২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে ২৩তম সাক্ষীকে পুনরায় জেরা আজ
২৫ আগস্ট ২০১৪, সোমবার,
কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ২৩তম সাক্ষী খোরশেদ আলমের জবানবন্দী শেষ হয়েছে। গতকাল রোববার চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ তিনি জবানবন্দী দেন। পরে সাক্ষীকে আংশিক জেরা করেন ডিফেন্স আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলাম। গতকাল আসামীর সহযোগী আইনজীবী ছিলেন আবদুস সাত্তার পালোয়ান, আসাদুল ইসলাম। অন্যদিকে প্রসিকিউসন পক্ষে  ছিলেন সুলতান মাহমুদ সিমন, রিজিয়া সুলতানা প্রমুখ। আজ সোমবার সাক্ষীকে পুনরায় জেরা করবেন ডিফেন্স পক্ষ। অন্যদিকে ট্রাইব্যুনাল-১ এ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের  যুক্তিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। গতকাল যুক্তি উপস্থাপন করেন এডভোকেট তাপস কান্তি বল। আজ সোমবারও যুক্তিতর্ক চলবে।
সাক্ষীর জবানবন্দী
আমার নাম মোঃ খোরশেদ আলম, পিতা-মৃত দবির উদ্দিন শেখ, মাতা-মোছাঃ সোমেজান নেছা। ঠিকানা-গ্রামঃ ফকিতপুর, পোঃ সাতবাড়িয়া, থানা-সুজানগর, জেলা-পাবনা। আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৬২/৬৩ বছর। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল আনুমানিক ১৮/১৯ বছর। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি আমার বাবার সংসারে কাজ করতাম এবং লেখাপড়া করতাম। আমি অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছি। বর্তমানে আমি সংসার দেখাশুনা করি।
আমাদের গ্রামটি সুজানগর থানার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্র ছিল। সুজানগর থানার অধিকাংশ অফিস সাতবাড়িয়া ইউনিয়নে অবস্থিত ছিল। শুধু থানা এবং সাব- রেজিস্ট্রি অফিস থানা সদরে অবস্থিত ছিল। সাতবাড়িয়া একটি নদী বন্দর হিসেবে পরিচিত ছিল এবং বিভিন্ন পণ্য এই নদী বন্দরের মাধ্যমে আমদানি-রফতানি হতো। এখানে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল এবং ১৯৭১ সালে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক কর্মকা- এই সাতবাড়িয়া থেকে পরিচালিত হতো। মাওলানা সুবহান সাহেবকে আমি ১৯৭১ সাল থেকেই চিনি। কেননা তিনি ঐ সময় আমাদের এলাকায় মিটিং করতেন। তিনি ঐ সময় আমাদের সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের সিংহনগর গ্রামে পিস কমিটি এবং রাজাকার বাহিনী গঠন করেন।
১৯৭১ সালের ১২ মে আনুমানিক ভোর ৬টা সোয়া ৬টার দিকে আমি আমার নিজ বাড়ি থেকে ব্যাপক গোলাগুলীর শব্দ শুনতে পাই। গুলীর শব্দ শুনে আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন লোকের ছোটাছুটি দেখতে পাই এবং তারা বলতে থাকে পাকিস্তান আর্মিরা এসেছে তোমরা যে যার মতো পালাও। পলায়নরত লোকদের কথা শুনে আমিও বাড়ি থেকে বের হয়ে সাতবাড়িয়া ইউনয়ন পরিষদের অফিসের পাশদিয়ে যাওয়ার সময় একটি সাদা গাড়ির সাথে ৪/৫টি আর্মির গাড়ি দেখতে পাই। এই দৃশ্য দেখে আমি পার্শ্ববর্তী একটি আখ ক্ষেতের ভিতরে আত্মগোপন করি। ঐ সময় আমার সংগে ভজন সাহা, বুদ্ধিশ্বর সাহা ও বলাই সাহাও ছিল। আমি লুকানো অবস্থান থেকে দেখতে পাই আমাদের এলাকার লোকজন জীবন ভয়ে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করছে। সাদা গাড়ি থেকে সাদা পাঞ্জাবী পরিহিত অবস্থায় মাওলানা সুবহান সাহেব নামেন এবং সাথে আসা পাকিস্তান আর্মিদের গাড়ি থেকে নামা আর্মিদের সাথে কি যেন কথাবার্তা বলেন। এরপর আর্মিরা ফায়ার শুরু করে এবং সংগে সংগে কয়েকজন লোককে লুটিয়ে পড়তে দেখি। এরপর মওলানা সুবহানের বহনকারী সাদা গাড়িসহ আর্মিদের গাড়িগুলো সিন্দুরপুর কন্দরপুর অভিমুখে রওনা হয়। গাড়ি
 
