২৪ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষীর জেরা শেষ আজ দ্বিতীয় সাক্ষী
৯ এপ্রিল ২০১৪, বুধবার,

কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের প্রথম সাক্ষী  সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী আ ত ম শাহিদুজ্জামান নাসিমকে জেরা শেষ করেছেন ডিফেন্স আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। জেরার জবাবে সাক্ষী বলেছেন, স্বাধীনতার পরে মামলা করার বিষয়ে আমার যথার্থ জ্ঞান না থাকায় বা ধারণা না থাকায় এবং আমার বয়স কম থাকায় আমি কোন মামলা করিনি।  গত সোমবার জবানবন্দী দিয়েছিলেন এই সাক্ষী। পরে গতকাল মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে তাকে জেরা করেন ডিফেন্স আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। আজ বুধবার এ মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
এদিকে একই ট্রাইব্যুনালে অপর এক মামলায়  জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী  পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার জবানবন্দী শুরু হবে আজ বুধবার।  রাষ্ট্রপক্ষের ২৩ তম সাক্ষী ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার লাইব্রেরিয়ান আনিসুর রহমানের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুাল-২ এই আদেশ দেন। একই সাথে ট্রাইব্যুনাল মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ২৪ তম সাক্ষী মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ নুরুল ইসলামমের জবানবন্দী গ্রহণের জন্যও আজ বুধবার দিন ধার্য্য করা হয়েছে।  গতকাল আসামীর কাঠগড়ায় মীর কাসেম আলী হাজির ছিলেন।
মাওলানা সুবহানের
বিরুদ্ধে সাক্ষীর জেরার
উল্লেখযোগ্য অংশ
প্রশ্ন  : আপনার বর্ণিত ইসহাক সাহেব কি মাওলানা ছিলেন?
উত্তর : হ্যাঁ, তিনি মাওলানা এবং ইউনিয়ন  কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ছিলেন।
প্রশ্ন : পাকশি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কে ছিলেন?
উত্তর : ইউসুফ সাহেব। তিনি অবাঙ্গালী ছিলেন।
প্রশ্ন : ঈশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কে ছিলেন?
উত্তর : নেসার আহমেদ। তিনিও অবাঙ্গালী ছিলেন?
প্রশ্ন : নেসার আহমেদ কী ২/৩ বছর আগে মারা গেছেন?
উত্তর : না; তিনি ৮/১০ বছর আগে মারা গেছেন।
প্রশ্ন : আপনার বর্ণিত খোদা বখশ এর বাড়ি কী  ইশ্বরদীর পূর্বটেঙ্গীতে ছিল?
উত্তর : হ্যাঁ সঠিক। তিনিও ৮/১০ বছর আগে মারা গেছেন।
 প্রশ্ন : মোখলেছ খানরা কয় ভাই ছিলেন?
উত্তর : তারা তিন ভাই ছিলেন।
প্রশ্ন : আপনি কোথায় থেকে পড়ালেখা করেছেন ?
উত্তর : ইশ্বরদীতে থেকে।
প্রশ্ন : ’৭১ সালে  ঈশ্বরদী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি ৩ তলা ছিল কি?
উত্তর : না; টিনশেড ছিল। সেখানে তিনশ লোকের বেশি লোকজন নামাজ পড়তে পারতো। ঈদের জামায়াতও হতো।
প্রশ্ন : প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কে ছিলেন?
উত্তর : সম্ভবত কুঁড়েঘর প্রতিকের আব্দুল হালিম।
প্রশ্ন : ’৭১ সালে আপনি কোন দল করতেন?
উত্তর : মতিয়া চৌধুরীর নেতৃত্বে ছাত্র ইউনিয়ন করতাম।
প্রশ্ন : এখন আপনি কোন রাজনৈতিক দল করেন কি?
উত্তর : হ্যাঁ, আমি এখন আওয়ামী লীগের ঈশ্বরদী উপজেলার সহ-সভাপতির দায়িত্বে আছি।
প্রশ্ন : ’৭০ এর নির্বাচনে আপনার এলাকায় বিহারী অধ্যুষিত এলাকা কোনটি ছিল?
উত্তর : ফতেহ মোহাম্মদপুর প্রাইমারী স্কুল কেন্দ্রটি। এখানে আওয়ামী লীগ সর্বাধিক ভোট পেয়েছিল।
প্রশ্ন : ঈশ্বরদী বিমান বন্দরের নিরাপত্তায় কারা ছিল?
উত্তর : এই বিমানবন্দরের দায়িত্বে পাক সেনারা ছিল না। ১১ জন পাকসেনা হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিরাত্তার দায়িত্বে ছিল। পরে তারা বিমানবন্দরে এসে আশ্রয় গ্রহণ করেন।
প্রশ্ন : ৩০ মার্চের পরে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত আপনি আপনার ঈশ্বরদীস্থ শেরশাহ রোডের নিজ বাড়িতেই অবস্থান করেছেন?
উত্তর : থাকতাম। তবে কখনো কখনো বাইরেও থাকতাম। আন্দোলন সংগ্রামের প্রয়োজনে অনেক সময়ে আমাকে বাইরে ব্যস্ত থাকতে হতো।
প্রশ্ন : ২৫ মার্চের আগে পাবনাতে ও ঈশ্বরদীতে  পাক সেনা ও ইপিআর সদস্যদের কোন ক্যাম্প ছিল কি?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : আপনারা পাকসেনাদের প্রতিরোধের সময়ে অস্ত্র কোথা থেকে পেয়েছেন?
উত্তর : গ্রামের লোকজনদের লাইসেন্স করা অস্ত্র নিয়ে  পাকসেনাদের প্রতিরোধ করতাম।
প্রশ্ন : আপনার সাথে প্রতিরোধে অংশ নিয়েছেন এমন কারো নাম বলতে পারবেন কি?
উত্তর : না, কারো নাম বলতে পারবো না।
প্রশ্ন : আপনার বর্ণনামতে যে হত্যাকান্ডের কথা আপনি বলেছেন এতে স্বাধীনতার পরে কি কারো বিরুদ্ধে কোন মামলা বা অভিযোগ দায়ের করেছেন?
উত্তর :  না, করি নাই। কারণ আমার এ বিষয়ে কোন ধারণা বা জ্ঞান ছিল না। এছাড়া আমার বয়সও কম ছিল।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=143168