৯ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে নবম সাক্ষীকে জেরা শেষ দশম সাক্ষীর সাক্ষ্য কাল
৪ জুন ২০১৪, বুধবার,
কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের নবম সাক্ষী মোঃ রিয়াজ উদ্দিন মন্ডলকে  জেরা করেছেন ডিফেন্স পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইমলাম। গতকাল মঙ্গলবার এই সাক্ষীকে জেরা করেন তিনি। এর আগে গত সোমবার ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দী দিয়েছিলেন রিয়াজউদ্দিন মন্ডল। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ জবানবন্দী দেন এ সাক্ষী। এ মামলার পরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়ার জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
এদিকে গত সপ্তাহে করা ডিফেন্স পক্ষের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল মাওলানা সুবহানের আইনজীবীদেরকে তদন্ত প্রতিবেদন দেখার অনুমতি দেন ট্রাইব্যুনাল-২। গতকাল ডিফেন্স আইনজীবীর জেরার জবাবে এই সাক্ষী বলেন তার মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট আছে। তবে আইনজীবীর অপর এক প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন, তিনি সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তি নন। মুক্তিযুদ্ধ করেই তিনি তার সার্টিফিকেট নিয়েছেন। এছাড়া বিশেষ কোন সুবিধা পাওয়ার আশায় তিনি এই মামলায় মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছেন না বলেও জেরার জবাবে জানান এই সাক্ষী।
গতকালের জেরার উল্লেখযোগ্য অংশ
প্রশ্ন: আপনার এলাকাতে পাক আর্মি এবং আপনার বর্ণিত মাওলানা সুবহান সাহেব যেদিন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বা যুবকদের খোঁজ করতে আসতো সেদিন তারা এলাকা ছেড়ে চলে যেত বা পালিয়ে থাকতো কি ?
উত্তর: হ্যাঁ সত্য।
প্রশ্ন: মাওলানা সুবহান সাহেবের সাথে কি আপনার বা আপনার ভাই কিংবা আলাউদ্দিনের আগে থেকেই কোন পরিচয় ছিল ?
উত্তর: আমার সাথে ও আমার ভাইয়ের সাথে পরিচয় ছিল না, তবে আলাউদ্দিনের সাথে পরিচয় ছিল কিনা তা আমি বলতে পারবো না। 
প্রশ্ন: আপনাদের অরণখোলা এলাকাতে কখন শান্তি কমিটি গঠিত হয় ?
উত্তর: আমার এলাকাতে শান্তি কমিটি গঠিত হয়নি।
প্রশ্ন: অরণখোলা হাটে বিহারীদের কোন ব্যবসা বা যাতায়াত ছিল না ।
উত্তর: হ্যাঁ, সত্য।
প্রশ্ন: অরণখোলা এলাকাটি ছিল ঈশ্বরদী ইউনিয়নের মধ্যেই।
উত্তর:  হ্যাঁ, সত্য।
প্রশ্ন: ঈশ্বরদীতে অরণখোলা ছাড়া আর কোন গরুর হাট ছিল কি ?
উত্তর: না, ছিল না।
প্রশ্ন: ঈশ্বরদীতে কসাই যারা ছিলো তারা প্রায় সকলেই ছিল বিহারী।
উত্তর: হ্যাঁ সত্য।
প্রশ্ন: পাক আর্মিরা আপনাদের এলাকাতে আসার পর বিহারীরা বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে এবং তারা আপনাদের ওপর বেশি চড়াও হয় ও নির্যাতন শুরু করে। অনেক বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেয়, অনেককে হত্যাও করে।
উত্তর: শুধু বিহারীরা একা করে না। অন্যরাও করতো।
প্রশ্ন: রাজাকার বাহিনী কবে গঠিত হয় ?
উত্তর: আমি বাড়ি যাওয়ার ১০/১৫ দিন পরেই গঠিত হয়। ঈশ্বরদীতে গঠিত হয়েছিল।
প্রশ্ন: আপনার এলাকাতে কি মুজাহিদ বাহিনী ছিল ?
উত্তর: আমি এতটুকু শুনেছি যে ঈশ্বরদীতে মুজাহিদ বাহিনী ও বদর বাহিনী ছিল।
প্রশ্ন: আপনার দ্বিতীয় স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে আপনার বিরুদ্ধে একটি মামলা চলছে।
উত্তর: হ্যাঁ, চলছে। তবে মামলাটি মিথ্যা। আমার বিরুদ্ধে যারা আছে তারাই এই মামলাটি দায়ের করেছে।
প্রশ্ন: আপনি এই ট্রাইব্যুনালে মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তুলে সাক্ষ্য দিয়েছেন তা বানোয়াট ও অসৎ উদ্দেশেই এই সাক্ষ্য দিয়েছেন।
উত্তর: সত্য নয়।
প্রশ্ন: আপনি একজন সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তি। আপনি মুক্তিযুদ্ধ না করেই ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়েছেন।
উত্তর: সত্য নয়। আমার কাছে সার্টিফিকেট আছে।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=148084