২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে অষ্টম সাক্ষীর জেরা শেষ নবম সাক্ষীর সাক্ষ্য আজ
২ জুন ২০১৪, সোমবার,
জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের অষ্টম সাক্ষী আশরাফ ঊদ্দিন মিয়াকে গতকাল রোববার জেরা করেছে ডিফেন্স পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলাম। জেরা শেষে নবম সাক্ষীর জন্য আজ সোমবার দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই তারিখ নির্ধারণ করেন। গতকাল ডিফেন্স পক্ষে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট মিজানুল ইসলাম, এডভোকেট এস.এম শাহজাহান কবির, এডভোকেট আসাদুল ইসলাম ও এডভোকেট আবদুস সাত্তার পালোয়ান প্রমুখ।
জেরার উল্লেখযোগ্য অংশ
প্রশ্ন : আপনার জন্ম তারিখ কত?
উত্তর : আমার প্রকৃত জন্ম তারিখ কবে তা আমার স্মরণ নেই।
প্রশ্ন : আপনার পিতা মাতার মৃত্যু তারিখ কবে?
উত্তর : আমার পিতা ও মাতার মৃত্যুর সন ও তারিখ মনে নেই।
প্রশ্ন : আপনার পিতা স্বাধীনতা উত্তরকালে ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার নির্বাচিত হয়েছিলেন কী?
উত্তর :  না, সত্য নয় ।
প্রশ্ন : আপনার পিতা কবে মারা গেছেন?
উত্তর : আমার পিতা ও জয়েন উদ্দিন ঝড়– স্বাধীনতার আনুমানিক ১০-১২ বছর পরে মৃত্যুবরণ করেন।
প্রশ্ন :  ঈশ্বরদী বিমানবন্দরে কবে সেনাবাহিনী এসেছিল?
উত্তর : ১৯৭১ সালের চৈত্র মাসের শেষের দিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঈশ্বরদী বিমানবন্দরে এসেছিল।
প্রশ্ন : কবে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল?
উত্তর : স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর তারিখ আমার মনে নেই।
 জেরার জবাবে সাক্ষী আরো বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ যখন শুরু হয় তখন ঈশ্বরদী বিমান বন্দরে কর্মরত সব পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছিল বলে আমি শুনেছি। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পূর্বে আমি কখনই ঈশ্বরদী বিমান বন্দরে যাইনি। ঈশ্বরদী বড় মসজিদটি আমাদের বাড়ি থেকে পশ্চিমে আনুমানিক ২ মাইলম দূরে। ঈশ্বরদী থেকে ডাক বাংলোর দূরত্ব আনুমানিক কোয়ার্টার মাইল দক্ষিণে। স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর পূর্বে কোনদিন আমি ডাকবাংলোতে যাইনি। ইহা আমার স্মরণ নেই যে, ১৯৭১ সালে ডাকবাংলোটি তিন কক্ষ বিশিষ্ট একতলা দালান ছিল কি না।
সাক্ষী আরো বলেন, আমি শুনিনি  যে, স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর আগে ঈশ্বরদী এলাকায় বিহারী বিরোধী একটি দাঙ্গা হয়েছিল। ইহা সত্য যে, আমাদের অরনখোলা গ্রামটি ১৯৭১ সালে ঈশ্বরদী ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৭১ সালে ঈশ্বরদী ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন আমজাদ হোসেন ম-ল। তিনি বাঙ্গালী ছিলেন।
প্রশ্ন : আপনাদের গ্রামে কি কোন বিহারী ছিল?
উত্তর : ১৯৭১ সালে আমাদের গ্রামে কোন বিহারী ছিল না। ইহা সত্য নয় যে, ১৯৭১ সালে চৈত্র মাসের শেষের দিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঈশ্বরদী এলাকায় প্রবেশের পরে বিহারীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ব্যাপক অত্যাচার শুরু করলে আমাদের এলাকার অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে যান।
প্রশ্ন : আপনার পিতা কবে থেকে আনসার বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন?
উত্তর : আমার পিতা ৭১ সালের ৮-১০ বছর পূর্ব থেকেই আনসার কমান্ডার ছিলেন। তিনি আনসার বাহিনীর নিয়মিত সদস্য ছিলেন না। স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পাক-সেনারা ঈশ্বরদী বিমানবন্দরে আসার পূর্ব পর্যন্ত আমার পিতা আমাদের বাড়িতে থাকতেন। আমার জবানবন্দীতে বর্ণিত মতে মাওলানা সুবহান ও পাক-সেনারা যেদিন আমাদের বাড়িতে আমার পিতার খোঁজ করতে আসে সেদিন আমার পিতা গ্রামের অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছিলেন।
প্রশ্ন : আপনার বাড়ি থেকে অরনখোলা গরুর হাট কত দূরে ?
