২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
সরকারি ডকুমেন্টেই আছে ১৯৭১ সালে আজহারুল ইসলামের ভূমিকা ও অবস্থান সম্পর্কে ‘কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি’
১১ সেপ্টেম্বর ২০১৪, বৃহস্পতিবার,
|| আনিত ৬টি চার্জের একটিও তারা না মৌখিক সাক্ষ্য দিয়ে প্রমাণ করতে পেরেছেন না দালিলিকভাবে প্রমাণ করতে পেরেছেন। যেহেতু একটি অভিযোগও তারা প্রমাণ করতে পারেননি তাই আমি আসামীর বেকসুর খালাস দেয়ার আবেদন করছি

১৯৭১ সালের মানবতা বিরোধী অপরাধের কথিত অভিযোগে আটক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন আনিত অভিযোগের বিপরীতে আসামীপক্ষের চূড়ান্ত যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বুধবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে অপর দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত  ট্রাইব্যুনালে নবম দিনের মতো যুক্তি-তর্ক পেশ করেন আসামীপক্ষ। আজহারুল ইসলামের আইনজীবি এডভোকেট আব্দুস সোবহান তরফদার গতকাল যুক্তি-তর্ক পেশ করার পর আগামী রোববার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শুনানী মূলতবি করা হয়। গতকাল তিনি আজহারের বিরুদ্ধে আনিত ৬টি অভিযোগের মধ্যে উপর আদালতে ইতোপূর্বে প্রদর্শিত ও দাখিলকৃত ডকুমেন্টের উপর শুনানী করেন। আইনী পয়েন্টে আরো কিছু আর্গুমেন্ট বাকি থাকায় আজহারুল ইসলামের আইনজীবি এডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনিরের অনুরোধে আগামী রোববার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শুনানী মূলতবি করা হয়।
গতকালের শুনানীতে আব্দুস সোবহান তরফদার বলেন, সরকার পক্ষের ডকুমেন্টেই রয়েছে নানা অসঙ্গতি ও পরষ্পরবিরোধী তথ্য। প্রদর্শনী-২৫ এ দেখা যায়, আসামী আজহারুল ইসলাম সম্পর্কে প্রদত্ত তথ্য তালিকার ৭(খ)তে বলা হয়েছে যে, তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজের ছাত্র হিসেবে ১৯৭১ সালে উক্ত কলেজের আশপাশ, লোহানী পাড়াসহ রংপুর ও দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন, লুন্ঠন ইত্যাদি কাজে লিপ্ত ছিলেন। একই প্রদর্শনীতে ৮নং কলামে ১৯৭১ সালে আসামীর অবস্থান এবং ভূমিকা সম্পর্কে বলা হয়েছে “কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি”।
 তিনি বলেন, এটা হলো পুলিশের ডিআইজির কাছ থেকে প্রাপ্ত রিপোর্ট। আসামীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগও সরকার পক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি বিদায় তিনি আজহারকে বেকসুর খালাস দেয়ার আবেদন জানান।
আব্দুস সোবহান তরফদার বলেন, সাক্ষী শোভা কর নিজেকে আজহারের ক্লাস মেট বলে পরিচয় দিলেও দালিলিক প্রমাণে দেখা যায়, আজহারের এসএসসি শিক্ষা বর্ষ ১৯৬৭-৬৮ আর শোভা করের শিক্ষা বর্ষ ১৯৭০-৭১। তাদের দাখিলকৃত ডকুমেন্টেই দেখা যায় যে, সাক্ষীর বক্তব্য দালিলিক ডকুমেন্ট দ্বারা প্রমাণিত হয় না। প্রদর্শনী-২৩ এ দেখা যায়, আজহারের নামের পেছনে হাতে লিখে দেয়া হয়েছে ৫/৪২০১০ এর পরিবর্তে ৫/৪/২০১২। এর কারণ কি তা ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান জানতে চান প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুমের কাছে। মালুম তার জবাব তাৎক্ষণিকভাবে দিতে না পারায় চেয়ারম্যান তাকে পরে জবাব দিতে বলেন।
