২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে ২৮ তম সাক্ষীর জেরা শেষ পরবর্তী সাক্ষী রোববার
১১ সেপ্টেম্বর ২০১৪, বৃহস্পতিবার,
কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ২৮ তম সাক্ষী ফজলুল হকের জেরা সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল তাকে জেরা করেন ডিফেন্স পক্ষের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলাম।  এর আগে গত  মঙ্গলবার চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২  প্রসিকিউশনের এই সাক্ষীর জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়।  গতকাল আসামীর সহযোগী আইনজীবী  ছিলেন এডভোকেট মিজানুল ইসলাম, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, আসাদুল ইসলাম। অন্যদিকে প্রসিকিউশনের পক্ষে  ছিলেন সুলতান মাহমুদ সিমন, রিজিয়া সুলতানা প্রমুখ।  আগামী রোববার মামলার পরবর্তী সাক্ষীর দিন ধার্য করা হয়েছে। 
 গতকালের জেরার
 উল্লেখযোগ্য অংশ
প্রশ্ন:  গয়েশপুর নামে পাবনা সদরে একটি ইউনিয়ন আছে কি ?
উত্তর: গয়েশপুর নামে পাবনা সদরে একটি ইউনিয়ন আছে  এটা  আমি জানি। তবে তার অবস্থান সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে পাবনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী কে ছিলেন?
উত্তর: এটা  আমি বলতে পারবো না।
প্রশ্ন : পাবনা জেলার প্রথম পিস কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান বা ভাইস প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন ?
উত্তর: এটাও আমি বলতে পারবো না। মাওলানা সুবহানকে যখন পাবনা জেলার পিস কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান করা হয় তখন ঐ কমিটির প্রেসিডেন্ট বা সেক্রেটারী কে হয়েছিলেন তা আমি বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের পূর্বে মাওলানা সুবহান সাহেবের সাথে আপনার দেখা বা কথা হয়নি।
উত্তর: এটা সত্য নয়।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের পূর্বে আপনি জামায়াতে ইসলামীর অফিসে কোন দিন যাননি।
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন:  মাওলানা সুবহান আপনাদের এমএলএ বা এমএনএ ছিলেন না।
উত্তর: হ্যাঁ এটা সত্য।
প্রশ্ন: সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন সংগ্রাম পরিষদ কখন গঠিত হয় ?
উত্তর: সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন সংগ্রাম পরিষদ ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের পরে গঠিত হয়েছিল। প্রফেসর এনতাজ উদ্দিন এই সংগ্রাম পরিষদের সেক্রেটারী ছিলেন। আমি ১৯৭১ সালের অক্টোবরের শেষের দিকে ভারতে গিয়েছিলাম। ভারতে যাওয়ার পূর্বে আমি আমার বাড়ীসহ বিভিন্ন গ্রামে অবস্থান করতাম।
প্রশ্ন: আপনি কি কাউকে ভারতে পাঠিয়েছেন?
উত্তর: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত আমি কাউকে ভারতে পাঠাইনি। ইহা সত্য নয় যে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পূর্বে আমাদের এলাকায় স্বাধীনতা সংগ্রাম সংক্রান্ত কোন কার্যক্রম শুরু হয়নি। আমাদের সাতবাড়িয়া এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আমিন মোল্লাকে আমি চিনি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তার দায়িত্ব কি ছিল তা আমি জানি না। ইহা সত্য যে, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত আমাদের এলাকায় স্বাধীনতা বিরোধীদের তেমন কোন কার্যক্রম ছিল না।
 জেরার জবাবে সাক্ষী আরো বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত আমাদের সাতবাড়িয়া এলাকায় সামরিক ট্রেনিংপ্রাপ্ত কোন লোকের সাথে আমার দেখা হয়নি। ১৯৭১ সালে আমাদের সাতবাড়িয়া কলেজে স্কাউটের কোন কার্যক্রম ছিল না। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য আমি যাদেরকে ভারতে পাঠাতাম তারা সাতবাড়িয়া নদী বন্দর পার হয়ে কুষ্টিয়ার দিক দিয়ে যেতো। ইহা সত্য নয় যে, প্রশিক্ষকের অভাবে আমরা আমাদের সাতবাড়িয়া এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে পারিনি। আমাদের গ্রাম নিশ্চিন্তপুর থেকে সাতবাড়িয়া দক্ষিণ পূর্ব দিকে অবস্থিত। ১৯৭১ সালের পরে সাতবাড়িয়া গ্রামটির অধিকাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আমি তৈলকুন্ডি গ্রামে কোন দিন যাইনি। আমি মাওলানা সুবহান সাহেবের পাবনা শহরের বাড়ী কখনও যাইনি এবং কোন স্থানে তার বাড়ী তা আমি জানি না।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=157361