২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
বাড়ি নয়, ধ্বংসস্তূপে ফিরছেন গাজাবাসী
১৩ আগস্ট ২০১৪, বুধবার,
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ বিরতির সুযোগে নিজেদের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন গাজাবাসী; কিন্তু বাড়ি থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার পর যে সুন্দর বাড়িটি তারা রেখে গিয়েছিলেন সেটি আর নেই, আছে কেবল ধ্বংসস্তূপ। গতকাল মঙ্গলবার তিন দিনের যুদ্ধ বিরতির দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে। এদিকে গাজায় যুদ্ধাপরাধ তদন্তে জাতিসংঘ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে হামাস স্বাগত জানালেও ইসরাইল প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে মিসরে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন প্রতিনিধি দলের মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ বিরতির লক্ষ্যে আলোচনায় এখন পর্যন্ত কোনো ফল আসেনি। খবর রয়টার্স ও আল-জাজিরার।

গাজায় ইসরাইলের হামলার কারণে যারা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিলেন তারা আবার বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন; কিন্তু বাড়ি ফিরে এসে দেখেন বোমার আঘাতে তাদের বাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তাদের কেউ কেউ তাঁবু টানিয়ে, কেউ আবার খোলা আকাশের নীচে রাত কাটাচ্ছেন। তবে শিশুরা তাদের স্বভাবগত আচরণই করছে। তারা বাড়িতে এসে তাদের খেলনা খুঁজছে। এর মধ্যে একটি শিশু তার বাইসাইকেলটি খুঁজে পেয়ে বেজায় খুশি। যদিও বাইসাইকেলটির চাকা নষ্ট হয়ে গেছে। ৫০ বছর বয়সী আবু খালেদ হাসান জানান, আমাদের বাড়ি আর নেই; কিন্তু তারপরও আমরা এটাকে খুব মিস করি। আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের মিস করি। তাই আবার ফিরে এসেছি। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইসরাইলি হামলায় সোয়া চার লাখ বাসিন্দা তাদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। ১২ হাজারের বেশি বাড়ি হয় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে, না হয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাজার হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ইসরাইলি হামলায় ১৯৩৮ জন নিহত হয়েছেন যাদের মধ্যে অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। আর ইসরাইলের পক্ষে মারা গেছে ৬৭ জন যাদের মধ্যে তিনজন বেসামরিক নাগরিক।

যুদ্ধাপরাধ তদন্তে জাতিসংঘ কমিটি

জাতিসংঘ গাজায় ইসরাইল এবং হামাসের যুদ্ধাপরাধ তদন্তে একটি আন্তর্জাতিক কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ কানাডার অধ্যাপক উইলিয়াম সচাবাসকে। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন- জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সেনেগালের দৌদৌ দিয়িনি এবং লেবানিজ বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ আইনজীবী আমল আলামুদ্দিন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্বাধীন এই দলটি ১৩ জুন ২০১৪ থেকে গাজার সামরিক অভিযানের সময় আন্তর্জাতিক মানবিক অধিকার ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সব ধরনের লঙ্ঘন তদন্ত করবে। ২০১৫ সালের মার্চের মধ্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে প্যানেল। এই প্যানেলকে ক্যাঙ্গারু কোর্ট আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘের তদন্তের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরাইল। ৪৭ সদস্যের জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল ইসরাইল বিরোধীদের দিয়ে প্রভাবিত বলে বহুদিন ধরে অভিযোগ জানিয়ে আসছে দেশটি। ইসরাইল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সংগঠনটি অনেক আগেই সন্ত্রাসীদের পক্ষাবলম্বন করেছে। তারা কি প্রতিবেদন দেবে তা আগে থেকেই লেখা হয়ে গেছে। এর প্রধান ইসরাইল বিরোধী বলেও অভিযোগ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে সচাবাস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমি ইসরাইল বিরোধী নই। আমি ইসরাইলের বিশ্ববিদ্যালয়েও মাঝে মাঝে ক্লাস নিই। আমি ইসরাইলের আইন পর্যালোচনা সংক্রান্ত সম্পাদকীয় বোর্ডেরও একজন সদস্য। এদিকে হলিউড অভিনেতা জর্জ ক্লুনির সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে যাওয়া আলামুদ্দিন এই তদন্তে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, এই প্রস্তাব পেয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি; কিন্তু পেশাদারি প্রতিশ্রুতিতে ব্যস্ত থাকায় দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই প্রস্তাব আমি গ্রহণ করতে পারছি না। আলামুদ্দিনের জায়গায় কাকে নিয়োগ দেয়া হবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জুহরি এই কমিটি গঠনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আমরা চাই যতো দ্রুত সম্ভব কমিটি কাজ শুরু করুক।
http://www.ittefaq.com.bd/index.php?ref=MjBfMDhfMTNfMTRfMV8xXzFfMTUyNTIw