তিনি বলেন, আসামীকে বলা হচ্ছে তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজে ১৯৭১ সালে ইন্টার মিডিয়েট পড়তেন।আর দালিলিক প্রমানে দেখা যায় যে তিনি ১৪/১/১৯৭১ তারিখে বগুড়া থেকে প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে ফরম ফিলআপ করেন এবং পাস করার ডকুমেন্টও আছে।রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ইন্টিার মিডিয়েট এবং ডিগ্রী পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাষ্টার্স ডিগ্রী করেছেন আজহার। আবার অন্য জায়গায় দেখিয়েছে যে, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তেকে অনার্স ও মাষ্টার্স করেছেন।তাদের বক্তব্য এই দুই ধরনের হলেও এর যেটাকেই তারা সত্য বলে দাবি করুক তাতে প্রমাণ হয়না যে আসামী স্বাধনিতার পরে পালিয়ে ছিলেন। অথচ তারা বলছেন,যে স্বাধীনতার পরে আজহার নাকি পালিয়ে ছিলেন।এ পর্যায়ে চেয়ারম্যান রসিকতা করে বলেন প্রসিকিউশন বা তদন্ত সংস্থার উপর কি জিনের আসর পড়েছে নাকি ?
এডভোকেট তরফদার বলেন,তারা সাক্ষী দিয়ে বলতে চেয়েছেন যে ১৯৭১ সালে আসামী আজহার রংপুর শহরেই থাকতেন, ক্যান্টনমেন্ট তার দখলে বা নিয়ন্ত্রনে ছিল একজন ইন্টার মিডিয়েট পড়া ছাত্র হওয়া সত্বেও।আসামীর এত বড় স্বাধীনতাবিরোধী ভুমিকা সত্তেও রংপুর জেলার স্বাধীনতা বিরোধীদের কোন তালিকায় তার নাম নেই। রংপুরের ইতিহাসের কোন বইয়ে তার নাম নেই।
তিনি বলেন, আজহারুল ইসলাম ছাত্র জীবনে ছাত্র ফ্রন্টের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন মর্মে দালিলিক প্রমানের দই জায়গায় বলা হয়েছে। অন্য জায়গায় বলা হয়েছে তিনি ইসরামী চাত্র সঙ্ঘ করতেন এবং সেই অনুসারেই তিনি আল বদর বাহিনীর নেতা ছিলেন। এতসব উল্টা-পাল্টা তথ্যেই স্পষ্ট যে পুরো সাক্ষ্য-প্রমাণই তারা নিজেরাই সন্দেহজনককরে তুলেছেন। সন্দেহের বেনিফিট পাবেন আসামী।আইনে আচে সন্দেহাতিতভাবে প্রমানিত হতে হবে। এখানে একটি সাক্ষ্য-প্রমাণও সন্দেহের উর্দ্ধে নয়। সবই সন্দেহযুক্ত, পরস্পরবিরোধী এবং তারা নিজেরাই কনফিউজ।
আব্দুস সোবহান তরফদার বলেন, আসামীর বিরুদ্ধে আনিত ৬টি চার্জের একটিও তারা না মৌখিক সাক্ষ্য দিয়ে প্রমাণ করতে পেরেছেন না দালিলিকভাবে প্রমাণ করতে পেরেছেন। যেহেতু একটি অভিযোগও তারা প্রমাণ করতে পারেনি তাই আমি আসামীর বেকসুর খালাস দেয়ার আবেদন করছি।
গতকাল আসামী পক্ষে এডভোকেট আব্দুস সুবহান তরফদারকে সহায়তা করেন এডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির, রায়হান উদ্দিন, মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন প্রমুখ। অপরদিকে সরকার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম,আলতাফ উদ্দিন ,ড.তুরিন আফরোজ, রেজিয়া সুলতানা চমন প্রমুখ।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=157354