২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
সারি সারি লাশ গাজায় ঈদের আনন্দ নেই
১ আগস্ট ২০১৪, শুক্রবার,
মুসলিম বিশ্বের শিশুরা যখন ঈদের আনন্দ উপভোগ করছে, তখন ফিলিস্তিনের গাজায় পড়ছে একের পর এক শিশুর লাশ। সেই লাশ বুকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ফেটে পড়ছেন পিতা-মাতা। আবার এমনও হয়েছে নিহত শিশুর লাশ দাফন করারও নেই কোন স্বজন। পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন সবাই মারা গেছেন। বিশ্ব মানবতাকে উপেক্ষা করে ইসরাইল একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে গাজায়। তাদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না জাতিসংঘের কর্মকর্তা-কর্মচারী পর্যন্ত। এর আগের এক খবরে বলা হয় কয়েকজন জাতিসংঘের কর্মচারী নিহত হয়েছেন। এখন জাতিসংঘের আশ্রয়কেন্দ্রও নিরাপদ নয়। সেখানে অবিরাম বোমা ফেলছে ইসরাইলের আগ্রাসী বাহিনী। তারা নৃশংস ও বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে গাজায় জাতিসংঘ পরিচালিত একটি স্কুলে। গৃহহীন ফিলিস্তিনিরা আশ্রয় নিয়েছেন জাবালিয়ার যে শরণার্থী শিবিরে তা-ও রেহাই পায় নি ইসরাইলের বর্বরতা থেকে। এসব স্থানে    পৃষ্ঠা ৫ কলাম ৪
তাদের আগ্রাসী হামলায় কমপক্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে। এ নিয়ে গাজায় ইসরাইলের হামলায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো কমপক্ষে ১২৮৩। এ জন্য ইসরাইলকে দায়ী করেছে জাতিসংঘ। ইসরাইলের সেনারা ঢুকে পড়েছে গাজার ভিতরে। সেখানে তারা এলোপাতাড়ি হামলা করে চলছে। এ নিয়ে জাবালিয়ায় শরণার্থী শিবিরে দ্বিতীয়বার হামলা চালালো ইসরাইল। গাজায় যেন এক হত্যা নেশায় মেতে উঠেছে ইসরাইল। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক মুখপাত্র ক্রিস্টোফার গানেস ইসরাইলের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এ হামলা সারাবিশ্বের জন্য লজ্জার। আমরা ওই শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছি এবং প্রমাণ সংগ্রহ করেছি। আমরা সেখান থেকে নানা নমুনা সংগ্রহ করেছি। ধ্বংসাবশেষের টুকরো ও অন্যান্য জিনিস সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করেছি। প্রাথমিক তদন্তেই আমরা দেখতে পেয়েছি জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুলে হামলার জন্য দায়ী ইসরাইল। তারাই এ স্কুলে হামলা চালিয়েছে। এ স্কুলে আশ্রয় নিয়েছিলেন ৩৩০০ শরণার্থী। ইসরাইলের সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক আইন মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। চলমান এই রক্তস্রোত থামাতে অবিলম্বে রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিতে আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। জবাবে ইসরাইলের সেনাবাহিনী বলছে, ওই স্কুলের কাছ থেকে তাদের দিকে মর্টার বোমা ছোড়া হয়েছে। এর জবাব দিতে ইসরাইলি সেনারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে। বুধবার সেখানে সব মিলে নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৫৪। ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ’র এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইসরাইলের বোমা গিয়ে পড়েছে ওই স্কুলের একটি বাথরুম ও মেয়েদের দু’টি ক্লাসরুমে। গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতাল থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক ইমতিয়াজ তৈয়ব বলেন, ওই হাসপাতালে আনা হচ্ছিল শুধু আহতদের। এ নিয়ে সেখানে আহতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ৯০। তিনি বলছেন,  চারদিকে আমি দেখতে পাচ্ছি শুধু স্প্লিন্টারবিদ্ধ মানুষ। তাদের অনেকের অবস্থা শোচনীয়। লোকজন জানে না কেন ওই আশ্রয়কেন্দ্রে ইসরাইল গোলা নিক্ষেপ করেছে। এ হামলার পর জাতিসংঘ পরিচালিত অন্য আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে যেসব মানুষ রয়েছেন তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ভীতি। তিনি আরও বলেন, আমরা যখন গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালের দিকে যাচ্ছিলাম তখন দেখতে পাই জাতিসংঘ পরিচালিত আরও বিভিন্ন স্কুল থেকে অনেক শিশুসহ পরিবারের সদস্যরা অন্যত্র চলে যাচ্ছে। এখন তাদের কাছে জাতিসংঘের স্কুল বা আশ্রয়কেন্দ্রও নিরাপদ নয়। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ পরিচালিত ৮০টি এমন স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন কমপক্ষে এক লাখ ৮০ হাজার মানুষ। ওদিকে, বুধবার ইসরাইল গাজার একটি ব্যস্ত সবজি বাজারে বোমা হামলা করেছে। এতে কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিত্যদিনের প্রয়োজনে যখন মানুষ শেজিয়া এলাকার ওই বাজারে কেনাকাটা করছিলেন তখনই চালানো হয় ওই হামলা। এতে নিহত হন ১৫ ফিলিস্তিনি। আহত হন ১৬০ জন। তার মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এর আগে ইসরাইলি সেনারা চার ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। কিন্তু তাকে ‘তামাশা’ আখ্যায়িত করে প্রত্যাখ্যান করে হামাস। এর পরই চালানো হয় ওই হামলা। ওদিকে সামরিক সূত্রে বলা হয়েছে গাজায় নিহত হয়েছে ৩ ইসরাইলি সেনা। ফিলিস্তিনি এক চিকিৎসক বলেছেন, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়ার পরই ইসরাইল খান ইউনুস এলাকায় হামলা চালিয়েছে। এতে কমপক্ষে ৭ জন নিহত হয়েছেন। এর ফলে গাজায় ক্রমাগত বাড়ছে লাশের সংখ্যা। এ সংখ্যা কত এখন সে হিসাব রাখাও দুরূহ হয়ে পড়েছে। কারণ, প্রতিক্ষণ গাজায় পড়ছে লাশ। পাখির মতো হত্যা করা হচ্ছে মানুষ।http://mzamin.com/details.php?mzamin=MzQ0NzE=&s=OA==