২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে ১১ তম সাক্ষীকে ডিফেন্স পক্ষের জেরা অব্যাহত
১০ জুন ২০১৪, মঙ্গলবার,
জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ১১তম সাক্ষী মোঃ ফজলুর রহমান ফান্টুকে আসামীপক্ষের জেরা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আসামীপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম সাক্ষীকে জেরা করেন। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত মূলতবি করা হয়েছে। গত রোববার ওই সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দী প্রদান করেন। গতকাল ডিফেন্স পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মোঃ মিজানুল ইসলাম, এসএম শাহজাহান কবির, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, আসাদুল ইসলাম। অন্যদিকে প্রসিকিউসন পক্ষে ছিলেন সুলতান মাহমুদ সিমন ও রিজিয়া সুলতানা।
আসামীপক্ষের জেরার জবাবে সাক্ষী বলেন, আমার জবানবন্দীতে বর্ণিত যে মামলায় আমি বন্দী ছিলাম তা ছিল একটি হত্যা মামলা। যে লোকটি মারা যায় তার নাম নবাব আলী। ১৯৬৬ সালের ১১ ডিসেম্বর নবাব আলী মারা যায়। এই ঘটনার এক বছর পর আমি জেলে যাই। ১৯৬৯ সালের কত তারিখে আমার কারাদ- হয়েছিল তা বলতে পারব না।
 জেরার জবাবে সাক্ষী বলেন, ১৯৭১ সালের ১ এপ্রিল থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত আমি ইশ্বরদী এলাকায় ছিলাম। ওই সময় মাঝে মধ্যে ঈশ্বরদী বিমানবন্দরে যাতায়াত ছিল। ঈশ্বরদী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। জেরায় আইনজীবী সাক্ষীকে প্রশ্ন করেন, ’৭১ সালের ১১ এপ্রিল দিবাগত রাতে আপনি কোন গ্রামে ছিলেন? জবাবে সাক্ষী বলেন, কোন সুনির্দিষ্ট গ্রামে থাকতাম না, দৌড়ের উপর থাকতাম। রাতে ঘুমই হত না। জেরায় সাক্ষী আরো বলেন, ’৭১ সালের ১১ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিল দিবাগত রাত পর্যন্ত ঈশ্বরদীর আশপাশে বিভিন্ন জায়গায় থাকতাম। এটা সত্য নয় যে, তহুরুল আলম, শহিদুজ্জামান নাসিম এবং আমি এক সাথেই থাকতাম।
’৭১ সালের ১১ এপ্রিল যে দিন পাকিস্তান আর্মি ঈশ্বরদীতে প্রবেশ করে সেদিন আমি ও শহিদুজ্জামান নাসিম এক সাথে ছিলাম না। ওইদিন আমি ঈশ্বরদীর পোস্ট অফিস মোড় ও থানাপাড়া এলাকায় ছিলাম।
১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ঈশ্বরদী ও তার আশপাশের এলাকায় বিহারী বিরোধী কোন দাঙ্গা হয়েছিল কি না তা আমার জানা নেই। রামনাথপুর গ্রাম ঈশ্বরদী জামে মসজিদ থেকে অনুমানিক ৭ কিলোমিটার দূরে। ঈশ্বরদী মসজিদ থেকে থানাপাড়া পূর্ব-দক্ষিণ দিকে কোয়ার্টার মাইল দূরে।
জেরায় সাক্ষী আরো বলেন, ’৭১ সালের ১১ এপ্রিল দিবাগত রাত থেকে ১৬ এপ্রিল দিবাগত রাত পর্যন্ত আমি ঈশ্বরদী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এলাকায় আসিনি। এটা সত্য নয় যে, ১১ এপ্রিল থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত আমি পাকিস্তান সেনা সদস্যদের দেখিনি। ওই ১৮ এপ্রিলের পর ’৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের পর ঈশ্বরদী মসজিদ এলাকায় আসি।
সাক্ষী আরো বলেন, নেশাজাতীয় ভাংয়ের গাছ আমি চিনি। ঈশ্বরদী মসজিদের আশপাশে ও কয়লাডিপুর আশপাশে ভাংয়ের গাছ ও ঝোঁপঝাড় ছিল। ’৭১ সালে ঈশ্বরদী মসজিদের পশ্চিম পাশে একটি ছোট রাস্তা ছিল। পূর্বদিকে মতলেব খানের বাড়ি ছিল মসজিদ থেকে মতলেব খানের বাড়ি ৩০-৪০ হাত দূরে। এটা সত্য যে, মসজিদের পূর্বদিকে যে প্রাইমারী স্কুল ছিল তা এখনও আছে। ’৭১ সালে স্কুলের পূর্ব দিকে কোন পুকুর ছিল কিনা আমার মনে নেই। স্কুল থেকে মতলেব খানের বাড়ি উত্তর দিকে ৫০ হাত দূরে। মতলেব খান আমার প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। আমি ছোট বেলা থেকে তাকে চিনি। আমি মতলেব খানের ছেলে এনামুল হক কামাল খানকে চিনি। মোয়াজ্জেম সাহেবের চার ছেলে ও তিন মেয়ে। আমার বর্ণিত ঈশ্বরদী প্রেস ক্লাবের কাছে স্মৃতি ফলকে যে ১৯ জন শহীদের নাম উল্লেখ করা আছে তাদের মধ্যে বর্ণিত তিনজন বাদে বাকী ১৬ জন শহীদের আত্মীয় স্বজনরা ওই এলাকার আশপাশে থাকেন। আমি তাদের অনেককেই চিনি।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=148634