গুলো চলে যাওয়ার পরও আমরা আত্মরক্ষার্থে কিছুক্ষণ আখ ক্ষেতের মধ্যে লুকিয়ে থাকি। এর কিছুক্ষণ পর ৩০-৪০ জন পাকিস্তান আর্মির আরেকটি দলকে প্রায় ৪০-৫০ জন সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে মোমরাজপুরের দিক থেকে সিন্দুরপুর কন্দরপুরের দিকে নিয়ে যেতে দেখি। ধৃত কয়েকজন লোককে আমি চিনতাম। তারা হলেন মোমরাজপুরের সাহাজ উদ্দিন, নিশ্চিন্তপুরের ওবাইদুল্লাহ, কুড়িপাড়ার রওশন, আলম, আফসার, কুদ্দুস, ফকিতপুর গ্রামের লস্কর ম-ল, মাদারী ম-ল, পূণ্য সরকার, সাতবাড়িয়ার সুরেন্দ্রনাথ সাহা এবং বাসু সাহা। আর্মি এবং ধৃত লোকজন সিন্দুরপুর কন্দরপুরের দিকে চলে যাওয়ার পর আমি ও আমার সংগীয় ভজন সাহা, বুদ্ধিশ্বর সাহা ও বলাই সাহা আখ ক্ষেতের গোপন স্থান থেকে বেরিয়ে আসি। আমরা সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ অফিসের সামনে গেলে সেখানে ৪টি লাশ পড়ে থাকতে দেখি। এরা হলেন ফকিতপুর নিবাসী মদন কুমার সরকার (সাতবাড়িয়া হাই স্কুলের দপ্তরী), চেতনা, রতনা এবং ঘুঘরিয়া। আমাদের ফকিতপুর গ্রামটি হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা ছিল, আমরা মাত্র কয়েক ঘর মুসলমান ঐ গ্রামে বাস করতাম।
এরপর সামসুল আলম আমাদেরকে আমাদের এলাকায় চলে যাওয়ার জন্য বললে সামসুল আলম, ভজন সাহা ও আমি নিজ গ্রামে আসার পথে সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এসে পৌঁছি। সেখানে পৌঁছে দেখি আমার বাবা দবির উদ্দিন শেখ, চাচা খবির উদ্দিন শেখ, ফুফাত ভাই রসাই ম-লসহ কয়েকজনকে দেখি তারা ঐখানে পড়ে থাকা ৪টি লাশ দাফনের চেষ্টা করছে, আমরাও তাদেরকে এই কাজে সহায়তা করি। এরপর সামছুল আলমসহ আমরা কয়েকজন সিন্দুরপুর কন্দরপুরের দিকে যাই। আমরা সিন্দুরপুর পৌঁছলে বুদ্ধিশ্বর বিশ্বাসের সংগে আমাদের দেখা হয়, সে আমাদের জানায়, তাদের গ্রামে ব্যাপক অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, অনেক লোককে হত্যা করা হয়েছে এবং মা-বোনদের উপর পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে।
সিন্দুরপুর থেকে আমি, সামছুল আলম এবং আরও কতিপয় ব্যক্তি কন্দরপুর গ্রামে যাই এবং সেখানে গিয়ে ঝড়ু হাওলাদারের বাড়ির পাশে ১৭/১৮ জনকে গুলীবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি এর মধ্যে ২ জন ছাড়া সকলেই ছিলেন মৃত। দুজন আহত ছিলেন এরা হলেন নিশ্চিন্তপুরের ওবাইদুল্লাহ, কুড়িপাড়ার আফসার উদ্দিন। এছাড়াও পড়ে থাকা মানুষগুলোর মধ্যে ২ জনকে আমরা সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় দেখতে পাই। এরা ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন। এরা আপন দুই ভাই ছিলেন। এরা হলেন আমাদের গ্রামের লস্কর ম-ল ও মাদারী ম-ল (বর্তমানে মৃত)। আহত ২ জনকে তাদের আত্মীয়-স্বজনরা নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। যারা অক্ষত ছিলেন তাদের আত্মীয়-স্বজনরা তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। আর যারা নিহত হয়েছিলেন তাদের মধ্যে কুড়িপাড়ার রুহুল ও আলমকে তাদের আত্মীয়-স্বজনরা তাদের বাড়িতে নিয়ে ধর্মমতে সমাধিস্থ করে। অন্যান্য নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী এদের মধ্যে আমি ফকিতপুরের সুরেন্দ্রনাথ সাহা, বাসু সাহা ও পূণ্য সরকার এই ৩ জনকে চিনতে পারি। নিহতদের লাশ কেউ নিতে না অসায় আমরা এবং স্থানীয়রা মিলে একটি গণকবরে তাদেরকে সমাধিস্থ করি।
