২৬ মে ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
প্রসিকিউশনের যুক্তি উপস্থাপন শেষ: মীর কাসেম আলীর মামলায় ডিফেন্স পক্ষের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শুরু আজ
২৯ এপ্রিল ২০১৪, মঙ্গলবার,
একাত্তরের কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়  আটক জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শেষ করেছে  প্রসিকিউশন পক্ষ। গতকাল সোমবার দ্বিতীয় ও শেষ দিনে প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ডিফেন্স পক্ষের যুক্তিতর্ক তুলে ধরবেন আইনজীবীরা।
গতকাল যুক্তিতর্কে তুরিন আফরোজ বলেন, ১৯৭১ সালে যেসকল অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তাতে বিশ্বমানবতার হৃদয়কে কাপিয়ে তুলে। প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সিমন, তাপস কান্তি বল, রেজিয়া সুলতানা চমন ও ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। ডিফেন্স পক্ষে অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম, মো. আসাদ উদ্দিন, আবুবকর সিদ্দিক, আহমেদ বিন কাসেম প্রমুখ আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
গত রোববার প্রথম দিনের যুক্তিতে মোট ১৪টি অভিযোগের আটটিতে যুক্তি তুলে ধরেন প্রসিকিউশন পক্ষ এবং গতকাল সোমবার দ্বিতীয় ও শেষ দিনেও যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেছেন তারা।  যুক্তি উপস্থাপনে সুলতান মাহমুদ সিমন বলেন, মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে ২৭ এপ্রিল রোববার যুক্তিতর্ক শুরু করে আজ (সোমবার) শেষ করেছি। মামলায় মোট ১৪টি অভিযোগের বিষয়ে আমরা কয়েকজন যুক্তি উপস্থাপন করেছি। পরে তুরিন আফরোজ লিগ্যাল পয়েন্টে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেছেন। তিনি বলেন, সবগুলোতে ভিকটিম, প্রত্যাক্ষদর্শী সাক্ষী ও দালিলিক প্রমাণসহ সকল ডকুমেণ্ট উপস্থাপন করেছি। সকল সাক্ষীর জবানবন্দী অনুযায়ী মীর কাসেম আলী ডালিম হোটেলে মীর কাশেম আলীর কর্তৃত্ব ছিলো। মীর কাশেম আলী অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। ওই সময় তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশে এবং উপস্থিতিতে হত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ভিকটিম সাক্ষীর জবানবন্দী রয়েছে।
গতকাল সোমবার ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতুত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করে আসামীপক্ষের যুক্তি খ-নের জন্য আজ মঙ্গলাবার দিন ঠিক করেন। গতকাল উপস্থাপিত যুক্তিতে তুরিন আফরোজ বলেন, একাত্তরে চট্টগ্রাম অঞ্চলের আল বদর বাহিনীর হেড কোয়ার্টার ডালিম হোটেলের পূর্ণ কর্তৃত্ব ছিল মীর কাসেম আলীর হাতে। ওই অঞ্চলের আলবদর কমান্ডার হিসেবে মীর কাসেম আলীর নির্দেশ মেনেই কাজ করতেন বাহিনীর সদস্যরা। সুতরাং ওই সময় ডালিম হোটেলসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলে বদর বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা যত নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে এর দায়ভার আসামি মীর কাসেম আলীর।
তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যেমন অত্যাচার করা হয়েছিল তেমনি ডালিম হোটেলেও সিস্টেমেটিক নির্যাতন করা হতো। তুরিন বলেন, ট্রাইব্যুনালে এটিই প্রথম মামলা যাতে ৭১ সালের নির্যাতনের প্রয়াস তুলে ধরা হয়েছে। সুলতান মাহমুদ সীমন বলেন, মীর কাশেম আলী ছিলেন চট্টগ্রামের আলবদরদের কমান্ডার। আর ডালিম হোটেলে ছিল আলবদরদের ক্যাম্প। সেই ক্যাম্পের প্রধানও ছিলেন মীর কাশেম আলী।
প্রসিকিউশনের যুক্তি উপস্থাপন শেষে ডিফেন্সের যুক্তি খন্ডনের জন্য আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করেন ট্যাইব্যুনাল। আজ যুক্তি উপস্থাপন শুরু করবেন ডিফেন্স আইনজীবীরা।
গত ১৭ এপ্রিল মীর কাসেম আলীর পক্ষে সাফাই সাক্ষী গ্রহণের জন্য তিনজনকে নির্ধারণ করে ২২ এপ্রিল  সাক্ষী গ্রহণের দিন ঠিক করে দেয়। ধার্য দিনে কাসেম আলীর পক্ষে তার বোনসহ তিনজন সাফাই সাক্ষী তাদের জবানবন্দী পেশ করেন। তার আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নুরুল ইসলামসহ প্রসিকিউশনের  ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামিপক্ষ তাদের জেরাও করেছেন।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=144905