২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ২৯ তম সাক্ষীর জবানবন্দী
১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪, সোমবার,
একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতে ইসলামীর  নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ২৯ তম সাক্ষী এস কে শহীদুল্লাহ (৬৮) গতকাল রোববার ট্রাইব্যুনালে তার জবানবন্দী পেশ করেছেন।
তিনি তার পেশ করা জবানবন্দীতে বলেছেন, ‘আমার আহত ভাই ওবাইদুল্লাহ এবং স্থানীয় লোকদের কাছে জানতে পেরেছি ’৭১ সালের  যে হত্যাজজ্ঞ সংগঠিত হয়েছিল সেখানে মাওলানা সোবহান উপস্থিত ছিলেন  । সাক্ষী বলেন, আমি আমার ভাইয়ের কাছে আরো শুনেছি কন্দর্পপুরে  যেখানে তাকে গুলী করা হয়েছিলো সেখানে ২১ জন এবং অন্য এক জায়গায় আরো ১৭ জনকে গুলী করা হয়।’
গতকাল ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে  তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনি তার জবানবন্দীতে এসব কথা বলেন। তখন সাক্ষীকে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন ও রিজিয়া সুলতানা রেজিয়া চমন। সুবহানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান।
সাক্ষী এস কে শহিদুল্লাহ বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে ২৭, ২৮ ও ২৯ তারিখে পাবনা শহরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নিয়ে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সকল সদস্য নিহত হয়। পরে ১১ এপ্রিল সেনাবাহিনী পাবনা শহর দখল করে নেয়। তখন আমি আমার নিজ গ্রাম  নিশ্চিন্তপুরে চলে যাই এবং এলাকার যুবকদেরকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে সংগঠিত করি।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমি জানতে পারি পাবনায় শান্তি কমিটি গঠিত হয়েছে যে কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছেন ক্যাপ্টেন জায়েদী এবং একই সময়ে মাওলানা সোবহান পাবনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীরও শান্তি কমিটর সেক্রেটারী   ছিলেন।’
সাক্ষী বলেন,  ১২ মে তারিখে ধারাবাহিকতায় পাবনা জেলায় আমাদের গ্রামসহ ৪/৫টি গ্রামে হত্যাযজ্ঞ চালায়। এর আগের দিন দিবাগত রাতে আমি আমার চাচা বিশু খন্দকারের বাড়ীর পরিত্যক্ত একটি পাকের ঘরে ছিলাম। গোলাগুলীর আওয়াজ আর আর্তচিৎকারে ওই দিন ভোরে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘুম থেকে উঠে বেড়ার ফাঁক দিয়ে দেখি পাকিস্তানী সেনাবাহিনী সাধারণ মানুষদের তাড়া করে নিশ্চিন্তপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আমার চাচি তখন আমাকে পালাতে বললে আমি বাড়ির পেছন থেকে আমার বাড়ির দিকে যেতে থাকি। পথে পলায়নরত লোকজন বলাবলি করছিলো জামায়াতে ইসলাম এবং পাকিস্তানী সেনাবাহিনীরা অনেককে সাতবাড়িয়ার দিকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তাই তারা আমাকে সেদিক যেতে নিষেধ করে, তা সত্ত্বেও আমি আমার বাড়ির পেছন দিক দিয়ে উঠানে ডুকি, তখন আমার মা কান্নারত অবস্থায় আমাকে জরিয়ে ধরে বললেন- তোমার ভাই শহিদুল্লাহকে ধরে নিয়ে গেছে, তোমাকেও ধরে নিয়ে যাবে, তুমি পালাও। তখন আমার বাবাও আমাকে পালিয়ে যেতে বলেন।
ঠিক সেই সময় সেনাবাহিনীর দুটি গাড়িসহ একটি সাদা গাড়ি আমাদের বাড়ির কাছে নিশ্চিন্তপুর প্রাইমারী স্কুলের সামনে এসে দাঁড়ায়। তখন তিনটি গুলীর শব্দ পাই। এ সময় জনৈক সেকেনের স্ত্রী বাড়িতে এসে মাকে জানায় তার স্বামী গাড়োয়ান, আমার ফুফাতো ভাই মনি এবং পাশের বাড়ির এনতাজাকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী হত্যা করেছে। তখন মা আমাকে বাড়ির পেছনের আখ ক্ষেতে নিয়ে যায়। খেতে থাকার ১৫-২০মিনিট পরে পাকিস্তানীদের গাড়িগুলো সাতবাড়িয়ার দিকে চলে যাওয়ার শব্দ পাই।  কিছুক্ষণ পর আখ ক্ষেত থেকে বেড়িয়ে নিশ্চিন্তপুর প্রাইমারী স্কুল মাঠে এসে মনি ভাই, সেকেন এবং এনতাজের লাশ দেখতে পাই। এরপর বাড়ির পেছন থেকে শাহপুর চলে যাই, তখন সাতবাড়িয়ার দিক থেকে আগুনের লেলিহান শিখা, ধোঁয়া দেখতে পাই এবং গোলাগুলীর শব্দ পাই। তিনি বলেন, শাহপুর গ্রামে আমি বেলা ২টা পর্যন্ত অবস্থান করি এবং শুনতে পাই আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=157831