৯ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১২ তম সাক্ষীর জেরা শেষ
১৩ জুন ২০১৪, শুক্রবার,
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ১২তম সাক্ষী আবদুর রহমান সরদারকে গতকাল বৃহস্পতিবার জেরা শেষ করেছেন ডিফেন্স পক্ষের আইনজীবী। আগামী ১৬ জুন মামলার পরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্য দেয়ার তারিখ নির্ধারণ করেছেন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ  ট্রাইব্যুনাল-২।
এর আগে গত বুধবার ট্রাইব্যুনালে দেয়া জবানবন্দীতে  ১২তম এই সাক্ষী বলেন, ১৯৭১ সালে ২ মে ভোরবেলা আমি আমার গ্রামের পশ্চিম দিক থেকে  গোলাগুলীর আওয়াজ শুনতে পাই। গুলীর আওয়াজ পেয়ে আমি বাড়ির মধ্যে না ঢুকে বাড়ির পার্শ্বেই বাঁশের কঞ্চির ভিতর লুকিয়ে থাকি। কঞ্চির ভেতর লুকিয়ে থেকেই আমি ঘটনা দেখতে পাই। গতকাল ডিফেন্স  পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মোঃ মিজানুল ইসলাম, এস এম শাহজাহান কবির, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, আসাদুল ইসলাম। প্রসিকিউসন পক্ষে ছিলেন সুলতান মাহমুদ সিমন ও রিজিয়া সুলতানা।
সাক্ষীর জেরার উল্লেখযোগ্য অংশ
প্রশ্ন : আপনারা বাপ চাচারা কয় ভাই ছিলেন?
উত্তর: আমার বাপ চাচারা ২ ভাই ছিলেন।
প্রশ্ন: যুদ্ধের সময়ে আপনি কি করতেন?
উত্তর: ১৯৭১ সালে আমি দিনমজুর ছিলাম। আমার পিতাও ৭১ সালে দিন মজুর ছিলেন।
প্রশ্ন: আপনাদের কি জায়গা জমি আছে?
উত্তর: শাহপুরে আমাদের বসতবাড়ি ছাড়া অন্য কোন জায়গা জমি নেই। আমরা ৪ ভাই ও ৫ বোন, আমার চাচা মোহাম্মাদ আলী সরদারের কাপড়ের ব্যবসা এবং মুদি দোকান ছিল। তিনি নিজ গ্রামেই ব্যবসা করতেন। আমার চাচা মোহাম্মাদ আলী সাহেবের ৮ ছেলে।
প্রশ্ন : আপনাদের বাড়ির পাশ দিয়ে পাবনা পাকশী সড়ক আছে  কী?
উত্তর:  ইহা সত্য যে, আমার বাড়ির পাশ দিয়েই পাবনা-পাকসী সড়ক। ১৯৭১ সালে রাস্তাটি কাঁচা ছিল। ঈশ্বরদী থেকে শাহপুরগামী রাস্তা বাম পাশে প্রিন্সিপাল তৈয়ব সাহেবের বাড়ি এবং রাস্তার ডানদিকে শহীদ রজব আলীর  বাড়ি। শহীদ রজব আলীর  বাড়ির পূর্ব দিকে আমাদের  বাড়ি।
প্রশ্ন: আপনাদের বাড়িটি কোথায়?
উত্তর: আমাদের  বাড়িটি ঈশ্বরদী থেকে শাহপুরগামী রাস্তার লাগোয়া। মালিথা পাড়াটি আমাদের  বাড়ির পূর্ব দক্ষিণে। জিকাতলা গ্রামটি আমাদের  বাড়ির পশ্চিম দিকে। চরশাহপুর গ্রামটি আমাদের  বাড়ি থেকে উত্তর-পশ্চিম কোনায় কোয়ার্টার মাইলের কিছু বেশি দূরে হবে। দিয়ার শাহপুর গ্রামটি আমাদের  বাড়ি থেকে উত্তর দিকে আনুমানিক কোয়ার্টার মাইল হবে। বাঁশের বাথা কলেজটির নাম শুনেছি তবে কলেজটি আমাদের  বাড়ি থেকে ৩/৪ কিঃ মিঃ দূরে নয় ৫/৬ কিঃ মিঃ দূরে। ইহা সত্য যে, ১৯৭১ সালে এই কলেজটির পূর্ব দিকে সুতাগাঙ্গ নদীটি ছিল, এখন তা শুকিয়ে গিয়েছে। শাহপুর প্রাইমারী স্কুলটি আমাদের  বাড়ির পূর্ব দিকে রাস্তার উত্তর দিকে ৭০-৮০ গজ দূরে।
প্রশ্ন: ১৯৭০ সালের নির্বাচনের কথা কী আপনার মনে আছে?
