১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে জব্দ তালিকার সাক্ষী: জব্দনামার বিষয়বস্তু সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নাই
৪ জুন ২০১৪, বুধবার,
কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন সরকারপক্ষের ১৮তম সাক্ষী মো. এজাবদ্দীন মিয়া। তিনি সরকার পক্ষের জব্দ তালিকার শেষ সাক্ষী। এজাবদ্দীন মিয়া বাংলা একাডেমির সহকারী লাইব্রেরীয়ান। জবানবন্দীতে সাক্ষী এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে প্রকাশিত কয়েকটি পত্রিকার ১১টি কাটিং ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শনী করেন। জবানবন্দী শেষে সাক্ষীকে জেরা শেষ করেন আসামীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আব্দুস সুবহান তরফদার। পরে ট্রাইব্যুনাল আগামি ১৫ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইদ্রিছ আলীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে অপর দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাক্ষ্য গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সরকার পক্ষে জবানবন্দী গ্রহণ করেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম ও প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল। আসামীপক্ষে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট রায়হান উদ্দিন ও মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন। সাক্ষ্যগ্রহণকালে এটিএম আজহারুল ইসলাম কাঠগড়ায় ছিলেন।
জবানবন্দী নিম্নরূপ : আমার নাম মো. এজাবদ্দীন মিয়া। আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৪০ বৎসর। আমি বাংলা একাডেমির লাইব্রেরীয়ান হিসেবে কর্মরত আছি। গত ১৭-১০-২০১২ এবং ০৬-০৪-২০১৪ তারিখে আমার বর্তমান কর্মস্থলে একই পদে কর্মরত ছিলাম। জব্দ তালিকার উল্লেখিত তারিখে এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাংলা একাডোমির গ্রন্থাগারের পত্রিকা শাখায় আসেন এবং ১৯৭১ সালের বিভিন্ন পত্রিকা দেখতে চান। আমি তদন্তকারী কর্মকর্তার চাহিদা মোতাবেক ১৯৭১ সালে প্রকাশিত বিভিন্ন পত্রিকা সরবরাহ করি এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা ঐ সকল পত্রিকার মধ্য হতে যে গুলো প্রয়োজনীয় তাহা স্ক্যান করে প্রিন্ট আউট করে নিয়ে তাহা জব্দনামা মূলে জব্দ করেন।
তদন্তকর্মকর্তা ঐ সময় ১৯৭১ সালের ০২-০৫-১৯৭১ ইং সালের দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার পৃষ্ঠা নং ৬ এর পাতায় ১ নং কলামে প্রকাশিত “রংপুরে মিছিলে সেনা বাহিনীর সাথে একাত্ম ঘোষণা” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের সত্যায়িত কপি জব্দনামা মূলে জব্দ করেন। এই সেই জব্দকৃত পত্রিকার অংশ বিশেষ প্রদর্শনী-২ এবং উহাতে আমার দস্তখত প্রদর্শনী -২/১ হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই তারিখে তিনি ০৮-১০-১৯৭১ইং তারিখের পূর্বদেশ পত্রিকার ১ ও ৬ নং পাতায় “দিনাজপুরে ভারতীয় হামলা, রংপুর গ্রামে ৭৯ জন ভারতীয় এজেন্ট নিহত” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের সত্যায়িত কপি জব্দনামা মূলে জব্দ করেন। এই সেই জব্দকৃত পত্রিকার অংশ বিশেষ প্রদর্শনী-৩ এবং উহাতে আমার দস্তখত প্রদর্শনী-৩/১ হিসেবে চিহ্নত হইল। একই তারিখে তিনি ০৭-০৮-১৯৭১ইং তারিখের দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার ৫ নং পাতায়” রংপুর জেলায় ৬ হাজারেরও বেশি রেজাকার ট্রেনিং নিচ্ছে” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের সত্যায়িত কপি জব্দনামা মূলে জব্দ করেন। একই তারিখে তিনি ১২-০৮-১৯৭১ ইং তারিখের দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার ১ ও ৬ নং পাতায়” রংপুরে শান্তি কমিটির সদস্যদের উদ্দেশ্যে গবর্ণর, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিকারীরা জনগণের হিতৈশী নয়” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের সত্যায়িত কপি জব্দনামা মূলে জব্দ করেন। এই সেই জব্দকৃত পত্রিকার অংশ বিশেষ প্রদর্শনী ৫ এবং উহাতে আমার দস্তখত প্রদর্শনী-৫/১ হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই তারিখে তিনি ২৪-১০-১৯৭১ ইং তারিখের দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার ১ নং পাতায় “রংপুরে ৭০ জনেরও বেশি ভারতীয় চর নিহত” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের সত্যায়িত কপি জব্দনামা মূলে জব্দ করেন। এই সেই জব্দকৃত পত্রিকার অংশ বিশেষ প্রদর্শনী-৬ এবং তাতে আমার দস্তখত প্রদর্শনী-৬/১ হিসেবে চিহ্নত হইল। একই তারিখে তিনি ২৭-১০-১৯৭১ইং তারিখের দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার ১ নং পাতায় “রংপুরে ছাত্র সংঘের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের সত্যায়িত কপি জব্দনামা মূলে জব্দ করেন। এই সেই জব্দকৃত পত্রিকার অংশ বিশেষ প্রদর্শনী-৭ এবং তাতে আমার দস্তখত প্রদর্শনী-৭/১ হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই তারিখে তিনি ০৫-১১-১৯৭১ইং তারিখের দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার ১নং পাতায় “রেজাকারদের হাতে ৫ জন ভারতীয় চর খতম” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের সত্যায়িত কপি জব্দনামা মূলে জব্দ করেন। এই সেই জব্দকৃত পত্রিকার অংশ বিশেষ প্রদর্শনী-৮ এবং তাতে আমার দস্তখত প্রদর্শনী-৮/১ হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই তারিখে তিনি ১২-১১-১৯৭১ ইং তারিখের দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার ১ ও ৬ পাতায় “রেজাকাররা ভারতীয় চরদের ৪টি নৌকা ডুবিয়ে দিয়েছে” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের সত্যায়িত কপি জব্দনামা মূলে জব্দ করেন। এই সেই জব্দকৃত পত্রিকার অংশ বিশেষ প্রদর্শনী-৯ এবং তাতে আমার দস্তখত প্রদর্শনী-৯/১ হিসেবে চিহ্নিত হইল। একই তারিখে তিনি ১২-০৮-১৯৭১ইং তারিখের দৈনিক আজাদ পত্রিকার ১ ও ৬ নং পাতায় “রংপুরে শান্তি কমিটির বৈঠকে লে:জে: টিক্কা খান, দেশের অনিষ্ট চেষ্টায় লিপ্ত ব্যক্তিরা জনগণের শুভাকাংখী হইতে পারেনা” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের সত্যায়িত কপি জব্দনামা মূলে জব্দ করেন। এই সেই জব্দকৃত পত্রিকার অংশ বিশেষ প্রদর্শনী-১০ এবং তাতে আমার দস্তখত প্রদর্শনী-১০/১ হিসেবে চিহ্নত হইল। একই তারিখে তিনি ০৮-১০-১৯৭১ইং তারিখের দৈনিক আজাদ পত্রিকার ১নং ও শেষ পাতায় “রংপুরে ৭৯ জন ভারতীয় দালাল নিহত : বহু অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের সত্যায়িত কপি জব্দনামা মূলে জব্দ করেন। এই সেই জব্দকৃত পত্রিকার অংশ বিশেষ প্রদর্শনী-১১ এবং তাতে আমার দস্তখত প্রদর্শনী-১১/১ হিসেবে চিহ্নিত হইল। এই সকল পত্রিকা যে জব্দনামা মূলে জব্দ করা হয়েছিল এই সেই জব্দ তালিকা প্রদর্শনী-১২ এবং তাতে আমার দস্তখত প্রদর্শনী-১২/১ হিসেবে চিহ্নিত হইল।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ০৬-০৪-২০১৪ ইং তারিখে আমাদের বাংলা একাডেমি হতে ১৯৭১ সালের ১৩-০৯-১৯৭১ইং তারিখের দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার ৩নং পাতায় “রংপুরে দুষ্কৃতিকারীদের হাতে মেজবাহ উদ্দিনের শাহাদাত” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের সত্যায়িত কপি জব্দনামা মূলে জব্দ করেন। এই সেই জব্দকৃত পত্রিকার অংশ বিশেষ প্রদর্শনী-১৩ এবং তাতে আমার দস্তখত প্রদর্শনী-১৩/১ হিসেবে চিহ্নিত হইল। এই সেই জব্দনামা প্রদর্শনী-১৪ এবং তাতে আমার দস্তখত প্রদর্শনী-১৪/১ হিসেবে চিহ্নিত হইল। স্ক্যানকৃত উল্লেখিত পত্রিকা সমূহের মূল কপি সমূহ বাংলা একাডেমির প্রধান গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত আছে।
জেরার বিবরণ : প্রশ্ন : জব্দকৃত পত্রিকার ভিতরে কি আছে এ বিষয়ে অপনার কোন ধারণা আছে কিনা? উত্তর : জব্দনামার বিষয়বস্তু সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নাই।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=148091