আমরা সামছুল আলমের সংগে মোমরাজপুর যাই। সেখানে গিয়ে দেখি সুবোধ বাবুর ছেলে সমীর চৌধুরী, ভোলানাথ ও শ্রীনিবাসকে গুলীবিদ্ধ অবস্থায় লাশ হয়ে পড়ে থাকতে দেখি। আমরা আরও দেখতে পাই তাদের অভিভাবকরা এবং স্থানীয়রা তাদের সৎকারের ব্যবস্থা করছে। এরপর আমরা কুড়িপাড়ায় যাই এবং জানতে পারি এখানেও ৩/৪ জন লোককে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানায় নিহতদের মধ্যে একজন ইনতাজ, একজনের নাম মনি ও একজনের নাম সেকেন্দার গাড়োয়ান। অন্য ১ জনের নাম স্থানীয়রা বলতে পারেনি।
এরপর আমরা আনুমানিক রাত ৯টার দিকে শ্যামনগরের মোমতাজ মোল্লার বাড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে জনৈক আফসারের কাছে শুনতে পাই রাজাকার মোস্তফা ও শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিন স্থানীয়দের বলেছিল তোমরা বাড়িতে বসে কুরআন শরীফ পড়ো, তোমাদের কোনো ক্ষতি হবে না। একথা শুনে মোমতাজ মোল্লার বাড়ি এবং তার আশপাশের লোকজন নারী-পুরুষ সকলেই কুরআন শরীফ পড়তে থাকে এই অবস্থাতেই পাকিস্তান সেনারা কুরআন শরীফ পড়ারত অবস্থায় প্রায় ১৭/১৮ জনকে গুলী করে হত্যা করে এবং এদের বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন মোমতাজ মোল্লা, রুস্তম মোল্লা, ফকরুদ্দিন প্রামাণিক ও তার ছেলে ওয়াজেদ প্রামাণিক প্রমুখ। স্থানীয়রা এদের লাশ করবস্থ করে।
এরপর গুপিনপুর গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হই পথে ভাটপাড়া গ্রামে গিয়ে শুনতে পাই সেই গ্রামেও ৭/৮ জনকে গুলী করে হত্যা করা হয়েছে। গুপিনপুরে আওয়ামী লীগ নেতা মহির উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে তার গুলীবিদ্ধ লাশ খেতে পাই। তার বাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। গবাদি পশু ও আগুনে পুড়ে মারা গেছে। পরিবারের সদস্যদের সাথে আমরা তার লাশ দাফনে শরিক হই। এরপর রাত প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে সামছুল আলম এবং আমি কাদোয়ায় চলে আসি, সেখানে আমি আমার ফুফু বাড়িতে আশ্রয় নেই। সামছুল আলম গাজনার বিল পার হয়ে দুলাই গ্রামে চলে যায় এবং আমাকে বলে গিয়েছিলেন পরের দিন সকাল ১০টা সাড়ে ১০টার দিকে আমার সঙ্গে দেখা করবেন। কথা অনুযায়ী পরদিন সকালে এসে আমাকে নিয়ে সাতবাড়িয়াতে আসেন। সেখানে এসে অধ্যক্ষ ফজলুল হক, আবুবকর এবং নিহতদের স্বজনদেরকে নিয়ে আমরা নিহতদের একটি তালিকা তৈরি করার চেষ্টা করি।
সংক্ষিপ্ত জেরা
প্রশ্ন: তদন্তকারী কর্মকর্তার নাম কি ছিলো? কত তারিখে তিনি আপনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন?
উত্তর: তদন্তকারী কর্মকর্তার নাম ছিলো নূর হোসেন, কত তারিখে তদন্তকারী কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল তা স্মরণ নেই। তবে আনুমানিক ১ বছর আগে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাকে ৩ দিন জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল।
প্রশ্ন: আপনি কোন স্কুলে লেখাপড়া করেছেন?
