১৪ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
অধ্যাপক গোলাম আযমের শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত
৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪, বুধবার,
অধ্যাপক গোলাম আযমের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে এখনো তার অবস্থা স্থিতিশীল নয়। আজ বুধবার আনুষ্ঠানিক মেডিক্যাল বোর্ড পরীক্ষা শেষে এ তথ্য জানানো হয়। মেডিক্যাল বোর্ডের নেতৃত্বে ছিলেন প্রফেসর ডা.এবিএম আবদুল্লাহ।

এ ব্যাপারে অধ্যাপক গোলাম আযমের ছেলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আবদুল্লাহিল আমান আজমি জানান, প্রেসার আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। ১৪০-৮০ তেই স্থিতিশীল। হার্টবিট ১৩০ থেকে ১৪০ এর মধ্যে ওঠানামা করছে। মাঝেমধ্যে অক্সিজেন সংযোগ খুলে নেয়া হচ্ছে।
জানা যায়, গতকাল সকাল ১০টার দিকে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দিলে অধ্যাপক গোলাম আযমকে প্রিজন সেল থেকে হাসপাতালের করনারি কেয়ার ইউনিট সিসিইউতে নেয়া হয়। সিসিইউতে নেয়ার পর তার একটি এক্সরে করা হয়েছে। এতে বুকের বাম পাশে একটি শ্যাডো দেখা গেছে। এটি নিউমোনিয়ার লক্ষণ হতে পারে। তবে নিশ্চিত হতে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
যখন সিসিইউতে নেয়া হয়, তখন তার রক্তচাপ ছিল ১৭০-১২০। তবে দুপুরের পর তার রক্তচাপ ছিল ১৪০/১১০। তবে হার্টবিট বেশি, মিনিটে ১৪০। স্বাভাবিক হার্টবিট হলো মিনিটে ৭২-৮৫।
তার চিকিৎসার জন্য মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন ফিজিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর মইনুজ্জামান, নেফ্রোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর রফিকুল আলম, কার্ডিওলজি বিভাগের প্রফেসর ফজলুর রহমান, প্রফেসর মেশকাত ও ডা. মোস্তফা জামান। এই বোর্ড আজ বুধবার সকাল ৯টায় তার অবস্থা পর্যালোচনা করবে।
এদিকে, দুপুরে অধ্যাপক গোলাম আযমের সঙ্গে তার স্ত্রী, ছেলে আব্দুল্লাহিল আমান আযমী, পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীরা সাক্ষাৎ করেছেন।
তার ছেলে সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহহিল আযমী বলেছেন, তার পিতার অবস্থা এখনো আশঙ্কামুক্ত নয়। তবে তিনি কথা বলতে পারছেন।
সাক্ষাৎ শেষে অধ্যাপক গোলাম আযমের আইনজীবী আসাদ উদ্দিন বলেছেন, ‘হাসপাতালের সিসিইউতে অধ্যাপক গোলাম আযমের শরীরের খোঁজ-খবর নেয়ার আগেই তিনি আমাদের কাছে মাওলানা নিজামী, আল্লামা সাঈদীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে জানতে চান।’
তিনি বলেন, ‘এ সময় অধ্যাপক গোলাম আযম জামায়াত নেতাদের মামলার রায় সম্পর্কেও বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করে উত্তর জানার চেষ্টা করেন।’
আইনজীবী আসাদ জানান, ‘আমাকে তিনি (অধ্যাপক গোলাম আযম) শুধু এটুকুই বললেন, যে অপরাধে আমাকে ৯০ বছরের কারাদ- দেয়া হয়েছে, তা কস্মিনকালেও ক্রাইম এগেইনস্ট হিউম্যানিটি নয়।’
তখন আমি তাকে বললাম, ‘জালিমের কাছে মজলুমের কখনো ন্যায়বিচার হয় না। আমরা তো চেয়ে আছি মহান আল্লাহর ফয়সালার দিকে।’ তার শারীরিক অবস্থার জন্য সবাই দোয়া করবেন, যোগ করেন ডিফেন্সের এই আইনজীবী।
বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক ব্রি. জেনারেল অব. মো. আবদুল মজিদ ভুঁইয়া জানিয়েছেন, আযম সাহেবের পূর্ণ জ্ঞান আছে। তিনি কথা বলতে পারছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। তিনি জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে অধিকতর সতর্কতার জন্য তাকে সিসিইউতে নেয়া হয়। ৫ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসার বিষয়ে ব্যবস্থা নিবে।
তিনি আইনজীবীর কাছে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ অন্যান্য জামায়াত নেতৃবৃন্দের মামলার খোঁজ-খবর জানতে চান। আসাদ উদ্দিন এসব মামলার বিষয়টি তাকে অবহিত করেছেন।
আইনজীবীদের পক্ষ  থেকে এডভোকেট আসাদ উদ্দিন দেখা করেছেন। বিকেলে তিনি কথা বলতে পারছিলেন। তিনি বলেছেন ২০১২ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে অধ্যাপক গোলাম আযম বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন সেলে রয়েছেন। ২০১৩ সালের ১৫ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ অধ্যাপক গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে।