২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে ১৩ তম সাক্ষীর জেরা শেষ ॥ ১৪ তম সাক্ষীর জবানবন্দী আজ
১৮ জুন ২০১৪, বুধবার,
জামায়াতে ইসলামীর  নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে  প্রসিকিউশনের ১৩ তম সাক্ষী আবদুল মতিনকে জেরা শেষ করেছেন ডিফেন্স পক্ষের আইনজীবী। এর আগে গত সোমবার ট্রাইব্যুনাল-২ এ এই সাক্ষী তার জবানবন্দী পেশ করেছিলেন। আজ বুধবার প্রসিকিউশনের ১৪ তম সাক্ষী তার জবানবন্দী পেশ করবেন। গতকাল  বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বের তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ তারিখ নির্ধারণ করেন। গতকাল সাক্ষীকে জেরা করেন ডিফেন্স আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলাম। ডিফেন্স আইনজীবীদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন এসএম শাহজাহান কবির, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, আসাদুল ইসলাম প্রমুখ। অন্যদিকে প্রসিকিউসন পক্ষে ছিলেন সুলতান মাহমুদ সিমন ও রিজিয়া সুলতানা।
গতকালের জেরার
উল্লেখযোগ্য অংশ
প্রশ্ন: আপনার বড় ভাইয়ের সন্তানদের নাম কি ?
উত্তর: আমার বড় ভাইয়ের ১ ছেলে এবং ৫ মেয়ে ছিল, ছেলের নাম আবুল আনিস। মেয়েদের নাম আমেনা খাতুন, আলেয়া খাতুন, হেলেনা খাতুন, রোজি খাতুন এবং ফিরোজা খাতুন।
প্রশ্ন: ১৯৭১ সালে আপনাদের বাড়িটি কোথায় ছিল?
উত্তর : ১৯৭১ সালে আমাদের বাড়ীটি দোগাছি ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে ছিল। ১৯৭১ সালের পূর্বে কোন সালে দোগাছি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হয়েছিল তা বলতে পারবো না।
প্রশ্ন: আপনি কোথায় পড়ালেখা করেছেন?
উত্তর: পাবনা শহরে রাধানগর আরএম একাডেমীতে আমি দশম শ্রেণীতে পড়ালেখা করেছি। ১৯৬৭-৬৮ সালে পাবনা সদরে এমএনএ কে ছিল তা আমার স্মরণ নেই। আমার কাপড়ের ব্যবসাটি আমার নিজ গ্রামে পরিচালনা করতাম। আবদুল মজিদকে আমি চিনতাম তার বাড়ী আমাদের এলাকাতেই ছিল।
প্রশ্ন: ১৯৭১ সালে আপনি কোথায় থাকতেন ?
 উত্তর: ২৫ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত আমি আমাদের গ্রামের বাড়ীতেই ছিলাম।
ডিফেন্স আইনজীবীর জেরার জবাবে সাক্ষী আরো বলেন, এটা সত্য যে, আমাদের গ্রামটি পাবনা দোগাছি সড়কের উভয় পাশে অবস্থিত। আমাদের গ্রামটি পূর্ব পশ্চিমে লম্বা, তবে তা কমবেশী ১ মাইল কি না তা বলতে পারবো না।  আমাদের গ্রামের পশ্চিম দিকে দোগাছি গ্রাম। দোগাছি গ্রামটি আমাদের গ্রামের পূর্ব দিকে। আমাদের গ্রামের পশ্চিম দিকে মকুন্দপুর, উত্তর দিকে খয়েরসতি। মুকুন্দপুরের শেষ সীমানা থেকে আমার বাড়ীর দূরুত্ব কতটুকু তা সঠিকভাবে বলতে পারবো না। পাবনা দোগাছি সড়কের দক্ষিণ দিকে আমার বাড়ী। ’৭১ সালে এই সড়ক কাঁচা ছিল। এই সড়ক থেকে ১৫০-২০০ গজের মধ্যে আমার বাড়ী। ইহা সত্য নয় যে, পাবনা দোগাছি রাস্তা থেকে আমার বাড়ী পর্যন্ত পায়ে হাঁটা রাস্তা ছিল ঐ রাস্তাটি বর্তমানে কাঁচা। ’৭১ সালে আমার বাড়ী থেকে পাবনা দোগাছি রাস্তার মধ্যবর্তী স্থানে আনুমানিক ১৫-১৬টি বাড়ী ছিল। ইহা সত্য নয় যে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়কালে আমি বাড়ীতেই ছিলাম। আমার ভাই সমজুদ্দিন হত্যার ৩ দিন পর ভারতে চলে যাই।
সাক্ষী আরো বলেন, ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ সর্বপ্রথম পাকিস্তান আর্মি পাবনাতে আসে। দ্বিতীয় বার এপ্রিল মাসে আসে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারবো না। ১৯৫৪ সালে মাওলানা সুবহান সাহেব একবার এমএলএ হয়েছিল। তবে উনার নির্বাচনী প্রতীক কি ছিল স্মরণ নেই। তখন উনার প্রতিদ্বন্দ্বী কে ছিল তা বলতে পারবো না। ১৯৫৬ সালে আমাদের এলাকায় কি নির্বাচন হয়েছিল তা আমার স্মরণ নেই। আমি ভারত থেকে দেশ স্বাধীনের ২-৩ দিন পূর্বে দেশে ফিরি। ১৯৭১ সালে আমাদের এলাকা থেকে কে নির্বাচিত হয়েছিলেন তা সঠিকভাবে বলতে পারবো না। স্বাধীনের পূর্বে এমএন এ ছিলেন ব্যবসায়ী আমজাদ ও স্বাধীনের পরে ছিলেন এডভোকেট আমজাদ।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আমি ভোটার ছিলাম। ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে পাবনা সদরে কে প্রার্থী ছিলেন তা বলতে পারবো না। আমার পিতা কোন সালে কত তারিখে মারা গেছে তা স্মরণ নেই। ১৯৫৪-৫৬ সালে পাবনা শহরে সোবহান সাহেব ছাড়া জামায়াতের অন্য কোন নেতাকে আমি চিনতাম না।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=149278