২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে ২৮ তম সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ ডিফেন্স পক্ষের জেরা আজ
১০ সেপ্টেম্বর ২০১৪, বুধবার,
কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ২৮ তম সাক্ষী ফজলুল হকের জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ সাক্ষীর জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়। গতকাল আসামীর সহযোগী আইনজীবী ছিলেন এডভোকেট মিজানুল ইসলাম, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, আসাদুল ইসলাম। অন্যদিকে প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন সুলতান মাহমুদ সিমন, রিজিয়া সুলতানা প্রমূখ। আজ বুধবার ডিফেন্স পক্ষের জেরা অনুষ্ঠিত হবে।
সাক্ষীর জবানবন্দী (সংক্ষিপ্ত)
আমার নাম মোঃ ফজলুল হক, পিতা- মরহুম নূরুল ইসলাম, মাতা- মরহুমা হালিমা নূর। আমার বর্তমান বয়স ৭৪ বছর। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় আমার বয়স ছিল ৩১ বছর। বর্তমানে আমি অবসর জীবন যাপন করছি। আমি সুজানগর থানার অন্তর্গত সাতবাড়িয়া কলেজে ১৯৬৬ সাল থেকে প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে দীর্ঘ ৩৫ বছর দায়িত্ব পালন করেছি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় আমি সাতবাড়িয়া ইউনিয়নে সংগ্রাম পরিষদ এর প্রধান ছিলাম। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় আমি সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের যুবকদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে প্রশিক্ষণের জন্য ভারতে প্রেরণ করতাম।
পাবনা জেলার সাতবাড়িয়া ছিল একটি প্রসিদ্ধ নদী বন্দর। মাওলানা আবদুস সুবহান ছিলেন পাবনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর। তার বাবার বাড়ী ছিল পাবনা জেলার সুজানগর থানাধীন মানিকহাটি ইউনিয়নের তৈলকু- গ্রামে। তৈলকু- গ্রামে তার বাড়ী থাকাসত্ত্বেও তিনি পাবনা শহরে বসবাস করতেন। স্বাধীনতার পূর্বে তিনি তৈলকু- গ্রামে আসা-যাওয়া করতেন তবে তিনি পাবনা শহরেই থাকতেন।
১৯৭১ সালে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পাবনা জেলা প্রশাসক সাহেবের দফতরে একটি বৈঠক হয় সেই বৈঠকে ক্যাপ্টেন জায়েদীকে চেয়ারম্যান ও মাওলানা সুবহানকে সেক্রেটারি নিযুক্ত করে পাবনা জেলা পিস কমিটি গঠিত হয়। পরবর্তীতে মাওলানা সুবহান এই পিস কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন। মাওলানা সুবহান উর্দু এবং আরবি ভাষায় পারদর্শি। সেই সুবাদে পাকিস্তান আর্মিদের সাথে তার সখ্যতা স্থাপিত হয়।
১৯৭১ সালের ১ এপ্রিল পাবনা শহর পাকিস্তান সেনাবাহিনী দখলে চলে আসে। এরপর জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে পাকসেনাদের সাহায্যে মাওলানা সুবহান স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও স্বাধীনতাকামী নিরীহ জনতার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
১৯৭১ সালের ১২ মে সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের উপর পাকসেনাদের আনুমানিক ৩০০ সদস্যকে নিয়ে মাওলানা সুবহান আক্রমণ চালায়। সকাল ৬টার দিকে মোমরাজপুর গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সাথে সাথে সাধারণ মানুষের আর্তচিৎকার শুনতে পাওয়া যায়। আমি তখন মোমরাজপুরের পাশে আমার নিজ গ্রাম নিশ্চিন্তপুরে আমার ফুফুর বাড়ীতে ছিলাম। আর্তচিৎকার ও গুলি শব্দ শুনে আমি সেদিন ঘুম থেকে উঠে বাড়ীর বাইরে এসে দের্খি গ্রামের লোকজন প্রাণ ভয়ে এদিক

