১৬ জুন ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনীত একটি অভিযোগও প্রমাণ করতে পারেনি প্রসিকিউশন
১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪, সোমবার,
১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতা বিরোধী অপরাধের কথিত অভিযোগে আটক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন আনীত অভিযোগের বিপরীতে আসামীপক্ষের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। আইনী পয়েন্টে জবাবদানের জন্য সরকার পক্ষের সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। আসামী পক্ষের শুনানির সমাপনীতে আজহারের আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির বলেন, প্রসিকিউশন তাদের আনীত ৬টি অভিযোগের একটিও প্রমাণ করতে পারেনি। মৌখিক সাক্ষ্য বা দালিলিক সাক্ষ্য কোনভাবেই তারা একটি অভিযোগও সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণ করতে পারেনি। আইনে আছে অভিযোগ প্রসিকিউশনকেই প্রমাণ করতে হবে এবং তা সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণ করতে হবে। যেহেতু তারা একটি অভিযোগও সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণ করতে পারেনি সেহেতু তিনি আসামীর বেকসুর খালাস দেয়ার আবেদন জানান।
গতকাল রোববার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে অপর দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত  ট্রাইব্যুনালে শেষ দিনের মত যুক্তিতর্ক পেশ করেন আসামীপক্ষ। আজহারুল ইসলামের আইনজীবী এডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির গতকাল যুক্তিতর্ক পেশ করার পর আইনী পয়েন্টে জবাবদানের জন্য সময়ের আবেদন করেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী বৃহস্পতিবার ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এই মামলার কার্যক্রম মুলতবি করা হয়।
গতকালের শুনানিতে শিশির মোহাম্মদ মনির ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, প্রসিকিউশন পক্ষে আইনি যুক্তি উপস্থাপনের সময় প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ লিখিতভাবে তার বক্তব্য ট্রাইব্যুনালে জমা দেন। তুরিন তার যুক্তির সমর্থনে কয়েকটি বিদেশী মামলার রায়ের উদ্ধৃতি দেন। তুরিন প্রদত্ত উক্ত উদ্ধৃতিগুলো আদালতকে পড়ে শোনান এড. মনির এবং দেখান যে, তুরিন যে বিষয়ে ঐ বিদেশী মামলাগুলো রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করেছেন সে বিষয় উক্ত মামলায় তার বক্তব্যের সমর্থনে কিছুই নেই। ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউটর তুরিনকে পরবর্তী দিবসে এর ব্যাখ্যা প্রদান করতে বলেন।
এটিএম আজহারের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনকালে শিশির মনির বলেন, শ্রুতসাক্ষীদের বক্তব্যগুলো একে অপরের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই এর উপর নির্ভর করার কোন সুযোগ নেই। প্রসিকিউশন উপস্থাপিত পুরাতন সাক্ষ্যগ্রহণ  তত্ত্বের “ওল্ড এভিডেন্স থিওরি” যুক্তি খ-ন করে তিনি বলেন, অত্র মামলায় পুরাতন সাক্ষ্য গ্রহণ তত্ত্ব আমলে নেয়া যাবে না এবং তিনি তার বক্তব্যের সমর্থনে প্রসিকিউশন প্রদত্ত একটি বিদেশী মামলার নজির আদালতে পড়ে শোনান।
এছাড়াও তিনি যৌথ অপরাধের দায় (জেসিই), জুডিশিয়াল নোটিস ও ডিউটি টু কেয়ার-এর উপর যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, উক্ত বিষয়ে এটিএম আজহারুল ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত করার কোন সুযোগ নেই।
গতকাল আসামী পক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট আব্দুস সুবহান তরফদার, রায়হান উদ্দিন, মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন প্রমুখ। অপরদিকে সরকার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম,আলতাফ উদ্দিন, ড.তুরিন আফরোজ, রেজিয়া সুলতানা চমন প্রমুখ।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=157820