১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে ১৬ ও ১৭তম সাক্ষীর সাক্ষ্য পরবর্তী সাক্ষী আগামীকাল
২ জুন ২০১৪, সোমবার,
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ১৬ তম সাক্ষী এ ওয়াই এম মোয়াজ্জেম আলী ও ১৭ তম সাক্ষী তপন কুমার অধিকারীর জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই দুই সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ করার পর এটিএম আজহারের আইনজীবী আবদুস সোবহান তরফদার সাক্ষীদের আংশিক জেরা করেন। এরপর আগামীকাল মঙ্গলবার পরবর্তী সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।
সাক্ষ্যগ্রহণের সময় এটিএম আজহারুল ইসলামকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। তার পক্ষে আইনজীবী এডভোকেট আবদুস সোবহান তরফদার ছাড়াও এডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন ও এডভোকেট রায়হান উদ্দিন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষী এ ওয়াই এম মোয়াজ্জেম আলী জবানবন্দীতে বলেন, ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ সকাল ১১টায় পাকিস্তান আর্মিরা আমার পিতাকে বাড়ির সামনে থেকে ধরে রংপুর ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যায়। ’৭১ সালের ৩ এপ্রিল আমার পিতাসহ ১০ জনকে পাকিস্তান আর্মিরা নির্যাতন করে দহিগঞ্জ শ্মশানঘাটে নিয়ে গুলী করে হত্যা করে। সৌভাগ্যক্রমে মন্টু ডাক্তার বেঁচে যান। স্বাধীনতার পর মন্টু ডাক্তারের কাছ থেকে শুনেছি ইসলামী ছাত্রসংঘের অনেকেই ওই নির্যাতন ও হত্যার সাথে জড়িত ছিল। তাদের মধ্যে ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি এটিএম আজহারুল ইসলাম ছিল। মন্টু ডাক্তার ১৯৮৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
জবানবন্দী শেষে আসামীপক্ষের জেরার জবাবে সাক্ষী বলেন, আমার জন্ম তারিখ ৫ জুন ১৯৫৭। ’৭১ সালে আমি নবম শ্রেণীর ছাত্র ছিলাম না, এটা সত্য নয়। আমরা ছয় ভাই ও তিন বোন। ভাইদের মধ্যে আমি দ্বিতীয়। আমি তদন্তকারী কর্মকর্তার শিখানো মতে এটিএম আজহারুল ইসলামের নাম বলেছি, এটা সত্য নয়।
এরপর রাষ্ট্রপক্ষের ১৭তম সাক্ষী তপন কুমার অধিকারীর জবানবন্দীতে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে ২৪ মার্চ আমাদের রংপুর জেলার, কোতোয়ালী থানাধীন ধাপইঞ্জিনিয়ার পাড়ার বাড়িতে আক্রমণ করে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী। তারা আমার পিতা দুর্গা দাস অধিকারী ও ছোট ভাই উত্তম কুমার অধিকারীকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাদের অন্য বন্দীদের সাথে রংপুর ক্যান্টনমেন্টে আটক রেখে ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয়। ৩ এপ্রিল মধ্যরাতে শহরের দহিগঘঞ্জ শ্মশানঘাটে আমার বাবা ও ভাইসহ ১১জনকে গুলী করে হত্যা করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। এসময় ভাগ্যক্রমে দীনেশ চন্দ্র ভৌমিক ও মন্টু ডাক্তার বেঁচে যান। মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে যাওয়া মন্টু ডাক্তারের কাছ থেকে জানতে পারি, রংপুর ক্যান্টনমেন্টে ছাত্রসংঘের নেতাকর্মীদের যাতায়াত ছিল। তাদের মধ্যে আজহারও ছিলেন।
এদিকে আজহারের মামলায় অতিরিক্ত ডকুমেন্ট জমা দেয়ার সুযোগ চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা একটি অবেদন মঞ্জুর করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আবদুল জব্বার সরকার নামে জনৈক ব্যক্তির দেয়া বক্তব্য জবানবন্দী হিসেবে গ্রহণ করতে রাষ্ট্রপক্ষের করা অপর আবেদনের বিষয়ে আদেশের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল-১।
এরপর আসামীপক্ষের জেরার জবাবে সাক্ষী বলেন, দীনেশ চন্দ্র ভৌমিক ও মন্টু ডাক্তার ঘটনার বিষয়ে আসামী এটিএম আজহারুল ইসলাম জড়িত থাকার বিষয়ে কিছু বলে নাই, এটা সত্য নয়। ২৮ মার্চের ঘটনার কথা ইতঃপূর্বে আমি কারো নিকট বলি নাই, এটা সত্য নয়। আমি প্রসিকিউশনের শেখানো মতে এটিএম আজহারুল ইসলামকে জড়িয়ে অসত্য সাক্ষ্য দিলাম, এটা সত্য নয়।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=147914