২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে নবম সাক্ষীর জবানবন্দী ডিফেন্স পক্ষের জেরা আজ
৩ জুন ২০১৪, মঙ্গলবার,
কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের নবম সাক্ষী মো. রিয়াজ উদ্দিন মন্ডল ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দী দিয়েছেন। গতকাল সোমবার চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ জবানবন্দী দেন এ সাক্ষী। জবানবন্দী গ্রহণে ট্রাইব্যুনালকে সহযোগিতা করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সিমন। জবানবন্দী নেয়া শেষ হলে সাক্ষীকে সংক্ষিপ্ত জেরা করেন আসামীপক্ষের আইনজীবী শাহজাহান কবির। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত তা মুলতবি করা হয়।
জবানবন্দী (সংক্ষিপ্ত)
জবানবন্দীতে সাক্ষী বলেন, ১৯৭১ সালে তিনি আনসার বাহিনীতে চাকরি করতেন। তখন তার বয়স ছিল ২৮ বছর। পড়াশুনা বলতে তিনি শুধু দস্তখত করতে পারেন। কৃষিজীবী মো. রিয়াজ উদ্দিন মন্ডল পাবনার ঈশ্বরদীতে অরণখোলায় থাকেন। জবানবন্দীতে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি সকাল আটটার দিকে মাওলানা সুবহান ও খোদা বকস, কিছু বিহারী এবং পাকিস্তানি আর্মিদের নিয়ে আলাউদ্দিন মিয়ার বাড়িতে যায়। সেখানে আলাউদ্দিন মিয়াকে এবং অস্ত্র খুঁজে না পেয়ে বাড়িঘর লুটপাট করে এবং এক পর্যায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
সেখান থেকে গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় যায় সুবহান, খোদা বকস এবং তাদের সঙ্গে থাকা বিহারী ও পাকিস্তানি সেনারা। সাক্ষী জবানবন্দীতে আরো বলেন, আমাদের বাড়িতে এসেও সুবহান মওলানা, খোদা বকস এবং পাকিস্তানি সেনা সদস্যরা আমার ভাই জয়েন উদ্দিন ওরফে ঝড়ু প্রামাণিক এবং আমাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। সুবহানকে আসতে দেখে আমি বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে লুকিয়ে পড়ি। তারা আমাদের না পেয়ে বাড়িঘর লুটপাট করে আগুন ধরিয়ে দেয়।
সেখান থেকে সুবহান এবং তার সঙ্গে আসা লোকজন গ্রামের হিন্দু পাড়ায় যায়। সেখানেও তারা বাড়িঘর লুটপাট করে আগুন ধরিয়ে দেয়। লুটপাটকৃত মালামাল মওলানা সুবহান মহিষের গাড়িতে তুলে জোহরের নামাজের পর ঈশ্বরদীর দিকে চলে যায় বলে জবানবন্দীতে উল্লেখ করেন।
 ১৯৭১ সালের জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রথম দিকে সকাল ১০ টার দিকে সুবহান, খোদা বকস এবং রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা অরণখোলা গরুরহাটে এসে আলাউদ্দিন মিয়া এবং ঝড়ু প্রামাণিককে খোঁজাখুঁজির পর এক পর্যায়ে তাদের ধরে ফেলে। তাৎক্ষণিকভাবে মারধরের পর তাদের কাছে রাইফেল কোথায় রেখেছে জানতে চাওয়া হয়।
 এরপর আলাউদ্দিন এবং ঝড়ু প্রাণিককে মারতে মারতে ঈশ্বরদীতে খোদা বকস খাঁ-এর রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। রাজাকার ক্যাম্প থেকে তাদের ঈশ্বরদী ডাকবাংলোতে নিয়ে যায় বলে জবানবন্দীতে উল্লেখ করেন সাক্ষী মো. রিয়াজ উদ্দিন মন্ডল।
তিনি বলেন, এর দুইদিন পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে আলাউদ্দিনের ভাই জালাল উদ্দিন মিয়া, তার স্ত্রী এবং ছেলে, আমি এবং ঝড়ু প্রামাণিকের স্ত্রী মুসুরিয়াপাড়ার কাশিম উদ্দিন হাজির কাছে গিয়ে আলাউদ্দিন ও ঝড়ু প্রামাণিককে ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ জানালে তিনি ঈশ্বরদীর খোদা বকসের কাছে যেতে বলেন।
সে অনুযায়ী খোদা বকসের কাছে গিয়ে আটককৃতদের ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ জানালে তিনি বলেন, আমার তো একার কিছু করার নেই, তোমরা সুবহান মাওলানার কাছে যাও। এ কথার প্রেক্ষিতে আলাউদ্দিনের ভাই জালাল উদ্দিন পাবনায় যায় এবং সেখানে গিয়ে তার এক আত্মীয় আল এন্তেজাকে নিয়ে সুবহান মাওলানার সঙ্গে দেখা করে। সুবহান তাদের কথা শোনার পর বলেন, “তোমরা বাড়িতে যাও, আমি খোদা বকসকে এবং ডাকবাংলোয় আর্মিদের টেলিফোনে বলে দিচ্ছি যেন তারা আলাউদ্দিন ও ঝড়ুকে ছেড়ে দেয়।” এ কথাগুলো যারা সুবহানের কাছে গিয়েছিল তাদের কাছে শুনেছেন বলে সাক্ষী ট্রাইব্যুনালকে জানান।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=147999