 সেদিক ছোটাছুটি করছে এবং তারা বলাবলি করছিল পাক সেনারা চলে এসেছে তোমরা সবাই পালাও নইলে মারা পড়বে। আমিও তখন প্রাণভয়ে কাচুড়ির দিকে পালিয়ে যাওয়ার পথে কুড়িপাড়া প্রাইমারী স্কুলের সামনে একটি সাদা গাড়ি ও কয়েকটি সেনাবাহিনীর গাড়ি দেখতে পাই। এই অবস্থা দেখে আমি পার্শ্বস্থ মসজিদের উত্তর-পশ্চিম দিকে একটি জঙ্গলে লুকিয়ে থাকি। এখান থেকে আমি দেখতে পাই সাদা গাড়ির পাশে সোবহান মাওলানা এবং অন্যান্য গাড়িগুলো থেকে আসা আর্মিরা নিজেদের মধ্যে কথা-বার্তা বলছে। আমি আরো দেখতে পাই সেখানে খন্দকার ওবাইদুল্লাহ, সেকেন, এনতাজসহ প্রায় ৩০-৪০ জন লোককে কোমরে দড়ি বাঁধা অবস্থায় আটক করা হয়েছে। এ দৃশ্য দেখে আমি ভয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। কিছুক্ষণ পরে কয়েকটি গুলীর আওয়াজ শুনতে পাই। কাত হয়ে আমি দেখতে পাই গাড়িগুলো সাতবাড়িয়ার দিকে চলে যাচ্ছে। যখন বুঝতে পারলাম অর্মিদের গাড়ি চলে গেছে তখন আমি উঠে দাঁড়ালাম এবং দেখলাম খন্দকার ওবাইদুল্লাহ, আফসারসহ অন্যদেরকে পাক আর্মিরা টেনে হিঁচড়ে সাতবাড়িয়ার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর আমি ধীরে ধীরে স্কুলের সামনে এসে দাঁড়াই এবং দেখতে পাই সেকেন গারোয়ান, মনি এবং এনতাজ গুলীবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। এরপর আমি কাচুড়ির দিকে চলে যাই।
এরপর আনুমানিক ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কাচুড়ি থেকে আমি সাতবাড়িয়াসহ বিভিন্ন গ্রামের দিক থেকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পাই এবং গুলীর আওয়াজ শুনতে পাই। এই অবস্থা দেখে আমি সাতবাড়িয়াতে না গিয়ে গাজনার বিল পার হয়ে বিকেল ৪টা সাড়ে ৪টার দিকে চিনাখড়ায় দিলবার সরদারের বাড়িতে আশ্রয় নেই।
পরদিন ১৩ মে সকাল ১০টায় আমি সাতবাড়িয়াতে ফিরে আসি। সাতবাড়িয়া কলেজে গিয়ে এসএম সামছুল আলম, খোরশেদ আলম, আবু বকর, এনতাজ প্রফেসর, মনসুর রহমানদের দেখতে পাই। তাদের কাছ থেকে সাতবাড়িয়ায় আগের দিনে সংঘটিত ঘটনাসমূহ সম্বন্ধে জানতে পারি। সেদিনকার ঘটনায় যারা নিহত হয়েছেন, শাহাদাত বরণ করেছেন তাদের তালিকা তৈরি করার জন্য তারা আমাকেসহ তাদের বাড়িতে যেতে চান। যাওয়ার পথে সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ অফিস (ফকিতপুর)-এর কাছে একটি গণকবর দেখতে পাই। জানতে পারি সেখানে মদনা, চেতনা, রতনা ও ঘুঘরি নামক ৪ জনকে মাওলানা সোবহানের নির্দেশে হত্যা করা হয়েছিল এবং এদেরই কবর এটি। এরপর আমরা এবং কন্দর্পপুর এবং সিন্দুরপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হই এবং সেখানে গিয়ে শুনতে পাই পূর্ব দিন যে ৩০-৪০ জনকে বেঁধে নিয়ে আসা হয়েছিল তারাসহ এখানে আশ্রয় নেয়া শরণার্থী ও স্থানীয় লোকদেরকে মাওলানা সোবহানের নির্দেশে নির্বিচারে গুলী করে হত্যা করা হয়েছিল। এদের সংখ্যা ছিল প্রায় শতাধিক। আরো শুনতে পাই কিছু লাশ নদীতে ভেসে গিয়েছিল। এই হত্যাকা-ের সময় যারা আহত অবস্থায় বেঁচে গিয়েছিল তাদেরকে তাদের স্বজনরা নদী পার হয়ে তৎকালীন রাজবাড়ী মহকুমার পাংশায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে গিয়েছিল বলে শুনতে পাই। আরো শুনতে পাই এই হত্যাকা-ের সময় অলৌকিকভাবে মাদারী মন্ডল ও লস্কর মন্ডল নামে দু’জন লোক বেঁচে গিয়েছিল। আমি আরো শুনতে পাই নিহতদের মধ্যে আহত অবস্থায় নিশ্চিন্তপুরের খন্দকার ওবাইদুল্লাহ এবং কুড়িপাড়ার আফসার আলী পড়েছিল। তাদের স্বজনরা তাদেরকে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। আমি এই কথাগুলো এনতাজ প্রফেসর (কন্দর্পপুর) এ কে শহিদুল্লাহ (নিশ্চিন্তপুর), মুনসুর রহমান (নাড়োহাটি), এসএম সামছুল আলম, খোরশেদ আলম প্রমুখের কাছ থেকে শুনেছি। নিহতদেরকে