উত্তর: আমি কন্দরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছি। আমাদের আদি নিবাস ছিল ফকিতপুর গ্রামে। ১৯৭১ সালের পূর্বে সাতবাড়িয়া গ্রামটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। সাতবাড়িয়া এলাকায় ১৯৭১ সালে সিও, টি.ই.ও অফিস, সেনেটারী প্রভৃতি অফিস ছিল। ১৯৭১ সালে আমি সাতবাড়িয়া হাইস্কুলের ছাত্র ছিলাম। সাতবাড়িয়া এলাকার হরিরামপুর গ্রাম চিনতাম। ১৯৭১ সাল থেকে গ্রামটি আংশিক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
প্রশ্ন: আপনি কোথায় কোন পদে চাকরি করেছেন ?
উত্তর: আমি পুলিশ বাহিনীতে ১৯৭৯ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত চাকরি করেছি। সর্বশেষ ২০০১ সালে কনষ্টবল পদে কর্মরত ছিলাম। আমি চাকরি হতে বরখাস্ত হইনি, পেনশন পাই।
পুলিশ বাহিনীতে চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় আমার জন্ম তারিখ কত লিখিয়েছি তা স্মরণ নাই। আমি ১৯৮৫ সালের দশম মাসে বিয়ে করেছি, তবে তারিখ স্মরণ নাই। কাবিন নামায় বয়স কত লিখিয়েছি তা স্মরণ নাই। ১৯৭১ সালে আমাদের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিল, কমর উদ্দিন শেখ।
প্রশ্ন : ১৯৭০ সালের নির্বাচন সম্পর্কে আপনার ধারণা আছে কি?
উত্তর : ১৯৭০ সালের নির্বাচন সম্পর্কে আমার ধারণা আছে। ঐ নির্বাচনে আমাদের এলাকায় জাতীয় পরিষদে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ এবং প্রাদেশিক পরিষদে আহমদ তফিজ উদ্দিন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন। প্রাদেশিক পরিষদে জামায়তের প্রার্থী ছিল, তবে নাম আমার খেয়াল নেই। আহমেদ তফিজ উদ্দিন সাহেবের বিরুদ্ধে জামায়াতের প্রার্থী ছাড়া অন্য কোন প্রার্থী ছিল কিনা আমার জানা নেই।
ইহা সত্য নয় যে, আমি আওয়ামী লীগের জনসভা ছাড়া অন্য কোনদলের জনসভা শুনতে যেতাম না। আমাদের এলাকায় জাতীয় পরিষদের জামায়াতের প্রার্থী কে ছিল আমার জানা নেই।
’৭০ সালে পাবনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ছিলেন মাওলানা আব্দুস সোবহান, আমাদের সুজানগর উপজেলা বর্তমান জামায়াতের আমীর কে বলতে পারবো না। বর্তমানে সুজানগর বিএনপির সেক্রেটারী কে তা আমার জানা নেই। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আমাদের এলাকায় আওয়ামী লীগের জনসভায় সভাপতিত্ব করে ছিলেন আহমেদ তফিজ উদ্দিন। জেরার জবাবে সাক্ষী আরো বলেন, ইহা সত্য যে, ১৯৭১ সালের ১২ মে’র পূর্বে আমাদের এলাকায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী আসে নাই। সিংহ নগরে পিস কমিটি কবে গঠিত হয়েছিল তা আমার খেয়াল নেই। সিংহ নগরে পিস কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন আমিন উদ্দিন খান । টিক্কাখান, তিনি মুসলিম লীগ করতেন না। তিনি জামায়াত করতেন, সিংহ নগরে মে মাসের পূর্বেই রাজাকার বাহিনী গঠিত হয়েছিল। সাতবাড়িয়া এলাকায় রাজাকার বাহিনী বা পিস কমিটি গঠিত হয় নাই। ১৯৭১ সালে আমাদের এলাকায় মার্চ মাসের আগ থেকেই মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং শুরু হয়। মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং সিও অফিসের সামনে শুরু হয়েছিল এবং এসএম সামছুল আলম ট্রেনিং দিত। পিডব্লিউ- ১২ এসএম সামছুল আলমই মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং দিতেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং দেওয়ার পূর্বে সামছুল সাহেব পড়ালেখা করতেন আতাইকুলা স্কুলে, তিনি আমাদের ট্রেনিং দিতেন সাতবাড়িয়া এসে।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=155279