২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৩তম সাক্ষীর জবানবন্দী ॥ আজ জেরা
১৭ জুন ২০১৪, মঙ্গলবার,
১৯৭১ সালের কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৩ তম সাক্ষী মো. আবদুল মতিন (৭৬) গতকাল  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দী দিয়েছেন। সাক্ষী তার জবানবন্দীতে মাওলানা সুবহান এবং পাকসেনাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের বর্ণনা দিয়েছেন। গতকাল সোমবার  ট্রাইব্যুনাল-২ চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের বেঞ্চে এ সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। তার জবানবন্দী গ্রহণে সাহায্য করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ শিমন।
সাক্ষী বলেন,‘৭১ সালের ১১ মে বেলা ১১টায় আবদুস সুবহানসহ পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর ৮/৯টি গাড়ি আমাদের গ্রামের বাড়ি কুলনিয়ায় প্রবেশ করে। এরপর পাকিস্তানী বাহিনী চারদিকে এলোপাতাড়ি গুলীবর্ষণ করে এবং গ্রাম ঘিরে ফেলে। এসময় আমি,আমার ভাই সবুজউদ্দিন প্রামাণিক, ভাবী রাহাতুন্নেছা এবং বাড়ির অন্যান্য লোকজন মিলে বাড়ির পাশের বাঁশবাগানে আত্মগোপন করি।
আমি আমার ভাই-ভাবী ও প্রতিবেশী হাসিনার কাছ থেকে একটু দূরে আত্মগোপন করেছিলাম। এসময় দেখতে পাই, পাকিস্তানী সেনাবাহিনীরা হাসিনা এবং আমার ভাই-ভাবীর ওপর গুলীবর্ষণ করে। এতে হাসিনা এবং আমার ভাই ঘটনাস্থলে মারা যায় এবং ভাবী রাহাতুন্নেছা আহত অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকে।
সাক্ষী আরও বলেন, \'আহত অবস্থায় ভাবীকে স্থানীয় বামনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ৮-১০ দিন সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ভাবী মারা যান। সাক্ষী বলেন,‘আমাদের গ্রাম আক্রমণ করার পর মিলিটারিরা খোদাবকশের বাড়িতে যায় এবং সেখানে আশ্রয় নেয়া ওয়াজুদ্দিনকে গুলী করে হত্যা করে। দেগাদি বাজারে হরিপদ এবং বেণুকে হত্যা করে।
 এছাড়াও মাওলানা সুবহান এবং পাকসেনারা চাঁদ আলী প্রামাণিকের বাড়িতে প্রবেশ করে ৪/৫ জনকে গুলী করে হত্যা করে। পরে সাক্ষী আবদুল মতিনকে জেরা করেন আসামী পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান। আংশিক জেরা শেষে আদালত আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=149168