কন্দর্পপুরে একটি গণকবরে সমাহিত করা হয়। সেখানে এখনও প্রতিবছর ১২মে তারিখে এলাকার সমস্ত স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা গিয়ে শহীদদেরকে স্মরণ করে। সম্প্রতি সাতবাড়িয়া কলেজে এই শহীদদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি হয়েছে। তারপর থেকে এখানেই গণহত্যা দিবস পালিত হয়।
উপরে বর্ণিত লোকদের কাছ থেকে আমি আরো শুনতে পাই ১২ মে ১৯৭১ সিংহনগর, শ্যামনগর, ভাটপাড়া, গুপিনপুর এলাকাতেও ব্যাপক গণহত্যা সংঘটিত হয়। শ্যামনগরে কুরআন শরীফ পাঠরত অবস্থায় অনেক মুসলিম নারী-পুরুষকে হত্যা করা হয়। আমার ছাত্র ওয়াজেদ আলী এবং তার পিতা ফকর উদ্দিনকেও হত্যা করা হয় বলে শুনেছি। এ ছাড়া আমি নাড়োহাটির মুনসুর রহমানের কাছে শুনতে পাই ভাটপাড়া নিবাসী মইন উদ্দিন মেম্বারকেও পাক বাহিনীর সদস্যরা হত্যা করেছে।
সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মহির উদ্দিনকে মাওলানা সোবহানের নির্দেশে পাক বাহিনীর সদস্যরা হত্যা করে এবং তার বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। ঐ একই সময়ে মহির উদ্দিনের বাবা কফিল উদ্দিন প্রামাণিককেও পাক সেনারা গুলী করে কিন্তু তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে যায়। গুপিনপুর গ্রামে স্থানীয় লোকদের কাছে আরো শুনতে পাই ঐ গ্রামেরই ঝড়– ম-ল ও বাজু প্রামাণিকসহ ৭/৮ জন লোককে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরা গুলী করে হত্যা করেছে। তারপর সেখান থেকে আমি আমার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে কুড়িপাড়া প্রাইমারী স্কুলের সামনে গুলীবিদ্ধ অবস্থায় যাদেরকে দেখেছিলাম (সেকেন, এনতাজ ও মনি) তাদেরকে পরে জানতে পারি ১২ মে সন্ধ্যায় সমাধিস্থ করা হয়।
এরপর আমরা কুড়িপাড়া গ্রাম থেকে মোমরাজপুরে ফিরে এসে দেখি ঐ গ্রামের সুবোধ কুমার সাহা চৌধুরীর বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, বাড়িঘর লুটপাট করা হয়েছে এবং জানতে পারি তার স্কুল পড়–য়া ছেলে সমীর চৌধুরীকে মওলানা সোবহানের নির্দেশে গুলী করে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়াও ভোলানাথ শীল ও শ্রীনিবাস চন্দ্র রায়কেও গুলী করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনাটি ১২ মে অতি প্রত্যুষে সংঘটিত হয়েছিল বলে জানতে পারি।
আমরা বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে প্রায় ১৭০-১৭৫ জন শহীদের তালিকা প্রস্তুত করি। অপরিচিত অজ্ঞাত নিহতদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারিনি। গত ৪০ বছরে সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কন্দর্পপুর, সিন্দুরপুর, সিংহনগর ও হরিরামপুর এই ৪টি গ্রাম পদ্মার গর্ভে সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে গেছে। ইউনিয়নের আরো বেশ কয়েকটি গ্রাম আংশিকভাবে বিলীন হয়ে গেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল।

জেরা
প্রশ্ন: সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন সংগ্রাম পরিষদ কখন গঠিত হয় ?
