২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে জেরার জবাবে সাক্ষী: এলাকায় নকশালদের ঘাঁটি ছিল তারা মুক্তিযোদ্ধাদের সমস্যা করতো
৩০ মে ২০১৪, শুক্রবার,
কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সপ্তম সাক্ষী জাহানারা বেগমকে আসামীপক্ষের জেরা শেষ হয়েছে। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ মাওলানা সুবহানের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম এ সাক্ষীকে জেরা করেন। আগামী রোববার রাষ্ট্রপক্ষের অষ্টম সাক্ষীকে আসামীপক্ষের জেরার দিন ধার্য করা হয়েছে।
আসামীপক্ষের জেরার জবাবে সাক্ষী জাহানারা বেগম বলেন, ‘নকশাল’ শব্দটি আমি শুনেছি। নকশালরা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কাজ করতো এটা আমি শুনেছি। নকশালদের ঘাঁটি আমাদের এলাকায় ছিল। এরা মুক্তিযোদ্ধাদের সমস্যা করতো। নকশালরা আমাদের এলাকায় নিজেরা বা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহায়তায় মানুষ খুন করতো কিনা বা লুটতরাজ করতো কি না, এটা আমি জানি না।
শাহপুরের আলাউদ্দিন নামে একজন লোক নকশাল ছিল বলে আমি শুনেছি। শাহপুর এলাকায় কোন ব্যক্তি রাজাকার, আলবদর, শান্তি কমিটির সদস্যদেরকে ঐ সময় আটক করা হয়েছিল কি না জানি না। আমাদের এলাকায় জাতীয় সংসদ সদস্যের নাম সামসুর রহমান ডিলু। তিনি ২০০১ সালের নির্বাচনেও নির্বাচিত হয়েছিলেন। এটা সত্য যে, আমার ছেলে জাহিদ স্থানীয় শ্রমিক লীগের নেতা। এটাও সত্য যে, ডিলু সাহেব আমার ছেলেকে পাবনা সুগার মিলে চাকরি দিয়েছিলেন। এর আগে গত ২২ মে সপ্তম সাক্ষী জাহানারা বেগম এবং ২৫ মে অষ্টম সাক্ষী আশরাফ ঊদ্দিন মিয়া জবানবন্দী পেশ করেন।
জেরার সময় মাওলানা সুবহানকে আসামীর কাঠগড়ায় আনা হয়। ট্রাইব্যুনালে তারপক্ষে আইনজীবী মিজানুল ইসলাম ছাড়াও এসএম শাহজাহান কবীর, আসাদুল ইসলাম ও আবদুস সাত্তার পালোয়ান উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সিমন ও রিজিয়া সুলতানা চমন।
জেরায় সাক্ষী জাহানারা বেগম আরো বলেন, ১৯৭১ সালের ২ মের পর থেকে দেশ স্বাধীন হওয়া পর্যন্ত মানিকনগরে থাকতাম মাঝেমধ্যে লুকিয়ে শাহপুরে থাকতাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় মানিকনগরে পাকিস্তান সেনাবাহিনী গিয়েছিল কিনা আমার স্মরণ নেই। তবে আমরা যেখানে থাকতাম সেখানে পাকিস্তান সেনাবাহিনী যায়নি।
এরপর আসামীপক্ষের আইনজীবীর সাজেশনের জবাবে সাক্ষী বলেন, ২ মে ১৯৭১ তারিখের পূর্বে শাহপুরে পাকিস্তান সেনাবাহিনী যায়নি, এটা সত্য নয়। আমার খেয়াল নেই যে, ২ মে ৭১ তারিখের পূর্বে মুক্তিযোদ্ধারা শাহপুরে কোন ক্যাম্প স্থাপন করেছিল কি না। আমি আমার বাড়িতে যে সকল মুক্তিযোদ্ধাদের রান্না করে খাওয়াতাম তাদের নেতা ছিলেন যথাক্রমে আমার স্বামী এবং প্রফেসর তৈয়ব আলী প্রামানিক এর ভাই জনৈক ইব্রাহিম প্রামানিক।
জেরায় সাক্ষী আরো বলেন, আমাদের গ্রাম শাহপুর ৭১ সালে কোন ইউনিয়নের অন্তর্গত ছিল তা আমার স্মরণ নেই। আমাদের ওয়ার্ডের মেম্বার ছিল রফিজ উদ্দিন। আমাদের গ্রামের উত্তর দিক থেকে পাকিস্তান আর্মিরা আমাদের গ্রামে প্রবেশ করে। আমাদের বাড়িটা শাহপুর গ্রামের মাঝামাঝি। ১৯৭১ সালে কোন মাসে নির্বাচন হয়েছিল আমার মনে নেই। ১৯৭০ সালে আমাদের গ্রামে কোন জনসভা হয়েছিল কি না তা আমার স্মরণ নেই। ১৯৭০ সালের কোন জনসভায় আমি যাইনি। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আমাদের এলাকায় কোন দলের কোন প্রার্থী ছিলেন তা আমার মনেই। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাওলানা সুবহান নিজে কোন প্রার্থী ছিলেন না তবে উনি খুদু খাঁর জন্য দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট চাইতে আসতেন। আরেকজন প্রার্থী আলাউদ্দিন যার প্রতীক ছিল কুঁড়েঘর। খুদু খাঁ একজন বিহারী ছিলেন। খুদু খাঁ আমাদের বাড়িতে ভোট চাইতে এসেছিলেন একথাটি আমার দেবর আমাকে বলেছিলেন, আমার সাথে খুদু খাঁর দেখা হয়নি।
জেরায় সাক্ষী বলেন, দেশ স্বাধীনের পর থেকে আমি মাওলানা সুবহানকে আর দেখিনি, এটা সত্য। ২ মে ১৯৭১ তারিখে আমার বর্ণিত আমার স্বামীকে হত্যার পূর্বে আমি মাওলানা সুবহান সাহেবকে আর কখনও দেখিনি, এটা সত্য নয়। তিনি যখন ১৯৭০ সালে ভোট চাইতে আসতেন তখন তাকে আমি দেখেছি। ১৯৭০ সালে কারা কারা আমাদের এলাকায় দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করতো তা আমার স্মরণ নেই।
১৯৭১ সালে ঠিক কোন তারিখে সারা বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয় তা আমার স্মরণ নেই। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাকে আমার শাহাপুরে বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আমার বর্ণিত মতে আমার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের শেখানো মতে মাওলানা সুবহান সাহেবের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলাম, এটা সত্য নয়। আমার স্বামীকে আমার সম্মুখে হত্যা করা হয়েছে আমি মিথ্যা সাক্ষ্য দেব কেন?
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=147645