২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে ২৩ তম সাক্ষীর জেরা শেষ পরবর্তী সাক্ষী আজ
২৬ আগস্ট ২০১৪, মঙ্গলবার,
কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ২৩ তম সাক্ষী খোরশেদ আলমের জেরা শেষ হয়েছে। গতকাল সোমবার চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ সাক্ষীকে জেরা করেন ডিফেন্স আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলাম। গতকাল আসামীর সহযোগী আইনজীবী ছিলেন আবদুস সাত্তার পালোয়ান, আসাদুল ইসলাম। অন্যদিকে প্রসিকিউসন পক্ষে ছিলেন সুলতান মাহমুদ সিমন, রিজিয়া সুলতানা প্রমুখ। আজ মঙ্গলবার ২৪ তম সাক্ষীর দিন ধার্য করা হয়েছে।
গতকালের জেরার অংশ
প্রশ্ন : সামছুল আলম কোথায় লেখাপড়া করেছেন?
উত্তর: আমি সামছুল আলম সাহেবকে সাতবাড়িয়া হাই স্কুলে পড়ালেখা করতে দেখেছি। ১৯৭১ সালে সামছুল আলম সাহেব কোন ক্লাসে পড়তেন আমার খেয়াল নেই। ১৯৭১ সালে পুরো সময় আমি বাংলাদেশে ছিলাম।
প্রশ্ন : বাসু সিকান্দারের বাড়ি কোথায়?
উত্তর : আমার খালাতো ভাই বাসু সিকান্দারের বাড়ি সিন্দুরপুর গ্রামে। ইহা সত্য নয় যে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী আমাদের এলাকায় আসার সময় অধিকাংশ লোক কাদোয়া এলাকায় চলে গিয়েছিল। আমাদের বাড়ি থেকে সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ আনুমানিক ৩০০ গজ পূর্ব দিকে। ইহা সত্য নয় যে, কাদোয়া থেকে ফকিতপুরে আসতে হলে প্রথমে কুড়িপাড়া তারপর কাচুড়ি তারপর ফকিতপুর। গুপিনপুর থেকে ফকিতপুর আনুমানিক ৩ থেকে সাড়ে ৩ কিঃ মিঃ দূরে। ১৯৭১ সালে গাজনার বিল আনুমানিক ১৩/১৪ কিঃ মিঃ চওড়া ছিল।
প্রশ্ন: আপনি কোথায় সর্বশেষ চাকরি করেছেন?
উত্তর: আমি সর্বশেষ সিরাজগঞ্জের বেলুচি থানার চাকরি করেছি। ইহা সত্য যে, আমি যখন চাকরি থেকে অবসর নেই তখন আমার ১৬/১৭ বছর চাকরি অবশিষ্ট ছিল।
আইনজীবীর জেরার জবাবে সাক্ষী আরো বলেন, আমার বর্ণিত ফকিতপুরে যে ৪ জনের কবর দেয়ার কথা বলেছি। তা সাড়ে ৪টা থেকে পৌনে ৫টার মধ্যে শেষ হয়েছিল। আমার সিন্দুরপুর ত্যাগ করে কন্দরপুরে সাড়ে ৫টা থেকে পৌনে ৬টার ভিতরে পৌঁছে, গুপিনপুরে আনুমানিক রাত ১০টা/সাড়ে ১০টার সময় পৌঁছি। কাদোয়াতে আমার ফুফার বাড়িতে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে পৌঁছি। সামছুল আলম সাহেবের পিতা মাতাকে ঐ রাতে দেখেছিলাম কিনা আমার স্মরণ নেই। কন্দরপুরে গণকবরটি আমি বা সামছুল আলম খুঁড়ি নাই। আমরা শুধু সেখানে লাশগুলো সামাধিস্থ করতে সাহায্য করেছিলাম। মোমরাজপুর থেকে গুপিনপুরের দূরত্ব আনুমানিক ৫/ সাড়ে ৫ কিঃ মিঃ।
আমি কন্দরপুরে যে দুজন আহত লোকের কথা বলেছি তার মধ্যে আফসার বেঁচে আছে কিনা আমি জানি না। তবে ওবাইদুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেছে।
সাক্ষী বলেন, ইহা সত্য যে, বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল পদে যোগদানের বয়স সীমা ১৮/২০ বছর। আমি এই সময়ের মধ্যেই পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলাম। (নিজে বলেন) আমার বয়স প্রকৃতপক্ষে বেশি ছিল এবং বয়স কম দেখিয়ে পুলিশ বাহিনীতে ভর্তি হয়েছি।
আমি ১৯৬৭ সালে লেখাপড়া ছেড়ে দিয়েছিলাম এরপর পুনরায় ১৯৭২ সাল থেকে পড়াশুনা শুরু করি। ইহা সত্য নয় যে, আমার বয়স সম্পর্কে আমার প্রদত্ত তথ্য অসত্য। ইহা সত্য নয় যে, ১৯৭১ সালে আমি ৮/৯ বছরের শিশু ছিলাম। ইহা সত্য নয় যে, ১৯৭১ সালের ১১ মে মাওলানা সোবহানের এক মেয়ে মারা গিয়েছিল এবং ১২ মে ৯/১০টার দিকে তার জানাযা হয়েছিল এবং তাতে তিনি ইমামতি করেছিলেন। ইহা সত্য নয় যে, আমি মাওলানা সোবহান সাহেবের বিরুদ্ধে শেখানো মতে অসত্য সাক্ষ্য দিলাম।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=155415