উত্তর: সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন সংগ্রাম পরিষদ ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের পরে গঠিত হয়েছিল। প্রফেসর এনতাজ উদ্দিন এই সংগ্রাম পরিষদের সেক্রেটারি ছিলেন। আমি ১৯৭১ সালের অক্টোবরের শেষের দিকে ভারতে গিয়েছিলাম। ভারতে যাওয়ার পূর্বে আমি আমার বাড়িসহ বিভিন্ন গ্রামে অবস্থান করতাম।
প্রশ্ন: আপনি কি কাউকে ভারতে পাঠিয়েছেন?
উত্তর: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত আমি কাউকে ভারতে পাঠাইনি। ইহা সত্য নয় যে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পূর্বে আমাদের এলাকায় স্বাধীনতা সংগ্রাম সংক্রান্ত কোন কার্যক্রম শুরু হয়নি। আমাদের সাতবাড়িয়া এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আমিন মোল্লাকে আমি চিনি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তার দায়িত্ব কি ছিল তা আমি জানি না। ইহা সত্য যে, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত আমাদের এলাকায় স্বাধীনতা বিরোধীদের তেমন কোন কার্যক্রম ছিল না। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত আমাদের সাতবাড়িয়া এলাকায় সামরিক ট্রেনিং প্রাপ্ত কোন লোকের সাথে আমার দেখা হয়নি। ১৯৭১ সালে আমাদের সাতবাড়িয়া কলেজে স্কাউটের কোন কার্যক্রম ছিল না। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য আমি যাদেরকে ভারতে পাঠাতাম তারা সাতবাড়িয়া নদী বন্দর পার হয়ে কুষ্টিয়ার দিক দিয়ে যেতো। ইহা সত্য নয় যে, প্রশিক্ষকের অভাবে আমরা আমাদের সাতবাড়িয়া এলাকায় মুক্তিযুদ্ধাদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে পারিনি। আমাদের গ্রাম নিশ্চিন্তপুর থেকে সাতবাড়িয়া দক্ষিণ পূর্ব দিকে অবস্থিত। ১৯৭১ সালের পরে সাতবাড়িয়া গ্রামটির অধিকাংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আমি তৈলকুন্ডি গ্রামে কোন দিন যাইনি। আমি মাওলানা সুবহান সাহেবের পাবনা শহরের বাড়ি কখনও যাইনি এবং কোন স্থানে তার বাড়ি তা আমি জানি না।
জেরার জবাবে সাক্ষী আরো বলেন, গয়েশপুর নামে পাবনা সদরে একটি ইউনিয়ন আছে আমি জানি। তবে তার অবস্থান সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই। ১৯৭১ সালে পাবনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কে ছিলেন তা আমি বলতে পারবো না। পাবনা জেলার প্রথম পিস কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান বা ভাইস প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন তা বলতে পারবো না। মাওলানা সুবহানকে যখন পাবনা জেলার পিস কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান করা হয় তখন ঐ কমিটির প্রেসিডেন্ট বা সেক্রেটারি  কে হয়েছিলেন তা আমি বলতে পারবো না। ইহা সত্য নয় যে, ১৯৭১ সালের পূর্বে মাওলানা সুবহান সাহেবের সাথে আমার  দেখা বা কথা হয়নি। ১৯৭১ সালের পূর্বে আমি জামায়াতে ইসলামীর অফিসে কোন দিন যায়নি। ইহা সত্য যে, মাওলানা সুবহান আমাদের এমএলএ বা এমএনএ ছিলেন না।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=157221