১৯ আগস্ট ২০১৯, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার জেরা অব্যাহত
১৭ এপ্রিল ২০১৪, বৃহস্পতিবার,
১৯৭১ সালে সংঘটিত কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর কাসেম আলীর মামলায় ২৪তম সাক্ষী ও  তদন্ত কর্মকর্তা নুরুল ইসলামকে গতকাল বুধবারও জেরা করেছে ডিফেন্স আইনজীবী। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার পুনরায় জেরা করার দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল-২।
জেরার উল্লেখযোগ্য অংশ
প্রশ্ন : আপনি তদন্তকালে মহামায়া ডালিম হোটেল ভবনে কয়বার এবং কবে গিয়েছিলেন?
উত্তর : তদন্তকালে মহামায়া ডালিম হোটেল ভবনে আমি সর্বমোট দুইবার যাই। প্রথমবার যাই ২৫/৯/২০১০ ইং তারিখে এবং শেষবারে যাই ২৫/৯/২০১১ ইং তারিখে।
প্রশ্ন : ডালিম হোটেল মালিক পক্ষের কারো সাথে কথা হয়েছে কি ?
উত্তর : প্রথমবার যখন আমি ডালিম হোটেল ভবনে যাই তখন ঐ ভবনের মালিকের পরিবারের কাউকে পাইনি সে কারণে উনার পরিবারের কেউ জীবিত ছিলেন কিনা তা আমি জানতে পারিনি। আমি যখন ডালিম হোটেল ভবনে প্রথমবার যাই তখন ঐ ভবনে বসবাসকারী কারো সাথে আমার কোনো কথা হয়নি।
প্রশ্ন : ডালিম হোটেলটির অবকাঠামো কেমন?
উত্তর : ১৯৭১ সালে মহামায়া ডালিম হোটেল ভবনটির যে অবকাঠামো ছিল তা বর্তমানে বিদ্যমান আছে।
জেরার অপর এক প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, এটা  সত্য নয় যে, আমি তদন্তকালে পেয়েছি যে, নাথ পরিবারের অনেক সদস্য এখনো মহামায়া ডালিম হোটেল ভবনে বসবাস করে। তদন্তে আমি পেয়েছি যে, মহামায়া ডালিম হোটেল ভবনের মালিক চন্দ্র মোহন নাথের ৪ ছেলে এবং ৬ মেয়ে। ইহা আমার জানা নেই যে, তার এক মেয়ের নাম ডালিম ছিল কিনা। ইহা সত্য যে, চন্দ্র মোহন নাথের এক ছেলে বাবুল কান্তি নাথকে আমি এই মামলায় সাক্ষী মান্য করেছি। আমি যখন দ্বিতীয়বার মহামায়া ডালিম হোটেলে যাই তখন বাবুল কান্তি নাথ ঐ হোটেল ভবনে বসবাস করতেন। বাবুল কান্তি নাথের মাতা আমার ঐ হোটেল ভবনটি পরিদর্শনের সময় জীবিত ছিলেন কিনা তা আমি জিজ্ঞাসা করিনি।
প্রশ্ন : ভবনের কততলা হোটেল হিসেবে ব্যবহৃত হতো?
উত্তর : ১৯৭১ সালে হোটেল ভবনের দ্বিতীয় তলাটি আবাসিক হোটেল হিসেবে পরিচালিত হতো। যার মালিক ছিলেন চন্দ্র মোহন নাথ। তদন্তে আমি ইহা পেয়েছি যে, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত হোটেল ভবনের নিচতলাটি খাবারের হোটেল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। আমি আমার তদন্তকালে হোটেল ভবনটির দ্বিতীয় এবং নিচতলায় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত হোটেলে কর্মরত কোনো কর্মচারীকে না পাওয়ায় তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করিনি। আমি আমার তদন্তকালে পেয়েছি যে, মহামায়া ডালিম হোটেল ভবনের তৃতীয় তলায় হোটেল মালিক যারা অবস্থান করতো তারা মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার ২/৩ দিন পূর্বে তাদের হাটহাজারী থানার ফতেহাবাদ গ্রামের বাড়ীতে চলে যায়। বাবুল কান্তি নাথ ভাইদের মধ্যে সবার বড়।
প্রশ্ন : ডালিম হোটেলটির কোন্ দিকে কোন্ কোন্ স্থাপনা ছিল?
উত্তর : ১৯৭১ সালে মহামায়া ডালিম হোটেল ভবনের পশ্চিমপাশে হিলরোডস ও পুরাতন টেলিগ্রাফ অফিস ছিল। পূর্বপাশে লোকালয় ছিল এটি হাজারী লেন নামে পরিচিত ছিল। অন্য দুইপাশে কি অবকাঠামো ছিল তা আমি তদন্ত করিনি। ইহা সত্য নয় যে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পূর্বে হাজারী লেনে ১৪টি পরিবার স্থায়ীভাবে বসবাস করতো। (নিজে বলেন) ঐ হাজারী লেনে যুদ্ধের পূর্বে স্থায়ী/অস্থায়ী সবমিলে ২০০-২৫০টি পরিবার বসবাস করতো। আমি আমার তদন্তকালে ১৯৭১ সালে হাজারী লেনে বসবাসকারী ২০ এর উর্দ্ধে জীবিত লোকের সংখ্যা কত ছিল তা বলতে পারবোনা। তবে হাজারী লেনে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বসবাসকারী ২০ এর উর্দ্ধে দুই জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।
প্রশ্ন : ডালিম হোটেল ভবনের পশ্চিম পাশের টেলিগ্রাফ অফিসটি পাকিস্তান আর্মিক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হতো মর্মে তদন্ত করেছেন কি?
উত্তর : হ্যাঁ, আমি তদন্তে জানতে পেরেছি এটা একটি সরকারী স্থাপনা ছিল। সে কারণে তার নিরাপত্তার জন্য আর্মিরা এটা পাহারা দিত।
আমি আমার তদন্তে পেয়েছি যে, ১৯৭১ সালে ২৭ মার্চ তারিখে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ‘সোয়াত’ জাহাজে করে চট্টগ্রামে সমুদ্র বন্দরে নেমে শহর দখল করে। আমি এটা তদন্ত করিনি যে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরা কবে টেলিগ্রাফ অফিস তাদের দখল করে নেয়।
প্রশ্ন : চট্টগ্রাম শহর দখলে নেয়ার পর পরই পাকিস্তান সৈন্যরা আওয়ামী লীগ সমর্থক এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হত্যা, নির্যাতন শুরু করেছিল এটা আপনি তদন্তে পেয়েছিলেন কি না?
উত্তর :  হ্যাঁ, আমি তদন্তে পেয়েছি যে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসররা জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, পিডিপি, নেজামে ইসলামী তাদের দ্বারা ঐ সময়ে সৃষ্ট শান্তি কমিটি, রাজাকার, আল-বদর, আল-সামস গংদের সহযোগিতায় এবং পাকিস্তান আর্মির এই দোসররা নিজেরাও এসব অপরাধ সংগঠন করেছিল। আমি আমার তদন্তে পেয়েছি যে, চট্টগ্রাম শহরে শান্তি কমিটি ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল তারিখে। এসময় চট্টগ্রাম শান্তি কমিটির আহবায়ক ছিলেন সাবেক প্রাদেশিক মন্ত্রী মাহমুদুন নবী চৌধুরী।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=143785