২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে ১১তম সাক্ষীর জেরা শেষ দ্বাদশ সাক্ষ্য আজ
১১ জুন ২০১৪, বুধবার,
জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের এগারোতম সাক্ষী ফজলুর রহমানের জেরা শেষ হয়েছে। গতকাল এবং পরশু দু’দিনই সাক্ষীকে জেরা করেন ডিফেন্স পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলাম। এর আগে গত রোববার এই সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে তার জবানবন্দী দিয়েছিলেন। গতকাল ডিফেন্স পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মো: মিজানুল ইসলাম, এস এম শাহজাহান কবির, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, আসাদুল ইসলাম। প্রসিকিউসন পক্ষে ছিলেন সুলতান মাহমুদ সিমন ও রিজিয়া সুলতানা।
গতকালের জেরার
উল্লেখযোগ্য অংশ
প্রশ্ন: তিলকপুর গ্রামটি কোন ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত?
উত্তর: তিলকপুর গ্রামটি শাহপুর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত।
প্রশ্ন : মুলাডুলি ইউনিয়নটি ঈশ্বরদী জামে মসজিদ থেকে কোন দিকে?
উত্তর: মুলাডুলি ইউনিয়নটি ঈশ্বরদী জামে মসজিদ থেকে উত্তর পূর্ব দিকে।
 
প্রশ্ন: ঈশ্বরদী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এ্যালবাম-০৮ এর সম্পাদনা পরিষদের আপনি কি সদস্য ছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, সদস্য ছিলাম।
 
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের ২৩ এপ্রিল বাঘইল পাকিস্তান সেনাবাহিনী আক্রমণ করেছিল কি?
উত্তর : হ্যাঁ, ইহা সত্য ।
জেরার জবাবে সাক্ষী আরো বলেন, ১৯৬৮ সালে আমাদের এলাকায় এমএনএ বা এমপি কারা ছিলেন এটা আমার স্মরণ নেই। এই মুহূর্তে আমার স্মরণ নেই যে, মাস্টার আব্দুস সাত্তার নামে জামায়াতের পাবনা জেলার আমীর ছিলেন কিনা। মাওলানা সুবহান যখন পাবনা জেলা পিস কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন তখন তার সভাপতি ছিলেন সম্ভবত একজন অবাঙ্গালী তার নাম ছিল ক্যাপ্টেন জায়েদী।
 
প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন, আমার বর্ণিত মাওলানা সুবহান যখন পাবনা জেলা পিস কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন তখন তার সভাপতি ছিলেন সম্ভবত জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা ইসহাক, সেক্রেটারি কে ছিলেন তা এই মুহূর্তে স্মরণ নেই। আমার বাড়ি থেকে মাওলানা সোবহানের বাড়ির দূরত্ব ২০-২৫ কিঃমিঃ। জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা ইসহাক সাহেবের বাড়ি ছিল পাবনা জেলাতে। আমার জানা নাই যে, মাওলানা ইসহাক বর্তমানে জীবিত কিনা। মালেক মন্ত্রীসভার নাম আমি শুনেছি। আমার জানা নেই যে, এই মন্ত্রী সভায় পাবনা জেলার কোন সদস্য ছিলেন কিনা। মাওলানা সুবহান সাহেব কোন সময় থেকে পাবনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি হয়েছিলেন তা বলতে পারবো না।
 
সাক্ষী বলেন, ৭১ সালে ঈশ্বরদী থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের কোন পদ ছিল না। বর্তমানে ঈশ্বরদী থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের কমান্ডার আব্দুর রাজ্জাক। ৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের পর কোন এক সময় আমরা ঈশ্বরদী ডাক বাংলো আর্মি ক্যাম্পে অপারেশন চালাই। তবে সুনির্দিষ্টভাবে এই অপারেশনের তারিখটি আমি বলতে পারছি না। এই অপারেশনে আ,ত,ম শহিদুজ্জামান নাসিম, পি-ডব্লিউ-১, পি-ডব্লিউ-২ তহুরুল মোল্লা ছিলেন না।
 
৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় পাকসেনারা আত্মসমর্পণ করলেও ঈশ্বরদী পাক সেনারা ২১ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার রঘুবীর সিং পান্নু সাহেবের কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার মঞ্জুর আহমেদ এর নেতৃত্বে আত্ম-সমর্পণ করেন। এই আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে ঈশ্বরদী ইউপি চেয়ারম্যান নেছার আহমেদ খান ছিলেন না। ইহা আমার জানা নেই যে, নেছার আহমেদ খানের বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী কয়লা ডিপোর এলাকায় বিভিন্ন হত্যাকা-ের অভিযোগে মামলা হয়। কুখ্যাত রাজাকার মোটর ডাকাতকে আমি চিনতাম না, এখনও চিনি না। অত্র মামলার সাক্ষী পি-ডব্লিউ-৬ জনাব কোরবান আলীকে আমি চিনি। তাঁর পেশা কি ঠিক আমি জানি না। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা দিয়েই জীবন নির্বাহ করেন। তবে শুনেছি তিনি কবিরাজিও করেন।
প্রশ্ন: যারা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আপনার এলাকায় পাক সেনাদের দোষর হিসেবে বা নিজ উদ্যোগে মানুষ হত্যা করেছে, অপরাধমূলক কর্মকা- সংঘটিত করেছে তাদের বিরুদ্ধে আপনি স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে কোথায় কোন মামলা করা বা অভিযোগ দায়ের করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন কিনা?
উত্তর: আমি নিজে কোন অভিযোগ দায়ের করিনি। তবে খোদাবক্স খান, ইসমাইল মাওলানা, হারেজউদ্দিন, আকমল (নাম পরিবর্তন করে বর্তমানে এ্যাডভোকেট মুজাহিদ) আব্দুল কদের, সিদ্দিক এরা সবাই মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকা-ের অভিযোগে দেশ স্বাধীনের পর জেলে বন্দী ছিলেন। ৭৫ সালে জিয়াউর রহমান দালাল আইন বাতিল করলে তারা বের হয়ে যায়। তাই আমি এদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ দায়ের করিনি।
টু-কোর্ট : স্বাধীনতার পর মাওলানা সুবহান সাহেব কোথায় ছিলেন? আপনি তার বিরুদ্ধে মামলা করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন কিনা?
উত্তর : শুনেছি ১৯৭১ সালে মাওলানা সুবহান গোলাম আযমের সাথে সম্ভবত পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলেন। আমি তার বিরুদ্ধে কোন মামলা বা অভিযোগ দায়ের করিনি।
এটা আমার জানা নেই যে, আমার বর্ণিত যেসকল ব্যক্তি স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে জেলে বন্দী ছিলেন তারা ঈশ্বরদী এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের দায়েরকৃত মামলা বা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বন্দী ছিলেন কিনা। ইহা আমার জানা নেই যে, ঈশ্বরদী থানায় স্বাধীনতার পর কোন মামলা হয়েছিল কিনা।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাকে ঈশ্বরদী মানবাধিকার কমিশন কার্যালয় এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে জিজ্ঞাসা করেছেন। পাবনা জেলা পিস কমিটি প্রথম কোন তারিখে, কোথায় গঠিত হয়েছে তা আমি সঠিক বলতে পারবো না। তবে সম্ভবত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পিস কমিটি গঠিত হয়েছিল, জলঙ্গি ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলায়।
কায়সারের বিরুদ্ধে ২০
তম সাক্ষীর জবানবন্দী
আজ জেরা
এদিকে কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ২০তম সাক্ষী মো. আব্দুল মোতালেব গতকাল ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দী দিয়েছেন। জবানবন্দীতে তিনি বলেছেন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সৈয়দ কায়সারের নির্দেশে হবিগঞ্জের চান্দপুর ছাগল বাজার এলাকার চা শ্রমিক হিরামনি সাঁওতালকে ধর্ষণ ও নির্যাতন করে দুই পাকিস্তানি আর্মি। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ সাক্ষী মো. আব্দুল মোতালেব জবানবন্দীতে একথা বলেন। তার সাক্ষ্য গ্রহণে ট্রাইব্যুনালকে সহযোগিতা করেন প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত। জবানবন্দী শেষে সাক্ষীকে জেরা করেন সৈয়দ কায়সারের আইনজীবী আব্দুস সুবহান তরফদার। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আজ বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=148724