। তিনি এমপিএ ছিলেন। তাকে পাকসেনারা হত্যা করেছে। হত্যাকা-ের তারিখ ২৭শে মার্চ কি না তা আমার জানা নাই। ২৯শে মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যরা পাবনা শহরের ভিতরে এবং আশেপাশে মুক্তিকামী জনতা এবং পুলিশের হাতে নিহত হয়েছিল। পাবনা শহর থেকে গোপালপুর নর্থবেঙ্গল সুগার মিলটি আনুমানিক ২০ মাইলের বেশি দূরে।
জেরাতে সাক্ষী আরো বলেন, আমি শিকারপুর বর্ডার দিয়ে ভারতের কেচুয়াডাঙ্গা ক্যাম্পে গিয়েছিলাম। কেচুয়াডাঙ্গা থেকে প্রথমে যাই বালুরঘাট কামারপাড়ায় গিয়ে আমরা সংক্ষিপ্ত অস্ত্র ট্রেনিং নিয়ে ২৮ জুলাই পাবনায় প্রবেশ করি। আগস্ট মাসের ২২ তারিখে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করে উচ্চতর ট্রেনিং এর জন্য সেপ্টেম্বর মাসে দেরাদুন যাই। ইহা সত্য নয় যে, আমি পাবনার বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার হাবিবুর রহমান সাহেবের সাথে ভারতে ট্রেনিং নেয়ার জন্য গিয়েছিলাম। আমি আমার জবানবন্দীতে যে ছাত্রনেতা শেখ শহিদুল্লার কথা বলেছি তিনি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার হাবিবুর রহমান সাহেবের বড় ভাই। ১৯৭১ সালে পাবনা জেলার পিস কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সহকারী সেক্রেটারি কে ছিলেন তা বলতে পারবো না। ১৯৭১ সালে পবনা যে জেলা প্রশাসক কার্যালায়ে বসে সভার মাধ্যমে যে শান্তি কমিটি গঠিত হয় তখন পাবনা জেলা প্রশাসক কে ছিলেন তা আমি বলতে পারবো না। ঐ সময় পাবনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে কর্মরত কারো নাম বলতে পারবো না। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে শন্তি কমিটি গঠনের খবরটি আমি কোন পত্রিকায় দেখিনি। তখন গ্রাম অঞ্চলে সচারাচর পত্রিকা পৌঁছাতোনা।
ইহা সত্য নয় যে, ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত মওলানা সুবহান সাহেব কোথায় থাকতেন এ সম্বন্ধে আমার কোন ধারণা নেই। আমি যতদূর জানি তিনি পাবনায় থাকতেন আমি যখন ভারত যাই তখন হাবিবুর রহমান সাহেবের ভাই শেখ শহিদুল্লাহ আমার সঙ্গে ছিলেন না। ইহা সত্য নয় যে, আমি ১৯৭৩ সালে এস. এস. সি পাস কিরিনি। আর এম একাডেমীর পুরো নাম হচ্ছে মজুমদার একাডেমী। ইহা সত্য নয় যে, চাঁদ আলী প্রামানিকের এক ছেলে আক্রামের নাম জেনে না চেনার ভান করছি। ইহা সত্য নয় যে, আমার বর্ণিত শেখ শহিদুল্লাহ তার ভাই হাবিবুর রহমানের সাথে ১১ এপ্রিল ভারতে চলে যান। ইহা সত্য নয় যে, আমি মাওলানা সোবহান সাহেবের বিরুদ্ধে শেখানো মতে অসত্য সাক্ষ্য দিলাম।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=149821