২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে ২২তম সাক্ষীর জেরা শেষ পরবর্তী সাক্ষী রোববার
২২ আগস্ট ২০১৪, শুক্রবার,
কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ২২তম সাক্ষী এস এম সামছুল আলমের জেরা শেষ হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার চয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ সাক্ষীকে জেরা করা হয়। গতকাল আসামী পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এস এম শাহজাহান কবির। তাকে সহোযোগিতা করেন আবদুস সাত্তার পালোয়ান, আসাদুল ইসলাম। অন্যদিকে প্রসিকিউসন পক্ষে  ছিলেন সুলতান মাহমুদ সিমন, রিজিয়া সুলতানা প্রখ।  এ মামলার পরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্য আগামী রোববার।
জেরাতে ডিফেন্স আইনজীবীর প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বালেন, আমি ১৯৭২ সালের ব্যাচ হিসেবে এস.এস.সি পাস করি। আমার ১৯৭২ সালের এস.এস.সি পাস সার্টিফিকেটে জন্ম তারিখ কত লেখা আছে তা স্মরণ নেই। আমি কন্দরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছি। আমি সাতবাড়িয়া হাইস্কুলে পড়ালেখা করেছি। ইহা সত্য নয় যে, আমাকে সাতবাড়িয়া হাই স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হলে আতইকুল হাইস্কুলে ভর্তি হই। আমার বাড়ি থেকে সাতবাড়িয়া হাইস্কুল কাছে। আমি এস.এস.সি পাস করার পরও পড়ালেখা করেছি। আমি সাদুল্লাহপুর কোল (বিল) চিনি। আমি পূর্বের নতুন গোয়ালাবাড়ী গ্রাম চিনতাম, তবে নদীভাঙ্গনের পর এই গ্রামটির অবস্থান জানিনা। ১৯৭১ সালে চরতারাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবস্থান আমার মনে পড়ছে না। ইহা সত্য নয় যে, সাদুল্লাপুর কোল পাবনা সুজানগর রাস্তার দক্ষিণ দিকে।  তবে এই সাদুল্লাপুর কোল ও নতুন গোয়লবাড়ী গ্রামের মধ্যে গ্রাম ছিল। তবে সংখ্যা বা গ্রামের নাম বলতে পারবোনা। ইহা সত্য নয় যে, সাদুল্লাপুর কোলটি ৪ কি.মি লম্বা দেড় কি.মি. চওড়া। তবে কোলটি আনুমানিক আড়াই কি.মি. লম্বা, ১ কি.মি চওড়া। ১৯৭১ সালে আমার বাড়ী থেকে মোমরাজপুর উত্তর পশ্চিমে দিকে আনুমানিক এক থেকে সোয়া কি.মি. দূরে ছিল।
সাক্ষী আরো বলেন, আমার বাড়ি থেকে ফকিতপুর ইউনিয়ন পরিষদ অফিস দক্ষিণ পূর্বদিকে আনুমানিক সোয়া কি.মি দূরে। ফকিতপুর ইউনিয়ন পরিষদ অফিসটি ফকিতপুর গ্রামের পাশে, সিন্দুরপুর গ্রামটি আমার বাড়ির দক্ষিণে আনুমানিক দুই থেকে আড়াই কি.মি. দূরে। কন্দরপুর গ্রামটি আমার বাড়ি থেকে আনুমানিক ৩ থেকে সাড়ে তিন কি.মি. দূরে সিন্দুরপুরের পাশে। কাদোয়া গ্রামটি আমার বাড়ি থকে পূর্ব দিকে আড়াই থেকে ৩ কি.মি. দূরে। শ্যামনগর গ্রামটি আমার বাড়ি থেকে দক্ষিণ-পূর্ব কর্ণারে আনুমান সাড়ে ৩ কি.মি. দূরে। গুপিনপুর আমার বাড়ি থকে দক্ষিণ-পূর্ব কর্ণারে অনুমান সাড়ে ৪ থেকে ৫ কি.মি. দূরে।
