২৬ মে ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
২২ এপ্রিল মীর কাসেম আলীর পক্ষের সাফাই সাক্ষ্য শুরু
১৮ এপ্রিল ২০১৪, শুক্রবার,
কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর পক্ষে মাত্র তিন জনকে সাফাই সাক্ষ্য দেয়ার অনুমতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একইসাথে আগামী ২২ এপ্রিল থেকে সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখও নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল-২। গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: নুরুল ইসলামের জেরা শেষে বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দিয়েছেন। এর আগে কাসেম আলীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ট্রাইব্যুনালে সাফাই সাক্ষ্য দেয়ার জন্য মীর কাসেম আলীর পক্ষে ২২ জন সাফাই সাক্ষীর তালিকা  জমা দেয় ডিফেন্স পক্ষের আইনজীবীরা। কিন্তু সেই তালিকা থেকে ট্রাইব্যুনাল প্রথমে মাত্র দু’জন সাক্ষী নির্ধারণ করে দেন। পরে আসামীপক্ষের  পুনরায় আবেদনের প্রেক্ষিতে আরো একজন বৃদ্ধি করে মোট তিনজন সাফাই সাক্ষী নির্ধারণ করে দেন ট্রাইব্যুনাল-২। সাক্ষী নির্ধারণের পাশাপাশি সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য তারিখও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। আগামী ২২ এপ্রিল সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে দিয়ে ট্রাইব্যুনাল আদেশে বলেছেন, ২২, ২৩ ও ২৪ এপ্রিলে’র মধ্যেই এই সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিরাব মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলামকে জেরা করেন আসামীপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। জেরা শেষে আসামীপক্ষে সাফাই সাক্ষীর সংখ্যা ও সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল। মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ২৪ সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ সময় আসামীর কাঠগড়ায় মীর কাসেম আলী হাজির ছিলেন। গত ১০ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার মো. নুরুল ইসলাম জবানবন্দী শেষ হয়। জবানবন্দী শেষে জেরা করেন আসামীপক্ষের আইনজীবী।
এর আগে গত নবেম্বরে মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) মধ্য দিয়ে বিচার কাজ শুরু হয়। ১১ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। তার আগে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মীর কাসেমের মামলা দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করেন ট্রাইব্যুনাল-১।
গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনা ১৪টি ঘটনায় অভিযুক্ত করে চার্জ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। ওই বছরের ২৬ মে জামায়াতের এই নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। তার আগে ১৬ মে রাষ্ট্রপক্ষ মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে ফরমাল চার্জ দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। ২০১২ সালের ১৭ জুন মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মতিঝিলে দৈনিক নয়া দিগন্ত কার্যালয় (দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশন) থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=143885