উত্তর : আমাদের বাড়ি থেকে অরনখোলা গরুর হাট ৩০০-৪০০ গজ দূরে। ইহা সত্য নয় যে, আমাদের বাড়িতে মওলানা সুবহান ও পাক সেনা আসার পর থেকে আমাদের এলাকায় বিহারীদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। অরনখোলা গরুর হাটে আমার নিয়মিত যাতায়াত ছিল।
জেরার জবাবে সাক্ষী আরো বলেন, আমার বাবাকে অরনখোলা হাটের যে চায়ের দোকান থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার কথা আমার জবানবন্দীতে বলেছি সেই চায়ের দোকানে আমার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। ঐ অরনখোলা গরুর হাটে বিহারীদের কোন যাতায়াত ছিল না। ৭১ সালে ঈশ্বরদী এলাকায় অরনখোলা ছাড়া অন্য কোন স্থানে গরুর হাট বসতো না। ইহা সত্য নয় যে, আমার পিতাকে যে চায়ের দোকান থেকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল তার মালিকের নাম আমার মনে নেই। ঐ চায়ের দোকানের মালিকের নাম ছিল মমিন জোয়ার্দ্দার। আমার পিতা ও ঝডুকে ঐ চায়ের দোকানে কোন ব্যক্তি আমার বর্ণিত মাওলানা সুবহান, খুদু খাঁ ও তাদের সঙ্গীদের দেখিয়ে দিয়েছিল তা আমার স্মরণ নেই। জবানবন্দীতে আমার বর্ণিত একদিন ছাড়া মাওলানা সুবহান আমাদের গ্রামে আর কখনও যায়নি। আমি খুদু খাঁকে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সময় থেকেই চিনি। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সময় আমাদের গ্রামে নৌকা মার্কা ও দাঁড়ি পাল্লার সমর্থনে নির্বাচনী সভা হয়েছিল। ১৯৭০ সালে আমাদের গ্রামে মুসা খাদেম নামে একজন জামায়াত কর্মী ছিলেন। ১৯৭০ সালে আমাদের এলাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী ছিলেন আমিন উদ্দিন উকিল ও দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ছিলেন খুদু খাঁ।
টু কোর্ট ঃ- ১৯৭০ সালে জাতীয় পরিষদ ও জাতীয় পরিষদ নির্বাচন হয়েছে আপনি জানেন কি?
উত্তরঃ ইহা আমার জানা নেই।
সাক্ষী বলেন, ১৯৭০ সালে আমজাদ হোসেন জায়েদী নামে মুসলিম লীগ কোন নেতা ছিলেন কিনা আমার জানা নেই। ইহা সত্য নয় যে, ১৯৭০ সালে আমাদের গ্রামে আমজাদ হোসেন ম-ল ছাড়া অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাকে চিনি না। ইহা সত্য যে নেছার আহমেদ  নামে আমাদের গ্রামে একজন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি এক সময় আমাদের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন।
প্রশ্ন : রাজাকার শব্দটি আপনি প্রথম কবে শুনেছেন ?
উত্তর : আমার পিতাকে যেদিন ধরে নিয়ে যায় তার ১৫-২০ দিন আগে আমি রাজাকার শব্দটি শুনেছি।
১৯৭১ সালের চৈত্র মাসের শেষ দিক থেকে বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত আমার ইশ্বরদীতে যাতায়াত ছিল না। আমার পিতাকে ধরে নিয়ে যাবার পূর্বে আমাদের অরনখোলা এলাকায় কোন রাজাকার ক্যাম্প ছিল না। আমি পিস কমিটির নাম শুনেছি। আমাদের ইউনিয়নের পিস কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন খোদাবক্স। আমার পিতাকে ধরে নেয়ার আনুমানিক ১৫-২০ দিন পূর্বে আমাদের ইউনিয়নে পিস কমিটি গঠিত হয়। আমাদের গ্রামে পিস কমিটির কোন সদস্য ছিল না। ঈশ্বরদী বড় মসজিদের নিকটবর্তী রাজাকার ক্যাম্পে আমি আমার বর্ণিত মতে খুদু খাঁর সাথে দেখা করেছিলাম। ঐ ক্যাম্পের কোন রাজাকারের নাম আমি বলতে পারবোনা । রাজাকার ক্যাম্পটি দোতলা ছিল কিনা তা এই মুহূর্তে আমার স্মরণ নেই। এই রাজাকার ক্যাম্পটির একাধিক রুম ছিল।
প্রশ্ন : আপনি প্রথম কবে আর্মিদের ক্যাম্প দেখেছেন ?
উত্তর : ১৯৭১ সালে আমি ডাক বাংলোতে আর্মিদের ক্যাম্প দেখেছি। কিন্তু সেখানে আমি যাইনি। আমার পিতা যে সকল স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে তাদের উপর যে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে ছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন গোলাম রেজা ও গোলাম মোস্তফা। ইহা সত্য যে, আল এন্তেজা আমাদের এলাকার জমিদার ছিলেন এবং তিনি ১৯৬৫ সালে পাবনা শহরের দিকে চলে যায়। আমি আমার বাড়িতে তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট জবানবন্দী দেই।
প্রশ্ন :  আপনার পিতা ১৯৯৬ সালে মৃত্যুবরণ করেছেন।
উত্তর : সত্য নয় ।
প্রশ্ন :  ১৯৭১ সালে আপনার বয়স ১২/১৩ বছর ছিল না।
 উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনার জন্ম সাল ১৯৬৩ খ্রি : ।
উত্তর :সত্য  নয় ।
প্রশ্ন : আপনি অন্যের শেখানো মতে ভবিষ্যৎ লাভের আশায় মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে অসত্য সাক্ষ্য দিলেন।
উত্তর : সত্য নয়।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=147911