২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে ১২ তম সাক্ষীর জবানবন্দী: গোলাগুলীর আওয়াজ পেয়ে আমি বাঁশের কঞ্চির ভেতর লুকিয়ে থাকি
১২ জুন ২০১৪, বৃহস্পতিবার,
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের বারতম সাক্ষী আবদুর রহমান সরদার গতকাল বুধবার ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সাক্ষীকে জেরা করবে ডিফেন্স পক্ষ। ট্রাইব্যুনালে দেয়া জবানবন্দিতে এই সাক্ষী বলেন, ১৯৭১ সালে ২ মে ভোরবেলা আমার গ্রামের পশ্চিম দিক থেকে গোলাগুলীর আওয়াজ শুনতে পাই। আমার বড় আব্বা মোহাম্মাদ আলীকে বলি রাস্তার দিক থেকে দেখে আসি কি হচ্ছে। আমি রাস্তার ওপর গিয়ে দেখি তৈয়ব প্রিন্সিপালের বাড়িতে আগুন জ্বলছে। এ সময়ে পাশেই ২টি গুলির আওয়াজ পেয়ে আমি বাড়ির মধ্যে না ঢুকে বাড়ির পার্শ্বেই বাঁশের কঞ্চির ভিতর লুকিয়ে থাকি। কঞ্চির ভেতর লুকিয়ে থেকেই আমি ঘটনা দেখতে পাই। গতকাল ডিফেন্স পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মো: মিজানুল ইসলাম, এস এম শাহজাহান কবির, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, আসাদুল ইসলাম। প্রসিকিউসন পক্ষে ছিলেন সুলতান মাহমুদ সিমন ও রিজিয়া সুলতানা।
সাক্ষীর জবানবন্দী (সংক্ষিপ্ত)
আমার নাম- আব্দুর রহমান সরদার, পিতা- নূর আলী সরদার (মৃত), মাতা- ফজিলা বেগম (মৃত), ঠিকানা- গ্রাম- শাহপুর, থানা- ঈশ্বরদী, জেলা- পাবনা। আমার বর্তমান বয়স- ৬৬ বছর। ১৯৭১ সালে আমার বয়স ছিল ২৩ বছর। আমি একজন দিন মজুর। আমি পড়াশুনা জানি না, শুধু মাত্র নাম স্বাক্ষর করতে জানি।
সাক্ষী বলেন, ১৯৭১ সালের ২ মে ভোরবেলা আমার গ্রামের পশ্চিম দিক থেকে গোলাগুলীর আওয়াজ শুনতে পাই। আমাদের বাড়ির নিকটবর্তী এলাকায় যখন গোলাগুলীর আওয়াজ হয় তখন আমি বাড়ির অন্যান্য লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য বলি। তারপর আমি বড় আব্বা মোহাম্মাদ আলীকে বলি রাস্তার দিক থেকে দেখে আসি কি হচ্ছে। আমি রাস্তার ওপর গিয়ে দেখি তৈয়ব প্রিন্সিপালের বাড়িতে আগুন জ্বলছে। এ সময়ে পাশেই ২টি গুলীর আওয়াজ পেয়ে আমি বাড়ির মধ্যে না ঢুকে বাড়ির পার্শ্বেই বাঁশের কঞ্চির ভিতর লুকিয়ে থাকি। এখান থেকে দেখতে পাই মাওলানা সুবহান ২০/২৫ জন পাকিস্তানী সৈন্য ও সাদা পোশাকধারী ৫/৬ জন আমাদের বাড়ির দিকে আসছে। এরা আমাদের সোনা দানা, গরু বাছুর যা ছিল সব লুট করে নিয়ে যায় এবং বাড়ি আগুনে জ্বালিয়ে দেয়। এখান থেকে তারা গ্রামের ভিতরে যায় এবং সেখানেও অনেক বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে। আমি কঞ্চির ঝোপের ভিতরে থেকে গ্রামের অন্যান্য মানুষের ঘরে আগুন দেয়ার কারণে বাঁশের গাট ফুটার শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম।
আমি ভয়ে বেলা ১টা পর্যন্ত কঞ্চির ভিতরে লুকিয়ে ছিলাম। ১টার পর আমি কঞ্চির ঝোপ থেকে বেড়িয়ে এসে দেখতে পাই আমার আর এক চাচা বকুল সরদার চাচা মুহাম্মাদ আলী সরদারের লাশের কাছে আসেন। আমিও লাশের কাছে গিয়ে আমার চাচার লাশ জড়িয়ে ধরি।
আমি আরো শুনতে পাই চাঁদ আলীর বাড়িতে সুবহান মাওলানার নেতৃত্বে পাকসেনারা অগ্নিসংযোগ করেছে। আমি হারু ব্যাপারীর বাড়ি থেকে পুনরায় রজব আলীর লাশের কাছে আসি এবং দেখতে পাই তার শালা সমন্ধিরা ঘরের দরজার পাল্লা খুলে তার ওপর রজব আলীর লাশ কাঁধে করে সেটিকে তার শ্বশুর বাড়ির দিকে নিয়ে যায়। আমার বকুল চাচা আরো কয়েক জনকে নিয়ে সামছুলের লাশটিকে আমাদের গোষ্ঠীর বাঁশ বাগানে মাটি চাপা দেয়। আমি এবং বকুল চাচা মুহাম্মদ আলীর লাশটি আমাদের বাড়ির ভিতরে গড়ের (গর্ত) মধ্যে মাটি চাপা দেই। আমি পরে গিয়ে রহিম প্রামাণিকের বাড়ির গোয়াল ঘরের সামনে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখি। আমি আরো দেখতে পাই গ্রামের প্রায় ১০/১২ টি বাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। শুনেছি সুবহান মাওলানার সঙ্গে আসা পাকসেনারা এই বাড়ি-ঘর আগুনে জ্বালিয়ে দেয়। আমি সোবহান মাওলানাকে চিনি। ১৯৭০ সালে নির্বাচনে তিনি শাহাপুর প্রাইমারী স্কুলে ভোট চাইতে এসেছিলেন। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=148815