চর গড়গড়িয়া আমার বাড়ি থেকে কত দুরে তা অনুমান করে বলতে পারবোনা। গাজনার বিল আমার বাড়ি থেকে ৭/৮ কি.মি পূর্বদিকে। ১৯৭১ সালে আমাদের তারাবাড়িয়া গ্রামে অনুমান ৪০০-৪৫০ পরিবার বসবাস করতো। যারা অধিকাংশই মুসলামান ছিল। ইহা সত্য যে, ফজলুল হক সাহেব ৭১ সালে সাতবাড়িয়া কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন। ৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে আমাদের এলাকায় এমপিএ নির্বাচিত হয়েছিল আওয়ামী লীগের তফিজ উদ্দিন মাস্টার। উক্ত প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সম্ভবত ছিল, তবে এই মুহুর্তে তার নাম মনে পড়ছে না। আমাদের এলাকায় জামায়াতের কে এমএনএ প্রার্থী ছিলেন তা এই মুহুর্তে মনে পড়ছে না।
হরিরামপুরে সুবহান সাহেবের বাড়ি ছিল। ইহা সত্য নয় যে, আমি আমার জবানবন্দীতে যে নদী ভাঙ্গনের কথা বলেছি তা আমার জন্মের পূর্বে হয়েছিল। মাওলানা সুবহান সাহেবের যে আত্মীয়-স্বজনরা আমাদের পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নে বাড়ি করেছিলেন তাদের কারো নাম আমি বলতে পারবোনা। ১৯৭১ সালে সাতবাড়ীয় ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর নেতা ছিলেন খবির উদ্দিন। আমি গয়েশপুর ইউপির নাম শুনেছি। তবে সেখানে কখনও যাইনি। বর্তমানে পাবনা শহরে মাওলানা সুবহানের বাসস্থান কোথায় জানিনা। ১৯৬৯ এ আমাদের এলাকায় এমএনএ কে ছিল বলতে পারবো না।
রাজাকার টিক্কা খান ওরফে আমিন উদ্দিন খান, আবুল খায়েরকে আমি চিনতাম, তবে আবু জাফরকে আমি চিনতে পারছিনা। সাংবাদিক রনেশ মৈত্র এবং জহিরুল ইসলাম বিশুকে আমি চিনি। আনোয়ার হোসেন, পিতা দেবার প্রামাণিক, টোকেন সাহা, পিতা মৃত রইচ সাহ, ঝন্টু, ফিরোজ, ফারুক সর্ব সাং মালফা। হতেম কারিগর, পিতা মোবারক মোল্লা, আফসার মোল্লা, পিতা জয়ধর, সাং- মাছপাড়ার সকলকে আমি চিনি। তারা বিএনপি, জামায়াতের রাজনীতির সংগে জড়িত তবে কে কোন রাজনৈতিক সংগঠন করে তা আমি বলতে পারবো না। ২০০১ সালের নির্বাচনে আমাদের এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কোনো প্রার্থী ছিল না।
১৯৭১ সালের পূর্বে বা পরে মাওলানা সুবহান সাহেবের সাথে আমার কথা বার্তা হয়নি। ১৯৭১ সালে আমাদের সাতবাড়ীয়া ইউনিয়নে পিস কমিটি গঠিত হয়েছিল এর চেয়ারম্যান ছিল টিক্ক খান ওরফে আমিন উদ্দিন খান। মুক্তিযোদ্ধা আমিন মোল্লাকে আমি চিনি। ৭১ সালে আমাদের এলাকায় সংঘটিত অপরাধ সমূহের বিষয়ে মামলা করার জন্য মুক্তিযোদ্ধা আমিন উদ্দিন মোল্লাকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল কি না বলতে পারবোনা। তবে এম.পি সাহেব জানেন। ১৯৭১ সালে আমাদের এলাকায় সংগঠিত অপরাধের জন্য স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল কি না তা এম.পি সাহেব জানেন।
ইহা সত্য নয় যে, ১২মে ১৯৭১ সালে আমার বর্ণিত সংঘটিত ঘটনার সংগে মাওলানা সুবহানকে জড়িয়ে যে সাক্ষ্য দিয়েছি তা অসত্য। ১১ মে, ১৯৭১ দিবাগত রাতে মাওলানা সুবহান সাহেবের মেয়ে জাকিয়া ডাইরিয়ায় আক্রন্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছিল কিনা বা ১২মে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছিল কিনা তা আমার জানা নেই। ইহা সত্য নয় যে, আমি রাজনৈতিক হিংসাপরায়ণ হয়ে মাওলানা সুবহানের বিরুদ্দে অসত্য স্বাক্ষ্য দিলাম।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=154872