উত্তর:  ৭০ সালের নির্বাচনে আমি ভোটার ছিলাম কিনা স্মরণ নেই। তবে নির্বাচনে ভোট দেইনি। ৭০ সালে কয়টি পদে এবং কয়দিনে নির্বাচন হয়েছিল তা আমার স্মরণ নেই।
 জেরার জবাবে সাক্ষী আরো বলেন,  ১৯৭১ সালে আমাদের ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সভাপতি কে ছিলেন তা আমার স্মরণ নেই। (নিজে বলেন) তবে সেক্রেটারি ছিলেন জনৈক ইব্রাহিম। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন আমিনুদ্দিন এ্যাডভোকেট। অন্য কোন ব্যক্তি ঐ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন কিনা তা আমার জানা নেই। ইহা সত্য নয় যে, ৭১ সালের পূর্বে মাওলানা সুবহানকে শুধুমাত্র এক দিনই দেখেছি। ১৯৭০ সালে আমি কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলাম না। মাওলানা সুবহান সাহেব ১৯৭০ সালে নির্বাচনে আমাদের এলাকায় প্রার্থী ছিলেন না। এ্যাড. আমিন উদ্দিন সাহেব জীবিত নাই। তিনি কবে মারা  গেছেন তা আমি জানি না। ১৯৭১ সালের ২ মে’র পূর্বে বা পরে কখনও পাকিস্তান সেনাবাহিনী আমাদের এলাকায় যায়নি। ২ মে, ১৯৭১ তারিখে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরা গ্রামের পশ্চিম দিক দিয়ে রাস্তা এবং গ্রামের ভিতর দিয়ে আমাদের এলাকায় আসে।
সাক্ষী বলেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরা পায়ে হেঁটে আমাদের গ্রামে প্রবেশ করেছিল। পাক সেনা সদস্যরা কিভাবে ফিরে গিয়েছিল বা কিভাবে গরু-বাছুর নিয়ে গিয়েছিল তা আমি দেখিনি। কারণ তখন আমি কঞ্চির ঝোঁপের ভিতর লুকিয়ে ছিলাম। পাক সেনা সদস্যদের আগমনের খবর- পেয়ে গ্রামের লোকজন পূর্ব দক্ষিণ দিকে চলে গিয়েছিল। জবানবন্দীতে বর্ণিত বাঁশের ঝাড়ের মালিক ছিলেন আমার চাচা মোহাম্মাদ আলী। ইহা সত্য যে, ইংরেজী মাসের সন তারিখ সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই। হারু ব্যাপারির  বাড়ি থেকে রহিম প্রামাণিকের  বাড়ি পূর্ব কর্ণারে কোয়ার্টার মাইল দূরে। সামছুল হকের  বাড়ি কোন গ্রামে তা আমি জানি না, তবে সে রজব আলীর দোস্ত ছিল। হামেজ উদ্দিনের  বাড়ি আমাদের শাহপুর গ্রামেই। চাঁদ আলী প্রামাণিকের  বাড়িটি জিগাতলা। আনার প্রামাণিকের  বাড়ি শাহপুর পশ্চিম পাড়া।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন, আমি জানি না যে, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার অব্যবহিত পরে ঈশ্বরদীতে বিহারী বিরোধী দাঙ্গা হয়েছিল এবং ঐ দাঙ্গায় অনেক বিহারী নিহত হয়েছিল কিনা, নকশাল নামটি আমি শুনেছি তবে কোন নকশাল আমি দেখিনি। ২৯ মার্চের ১০-১২ দিন পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঈশ্বরদীতে আসে। ইহা আমি শুনেছি যে, পাক সেনাবাহিনী ঈশ্বরদীতে আসার পর বিহারীরা স্থানীয় জনগণের উপর অত্যাচার নির্যাতন শুরু করেছিল।
সাক্ষী বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাকে তৈয়ব প্রিন্সিপাল সাহেবের  বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন। ইহা সত্য নয় যে, ২ মে তারিখটি আমি মুখস্থ করে এসেছি। আমার পিতা ২০০৩ সালে মারা গেছেন তবে তারিখ বলতে পারবো না। ইহা সত্য নয় যে, মাওলানা সুবহান সাহেব পাক সেনা সদস্যদের নিয়ে আমাদের এলাকায় যায়নি বা আমি তাকে ১৯৭১ সালে চিনতাম না। ইহা সত্য নয় যে, শেখানো মতে মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে অসত্য সাক্ষ্য দিলাম।
 http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=148900